, | |

মূলপাতা জাতীয়

হেফাজতের তাণ্ডব ও মামুনুল হককে নিয়ে সংসদে মুখ খুললেন প্রধানমন্ত্রী


প্রকাশের সময় :৪ এপ্রিল, ২০২১ ৫:৩০ : অপরাহ্ণ

হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক শনিবার (৩ এপ্রিল) নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে একটি রিসোর্টে নারীসহ অবরুদ্ধ হওয়ার ঘটনা এবং হেফাজতের সাম্প্রতিক তাণ্ডব নিয়ে সংসদে মুখ খুলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সোনারগাঁয়ে একটি রিসোর্টে হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব ধরা পড়লো। তা ঢাকার নানা রকম চেষ্টা করেছে তারা। পার্লারে কাজ করা এক নারীকে বউ হিসেবে পরিচয় দেয়। অন্যদিকে নিজের বউকে ফোন করে বলে, অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে আমি এটা বলে ফেলেছি।’

আজ (৪ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে দেয়া সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। এসময় সরকার দলীয় এমপিরা ‘লজ্জা, লজ্জা’ বলে বিরক্তি প্রকাশ করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমার মুখ থেকে বেশি কিছু বলতে চাই না। এদের চরিত্রটা কী? গতকালই আপনারা দেখেছেন ইসলামের নামে, ধর্মের নামে, পবিত্রতার নামে এতো কিছু বলে অপবিত্র কাজ করে সোনারগাঁয়ের রিসোর্টে গিয়ে ধরা পড়েছে। যারা ইসলাম ধর্মে বিশ্বাস করে, এই রকম মিথ্যা কথা তারা বলতে পারে? অসত্য কথা বলতে পারে? যারা মিথ্যা বলতে পারে, তারা কী ধর্ম পালন করবে? মানুষকে কী ধর্ম শেখাবে?’

হেফাজতের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে সরকারপ্রধান বলেন, ‘হেফাজতের যারা সদস্য তাদেরকে আমি অনুরোধ করবো, তারা কী একটুও বুঝে, কী ধরনের নেতৃত্ব তাদের। আগুন, জ্বালাও-পোড়াও করে তিনি বিনোদন করতে গেলেন একটা রিসোর্টে, একজন সুন্দরী মহিলা নিয়ে। এটাই তো বাস্তবতা। এরা ইসলাম ধর্মের নামে কলঙ্ক এবং ইসলাম ধর্মকে ছোট করে দিচ্ছে। কিছু লোকের জন্য আজকে এই ধর্মটায় জঙ্গির নাম, সন্ত্রাসের নাম। আর এখন যে চরিত্র দেখালো, সেখানে দুশ্চরিত্রের নাম। সব নাম জুড়ে দিচ্ছে এরা।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয়, আমরা যখন স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করছি তখন এসব ঘটনা ঘটানো হলো। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এত বড় একটা সম্মান, বিভিন্ন দেশের অতিথিরা আসছেন, শুভেচ্ছা বার্তা দিচ্ছেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আসা নিয়ে বিরোধিতা করে তারা। আজ হেফাজতে ইসলাম এটা করছে তারা দেওবন্দ (ভারতে) যায় না? এসব ঘটনা ঘটালো দেওবন্দ যাবে কী করে। আমরা কওমি মাদ্রাসার সনদ দিয়েছি, আমরা সম্মান দিচ্ছি তারপরও তারা এ ধরনের ঘটনা ঘটালো কী করে? এদের কোনো রাজনৈতিক কোনো আদর্শ নেই, কোনো আদর্শ নিয়ে এরা চলে না।’

হেফাজতিরা ইসলামকে কলুষিত করছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ধর্ম হচ্ছে ইসলাম। যে ইসলাম সব থেকে সহনশীলতা শিখিয়েছে। শান্তির কথা বলেছে। সাধারণ মানুষের কথা বলেছে। মানুষের উন্নয়নের কথা বলেছে। সেই পবিত্র ধর্মকে এরা কলুষিত করে দিচ্ছে। এরা ধর্মের নামে ব্যবসা শুরু করে দিয়েছে। এই বিনোদনের এত অর্থ কোত্থেকে আসে। এটার বিচার করবে দেশবাসী। আইন আইনের গতিতে চলবে।’

