বুধবার, ২৯ মে, ২০২৪ | ১৫ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ | ২০ জিলকদ, ১৪৪৫

মূলপাতা বিএনপি

‘ভূতের মুখে রাম নাম’, আওয়ামী লীগকে কটাক্ষ ফখরুলের


নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশের সময় :২৯ অক্টোবর, ২০২১ ৫:৩০ : অপরাহ্ণ
Rajnitisangbad Facebook Page

‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী চান, দেশে একটা সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন তিনি দেখতে চান। সবাই ভোট দিতে পারবেন, সেটাও তিনি (প্রধানমন্ত্রী) দেখতে চান।’-আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এই বক্তব্যকে কটাক্ষ করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এটা ‘ভূতের মুখে রাম নাম।’

আজ শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে এ মানববন্ধনের আয়োজন করে স্বেচ্ছাসেবক দল।

আওয়ামী লীগ গোটা নির্বাচনব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তিন তিনটা নির্বাচন তারা ধ্বংস করলো। গোটা নির্বাচনব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়েছে। এখন এমন একটা অবস্থা দাঁড়িয়েছে যে শরীয়তপুরের এমপি বলেছেন, ‘আমি ঠিক করবো, চেয়ারম্যান কে হবে, মেম্বার কে হবে। অন্য কেউ দাঁড়াতে পারবে না।’ আমরা চিন্তাই করতে পারি না!’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা ১৯৭১ সালে যে গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছিলাম, সেই গণতন্ত্রকে একেবারে বঙ্গোপসাগরে ফেলে দিয়েছে। তারা এখন একদলীয় বাকশাল কায়েম করেছে। তাদের নেতা-পাতিনেতাদের দৌরাত্ম্যে কেউ মাঠে থাকতে পারবেন না।’

আওয়ামী লীগ ভিন্ন মত সহ্য করতে পারে না উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তারা সমালোচনা সহ্য করতে পারে না। সহনশীলতা বলতে তাদের কিছু নেই।

বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করে বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আওয়ামী লীগ যে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করছে, সেটার প্রতিবাদে আমরা একটা একটা আলোচনা সভা করেছিলাম আমাদের অফিসের সামনে। তারপর সভার শেষে আমাদের ছেলেরা যখন ফিরে যাচ্ছিল, তখন তাদের পেছন থেকে আক্রমণ করে, টিয়ার শেল মেরে, গুলি ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করা হয়েছে। আহত করা হয়েছে প্রায় পঞ্চাশের বেশি মানুষকে। উল্টো তারা আবার মামলা দিয়েছে এক হাজার ৬০০ জনের বিরুদ্ধে। এতো ভয় পায় কেন? ভয় পায় এজন্য যে-তাদের পায়ের নিচে মাটি নেই। জনগণ যেদিন বের হবে রাজপথে, সেদিন আপনারা পালানোর পথ খুঁজে পাবেন না।’

পুলিশ ও প্রশাসনের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘চরম দুর্নীতিপরায়ণ, চরম নির্যাতনকারী, রাষ্ট্রবিরোধী একটা দলের জন্য আপনারা এভাবে জনগণের ওপর নির্যাতন করবেন না। এই সরকার রাষ্ট্র ও জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। জনগণের পকেট কেটে আওয়ামী লীগ সরকার নিজের পকেট ভরছে। হাজার হাজার মানুষ গরিব থেকে গরিব হচ্ছে।’

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি সম্পর্কে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘নিত্যপণ্যের বাজারে কোনো জিনিসের দাম সাধারণ মানুষের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে নেই। সাধারণ মানুষ এখন ভালো খেতে পারে না। খায় কারা? আওয়ামী লীগের লোকেরা। আপনারা খেয়াল করে দেখবেন, জিনিসপত্রের দাম হু হু করে বাড়ছে। এখানে সিন্ডিকেট আছে। তারা তাদের মতো করে দাম বাড়ায়। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতা, পাতিনেতা যাঁরা আছেন, তারা টোল নেন, চাঁদা নেন। পথে পথে যে সবজি ট্রাকে করে উত্তরবঙ্গ থেকে বা পূর্ববঙ্গ থেকে আসছে, তা থেকে টোল আদায় করা হচ্ছে। এখন এমন একটা অবস্থা হয়েছে, দেশের মানুষের শ্বাস আটকে গেছে।’

স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা–কর্মীদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমি আপনাদের আহ্বান জানাবো, এখন সংগঠিত হন। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এই সরকারের বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।’

স্বেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মানববন্ধন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির ভূঁইয়া। মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমান, সদস্য সচিব আমিনুল ইসলাম, নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দিন ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াসিন আলী।

মন্তব্য করুন
Rajnitisangbad Youtube


আরও খবর