বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২২ | ২৩ অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ | ১৩ জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৪

মূলপাতা ইসলামী দল

আমরা আল্লাহর কাছে বিচার দিয়েছি : মোহাম্মদ ইউসুফ

আহমদ শফির মৃত্যু নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত চায় না পরিবার


রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় :১৫ নভেম্বর, ২০২০ ১:৪০ : অপরাহ্ণ

হেফাজতে ইসলামের সাবেক আমির ও হাটহাজারী দারুল উলুম মাদ্রাসার সাবেক মহাপরিচালক শাহ আহমদ শফির মৃত্যুর ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত চায় না তাঁর পরিবার।

আহমদ শফির বড় ছেলে মোহাম্মদ ইউসুফ রাজনীতি সংবাদকে বলেছেন, আমরা কোনো ঝামেলায় যেতে চাই না। আমার বাবার মৃত্যুর বিচার আমরা আল্লাহর কাছে দিয়েছি।

শনিবার (১৪ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাব ও চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে হেফাজতে ইসলামের ব্যানারে আয়োজিত পৃথক দুটি সম্মেলনে আহমদ শফির মৃত্যুর বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানানো হয়।

জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন আহমদ শফির অনুসারী হেফাজতের বর্তমান কমিটির সহকারী যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ ফয়জুল্লাহ। চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন হেফাজতের অপর সহকারী যুগ্ম মহাসচিব মাঈনুদ্দিন রুহী।

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আহমদ শফির ছোট শ্যালক মো. মঈন উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, ‘সেদিন আহমদ শফিকে মাদ্রাসার মহাপরিচালকের পদ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল। এতে তিনি ভীষণভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। অসুস্থ অবস্থায় তার অক্সিজেন মাস্ক বারবার খুলে দেওয়ায় তিনি মৃত্যুর দিকে ঝুঁকে পড়েন এবং কোমায় চলে যান। অনেক কষ্ট করে চিকিৎসার জন্য বের করা হলেও রাস্তায় পরিকল্পিতভাবে অ্যাম্বুলেন্স আটকিয়ে সময়ক্ষেপণ করে নিশ্চিত মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়।’

আহমদ শফি জামায়াত-শিবিরের পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের শিকার দাবি করে মঈন উদ্দিন প্রধানমন্ত্রীর কাছে এ ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানান।

জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হেফাজতের সহকারী যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ ফয়জুল্লাহ অভিযোগ করে বলেন, আহমদ শফিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা তার মৃত্যুরহস্য উদঘাটনে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।

হেফাজতের একাংশের নেতারা আহমদ শফির মৃত্যুর বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানালেও তাঁর পরিবার সেটা চায় না।

আহমদ শফির বড় ছেলে মোহাম্মদ ইউসুফ রাজনীতি সংবাদকে বলেছেন, ‘হেফাজতের সংবাদ সম্মেলনের বিষয়ে আমরা কিছু জানি না। আমরা কাউকে বলিনি আমার বাবার বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানাতে। আমরা এ ঘটনার বিচার আল্লাহর কাছে দিয়েছি।’

আপনারা যখন আল্লাহর কাছে বিচার দিয়েছেন তার মানে আহমদ শফির মৃত্যু অস্বাভাবিকভাবে হয়েছে?- এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘সেদিন ঘটনার সময় আমি মাদ্রাসায় ছিলাম না। হাসপাতালে গিয়ে আমার বাবাকে দেখেছি। পরে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে নানা কথা শুনেছি। আমি যখন ঘটনাস্থলে ছিলাম না, তাই এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’

গত ১৮ সেপ্টেম্বর আহমদ শফি মৃত্যুবরণ করেন। আন্দোলনকারী ছাত্রদের দাবির মুখে ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে হাটহাজারী মাদ্রাসার শূরা কমিটির বৈঠকে প্রধান পরিচালক পদ থেকে পদত্যাগ করেন ১০৪ বছর বয়সী আহমদ শফি। এর পরপরই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। রাত ১ টার দিকে আহমদ শফিকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। তাঁর হৃদপিন্ড অকার্যকর হয়ে যাওয়ায় তাঁকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। শুক্রবার সকালে হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা মেডিক্যাল বোর্ডে বসেন। শারীরিক অবস্থার সংকটাপন্ন হওয়ায় দুপুরে চিকিৎসকরা আহমদ শফিকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। পরে বিকালে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে ঢাকায় নিয়ে আসগর আলী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সন্ধ্যায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।


আরও খবর