বুধবার কলকাতার বুকে ফিরলো ২০১১ সালের স্মৃতি। প্রথমবার মুখ্যমন্ত্রী হয়েই রাজ্যের স্বাস্থ্যভার তুলে নিয়েছিলেন নিজের কাঁধে। বিভিন্ন হাসপাতালে সারপ্রাইজ ভিজিট করে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। হাসপাতালগুলোতে রোগীরা চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন কি না, তা সরেজমিনে খতিয়ে দেখেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। করোনাকালে আবার দেখা গেল একই দৃশ্য। মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার পরই শহরের হাসপাতালগুলো পরিদর্শন করতে ছুটে যান তিনি।
বুধবার (৫ মে) ঘড়ির কাঁটায় ১০.৪৫ মিনিটে তৃতীয়বার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথগ্রহণ করেন। আর তারপর থেকেই কোভিড মোকাবিলায় কোমর বেঁধে নেমে পড়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। করোনা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নবান্নে প্রশাসনিক বৈঠকের পরই রাজ্যবাসীর জন্য নয়া নির্দেশিকা জারি করেন তিনি।
বিকেলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নবান্ন থেকে এক ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনে করোনা নিয়ন্ত্রণে রাজ্য সরকারের গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো তুলে ধরেন। জানানো হয়, সংক্রমণ ঠেকাতে ৬ মে থেকে বন্ধ থাকবে সমস্ত লোকাল ট্রেন।
সংবাদ সম্মেলন শেষ করেই হাসপাতাল পরিদর্শনে বেরিয়ে পড়েন তিনি।
প্রথমেই যান ভবানীপুরের শম্ভুনাথ পণ্ডিত হাসপাতালে। কীভাবে করোনা পরিস্থিতির মোকাবিলা করা হচ্ছে সেখানে, তা খতিয়ে দেখেন। একইসঙ্গে শুনলেন মানুষের অভিযোগও। করোনা পরীক্ষার পর রিপোর্ট হাতে পেতে অন্তত তিনদিন সময় লাগছে। সেই রিপোর্ট আরও যাতে দ্রুত দেওয়া সম্ভব হয়, অন্তত কোনও ব্যক্তি পজিটিভ কিংবা নেগেটিভ কি না, সেটুকু তথ্য দ্রুত জানিয়ে দিতে বললেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপরই যান পুলিশ হাসপাতালে।
করোনাকালে চিকিৎসায় যাতে কোনও ত্রুটি না থাকে, তা নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপ মমতার।
শহর এবং জেলার হাসপাতালগুলোতে করোনা রোগীদের জন্য বেডের অভাবের অভিযোগ উঠেছে বারবার। পাশাপাশি অক্সিজেন সিলিন্ডারের হাহাকারের ছবিও উঠে এসেছে। চিকিৎসাসেবাকে আরও উন্নত করতে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে বেডের সংখ্যা বাড়ানো হবে নিশ্চিত করেন মমতা। শহরের স্টেডিয়ামগুলোকেও কোভিড মোকাবিলার জন্য ব্যবহার করা হবে বলেও জানিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী।
সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন
