শনিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২১ | ১২ অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ | ২১ রবিউস সানি, ১৪৪৩

মূলপাতা দেশজুড়ে

প্রেমের টানে জামালপুরে মেক্সিকান তরুণী, ইসলাম গ্রহণ করে বিয়ে


প্রতিনিধি, জামালপুর প্রকাশের সময় :২৩ নভেম্বর, ২০২১ ১২:০৫ : পূর্বাহ্ণ

প্রেমের টানে বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশে তরুণীদের ছুটে আসার গল্প নতুন নয়। সম্প্রতি দেশের কয়েকটি জেলায় এমন ঘটনা ঘটেছে। এবারও সেই একই ঘটনা ঘটলো জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায়।

দুই বছর আগে উত্তর আমেরিকার দেশ মেক্সিকোর গ্লাডিস নাইলি টরিবিও মরালেস (৩২) নামে এক তরুণীর সঙ্গে ফেসবুকে পরিচয় হয় বাংলাদেশের জামালপুরের যুবক রবিউল হাসান রুমানের (২৯)। সেই থেকে তাদের মধ্যে গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক।

গ্লাডিস নাইলি তার ভালোবাসার মানুষকে কাছে পেতে মেক্সিকো থেকে গতকাল রোববার জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় ছুটে এসেছেন।

রবিউল ও তার পরিবারের লোকজন ঢাকার হযরত শাহ্ জালাল (রহ.) বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান।

এরপর ঢাকা জজ কোর্টে গিয়ে এফিডেভিটের মাধ্যমে নিজের খ্রিস্টান ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে রবিউলকে বিয়ে করেন গ্লাডিস।

গ্লাডিস নাইলি টরিবিও মরালেসের বর্তমান নাম মোছা. লাইলী আক্তার।

মেয়েটি এখন জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের পোগলদিঘা গ্রামের মো. নজরুল ইসলামের বাড়িতে অবস্থান করছেন।

সোমবার দুপুরে ওই বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, মেক্সিকান তরুণীকে একনজর দেখার জন্য বাড়িটিতে উপচেপড়া ভিড়।

রবিউল হাসান রুমানকে বিয়ে করে গ্লাডিস হাসি-আনন্দে সময় কাটাচ্ছেন।

নজরুল ইসলামের ছেলে রবিউল হাসান রুমান ময়মনসিংহের রুমডো ইনস্টিটিউট অব মডার্ন টেকনোলজি থেকে মেকানিক্যালে ডিপ্লোমা শেষে ফ্রিল্যান্সিং করছেন।

রবিউল হাসান জানান, তিনি ভালোভাবে ইংরেজিতে কথোপকথনের জন্য একজন দক্ষ বন্ধু খুঁজছিলেন। ২০১৯ সালে মেক্সিকান তরুণী গ্লাডিস নাইলি টরিবিও মরালেসের সঙ্গে ফেসবুকে তার পরিচয় হয়। এরপর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে গভীর বন্ধুত্ব ও প্রেম হয়। টানা দুই বছর প্রেম করার পর রোববার সকালে বাংলাদেশে আসেন গ্লাডিস নাইলি।

ছেলের বিয়ের বিষয়ে নজরুল ইসলাম বলেন, তাদের সম্পর্কের ব্যাপারে ছেলে আমাকে আগেই জানিয়েছিল। পরিবারের সবাই বিমানবন্দরে গিয়ে গ্লাডিস নাইলিকে গ্রহণ করেছি। ইসলামি শরিয়া অনুযায়ী তাদের বিয়ে হয়েছে। পরে ছেলে এবং পুত্রবধূকে বাড়িতে নিয়ে আসি।

তরুণীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মেক্সিকোর পোএবলা শহরের ব্যবসায়ী গ্রেগ্রোরিও টরিবিওর মেয়ে তিনি। মেক্সিকোর বেনেমেরিটা অটোনোমাস ইউনিভার্সিটি অব পোএবলা থেকে ২০১৬ সালে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেন নাইলি।

রবিউলের সঙ্গে প্রেম হওয়ার পর বাংলাদেশে আসার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে বিলম্ব হয়। করোনার সংক্রমণ কমে যাওয়ায় বাংলাদেশি চলে আসেন।

তার ভাষায়, বাংলাদেশে আসতে কোনো ভয় বা সমস্যা হয়নি, শুধুমাত্র করোনার জন্য কিছুটা উৎকণ্ঠা থাকলেও ভালোবাসার মানুষের কাছে আসার আনন্দে তাও প্রভাব ফেলেনি।

বাংলাদেশটা দেখতে অনেক সুন্দর এবং এলাকার লোকজন অনেক মিশুক ও ভালো বলে তিনি মন্তব্য করেন।

গ্লাডিস নাইলি জানান, কিছুদিন শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করে মেক্সিকোতে ফিরে যাবেন এবং পরবর্তীতে দুদেশের নিয়মানুযায়ী আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে রবিউলকে মেক্সিকোতে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা আছে।

পোগলদিঘা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সামস উদ্দিন জানান, প্রেমের টানে মেক্সিকান তরুণী বাংলাদেশে এসেছেন। এতে প্রেমিক যুগলের প্রেমের সার্থকতা হয়েছে। মেক্সিকান তরুণীকে পুত্রবধূ করতে পেরে পরিবারও খুশি।

আরও পড়ুন:

সন্ত্রাসীদের গুলিতে কুমিল্লা সিটির প্যানেল মেয়রসহ নিহত ২

শেষ বলে হেরে হোয়াইটওয়াশের লজ্জা বাংলাদেশের

জেনে নিন নবজাতকের ৫ বিপদচিহ্ন


Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments

আরও খবর