রবিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২২ | ১২ অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ | ২ জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৪

মূলপাতা ইসলামী দল

ভাস্কর্য নিয়ে নরম সুর হেফাজতের,সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে দৌড়ঝাঁপ


রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় :১০ ডিসেম্বর, ২০২০ ৫:৪৪ : অপরাহ্ণ

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপনের বিরোধিতা করে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে উত্তাপ ছড়ানো হেফাজতে ইসলাম এখন সুর নরম করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে উদ্ভূত সমস্যার সমাধান করতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন।

আজ বৃহস্পতিবার (১০ ডিসেম্বর) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে এ কথা জানানো হয়।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের আগ্রহ প্রকাশের প্রেক্ষাপটে সাংবাদিকেরা হেফাজতে ইসলামের নেতা ও বেফাকের মহাসচিব মাহফুজুল হকের কাছে জানতে চান, কবে এই বৈঠক হবে। জবাবে তিনি বলেন, সময় এখনো ঠিক হয়নি, যোগাযোগ চলছে। আমরা আশাবাদী, দ্রুত সময়ের মধ্যে বৈঠকের ব্যবস্থা হবে।

তিনি বলেন, ‘সরকারের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি এবং চেষ্টা করে যাচ্ছি। সরকারের সঙ্গে আলাপ–আলোচনার মধ্যে দিয়েই এই সমস্যার সমাধান যেন সুন্দরভাবে সমাপ্ত হয়।’

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির মাওলানা নূরুল ইসলাম। তিনি ভাস্কর্য বিষয়ে হেফাজতে ইসলামের আমির জুনায়েদ বাবুনগরী, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক এবং ইসলামী আন্দোলনের নায়েবে আমির সৈয়দ ফয়জুল করীমের নামে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে হওয়া মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।

গত ৬ ডিসেম্বর কুষ্টিয়া শহরের পাঁচ রাস্তার মোড়ে বঙ্গবন্ধুর নির্মাণাধীন ভাস্কর্য ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনার ভিডিও ফুটেজ দেখে জড়িত সন্দেহে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। যাদের মধ্যে দুজন স্থানীয় মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও দুজন ওই মাদ্রাসার শিক্ষক। পুলিশের দাবি, ভিডিও ফুটেজে যে দুজনকে দেখা গেছে, তারা মাদ্রাসার ছাত্র।

কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙার বিষয়ে আজ হেফাজতের সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ‘বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙার মাধ্যমে ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করা হয়েছে। হেফাজতে ইসলাম এভাবে নিজ হাতে আইন তুলে নেওয়া কিংবা গোপন তৎপরতার পথ অনুসরণ ও অনুমোদন করে না। এটা জানার পরও সরকার, ক্ষমতাসীন দল ও তাদের সমর্থকদের মধ্যকার ইসলাম বিদ্বেষী একটি মহল কুষ্টিয়ার ঘটনার দায় ওলামায়ে কেরাম ও হেফাজত নেতাদের ওপর চাপিয়ে দিয়ে তাদেরকে ঘায়েল করার অপচেষ্টা করছে।’

মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ ও জননেত্রী পরিষদ নামে দুটি সংগঠনের পক্ষ থেকে আদালতে রাষ্ট্রদ্রোহ ও মানহানির মিথ্যা মামলা দায়ের করার বিষয়ে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ‘এসব মামলা ভয়াবহ ও সুদূরপ্রসারী চক্রান্তের স্পষ্ট আলামত। এসব মামলার কোনো ভিত্তি নেই। মামলাটি এখন পিবিআই তদন্ত করছে। আশা করি, তাদের তদন্তের পর মামলা আর এগোবে না। সরকারও মামলা নিয়ে আর সামনের দিকে এগোবে না বলে আমরা প্রত্যাশা করি।’

গত ১৩ নভেম্বর খেলাফত মজলিসের নেতা ও হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য তৈরির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি সরকারকে হুঁশিয়ার করে বলেছিলেন, ভাস্কর্য নির্মাণের পরিকল্পনা থেকে সরে না দাঁড়ালে তিনি আরেকটি শাপলা চত্বরের ঘটনা ঘটাবেন এবং ওই ভাস্কর্য ছুড়ে ফেলবেন।

এরপর ২৭ নভেম্বর হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির জুনায়েদ বাবুনগরী চট্টগ্রামের হাটহাজারী পার্বতী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক মাহফিলে বলেন, কোনো ভাস্কর্য তৈরি হলে তা টেনে হিঁচড়ে ফেলে দেওয়া হবে।

অনেকেই মনে করছেন, হেফাজতে ইসলামের নেতারা তাদের অবস্থা বেগতিক দেখে সুর নরম করছেন এবং আপোষ রফা করে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে কিছু সুযোগ-সুবিধা নেয়ার সুযোগ খুঁজছেন ।


আরও খবর