এসবের পেছনে বিএনপি-জামায়াত মদদ দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন সরকার প্রধান। তিনি বলেন, ‘তাদের এসব কর্মকাণ্ডের ফলে বহু মানুষের জীবন গেছে। এমনকি এই কারণে ২৬ মার্চে অনেক মানুষের জীবন গেছে। এর জন্য দায়ী হেফাজত-বিএনপি-জামায়াত।’

দেশবাসীকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। আর এইসব অপকর্মের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিচার অবশ্যই হবে।’

উল্লেখ্য, গতকাল শনিবার (৩ এপ্রিল) বিকেল ৩টায় রয়েল রিসোর্টের ৫ম তালার ৫০১ নম্বর কক্ষে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হককে ‘নারীসহ’ অবরুদ্ধ করে রাখে স্থানীয়রা। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। মামুনুল হকের দাবি, সঙ্গে থাকা নারী নাম আমিনা তৈয়ব। তিনি মামুনুল হকের দ্বিতীয় স্ত্রী। আমিনাকে সঙ্গে নিয়ে রিসোর্টে ঘুরতে গিয়েছিলেন তিনি।

মামুনুল হকের দাবি, সঙ্গে থাকা নারীর নাম আমিনা তৈয়ব। তিনি তার দ্বিতীয় স্ত্রী।

এ ঘটনার পর ‘বিডি পলিটিকো’ নামে একটি ইউটিউব চ্যানেলে একাধিক অডিও ফাঁস করা হয়েছে। ৩০ সেকেন্ডের একটি অডিও ক্লিপে মামুনুল হকের মতো একটি কণ্ঠস্বরে স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে শোনা যায়। এটি নিয়েও জনমনে তৈরি হয় নানা কৌতূহল। অডিও ক্লিপে স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলতে শোনা যায়, ‘আমার সঙ্গে শহীদ ভাইয়ের স্ত্রী। এটি নিয়ে তোমাকে কেউ জিজ্ঞেস করলে অন্য কথা বলতে হবে।’

আমার ওপর যেন আল্লাহর গজব পড়ে, যেন ধ্বংস হয়ে যাই: মামুনুল হক
সংসদে প্রধানমন্ত্রী মামুনুল হকের বিরুদ্ধে সমালোচনা করার পরপরই ফেসবুক লাইভে আসেন এই হেফাজত নেতা। সেখানে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কথার প্রতিবাদ জানান।

মামুনুল হক বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে ভুল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে যেভাবে আমার চরিত্রের ওপর কালিমা লেপনের চেষ্টা করেছেন, তাতে আমি অত্যন্ত মর্মাহত। আমি মনে করছি, তিনি আমার সম্পর্কে পুরোপুরি না জেনে, অসত্য তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এসব মন্তব্য করেছেন।’

মামুনুল হক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী কিংবা সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী এবং একাধিক ব্যক্তি আমার চরিত্র নিয়ে এসব কথা বলেছেন। আমি স্পষ্ট ভাষায় বলছি, গতকাল আমার সঙ্গে আমার স্ত্রী ছিল। শরিয়ত সম্মত উপায়ে সে আমার বৈধ স্ত্রী। তার সম্পর্কে আমি যে তথ্য দিয়েছি তা সত্য। আমার এই কথা যদি ভুল হয়ে থাকে বা আমি যদি মিথ্যা বলে থাকি তাহলে কোরআনের আয়াত অনুযায়ী আমার ওপর যেন আল্লাহর গজব পড়ে, আমি যেন ধ্বংস হয়ে যাই। আর যারা আমার ও আমার স্ত্রী সম্পর্কে গুজব ছড়াচ্ছেন, আমার চরিত্র নিয়ে মনগড়া কথা বলছেন, তারা যদি মিথ্যা বলে থাকেন তাহলে তাদের ওপর যেন আল্লাহর গজব নাজিল হয়। তারা মিথ্যাবাদী হয়ে থাকলে তাদের বংশ যেন নির্বংশ হয়ে যায়।’

মন্তব্য করুন
Rajniti Sangbad


আরও খবর