, | |

মূলপাতা চট্ট-মেট্টো

ঢাকা-চট্টগ্রামের দূরত্ব কমাতে যে প্রস্তাব দিলেন চেম্বার সভাপতি


আগ্রাবাদের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে ‘চট্টগ্রাম: ইকোনমিক গেটওয়ে অ্যান্ড লাইফলাইন অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম প্রকাশের সময় :৬ নভেম্বর, ২০২৬ ১০:২১ : পূর্বাহ্ণ

ঢাকা-চট্টগ্রাম যোগাযোগের সময় কমানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে চিটাগাং চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেছেন, দুই শহরের মধ্যে যোগাযোগের সময় দুই ঘণ্টার মধ্যে নামিয়ে আনা প্রয়োজন। ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যে দূরত্ব কমাতে ঢাকা থেকে লাকসাম হয়ে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত একটি রেল কর্ড লাইন ডাবল ট্র্যাক ও ডুয়েল গেজ নির্মাণ করতে হবে। ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যে বিদ্যমান রেল লাইনকে ডাবল ট্র্যাক ও ডুয়েল গেজে রূপান্তর করতে হবে। বিদ্যমান ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে কমপক্ষে ৮ লেনে এবং দ্বিতীয় এক্সপ্রেসওয়ে বা কমপক্ষে ৬ লেনের এলিভেটেড সড়ক নতুন করে নির্মাণ করতে হবে।

আজ শুক্রবার আগ্রাবাদের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের কনফারেন্স হলে কমনওয়েলথ জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ চ্যাপ্টার আয়োজিত ‘চট্টগ্রাম: ইকোনমিক গেটওয়ে অ্যান্ড লাইফলাইন অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে মূল প্রবন্ধে তিনি এ কথা বলেন।

চট্টগ্রাম বন্দরকে কেন্দ্র করে মাল্টিমোডাল পরিবহন ব্যবস্থা তৈরির প্রস্তাবনা তুলে ধরে আমিরুল হক বলেন, ‘বন্দর সুবিধায় সড়ক, রেল ও জলপথ জড়িত একটি মাল্টিমোডাল পরিবহন ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে। কক্সবাজার-চট্টগ্রাম-ঢাকার মধ্যে পর্যাপ্ত সংখ্যক কার্গো ট্রেন চালু করতে হবে। বুলেট ট্রেন না হলেও কক্সবাজার ও ঢাকার মধ্যে কমপক্ষে একটি উচ্চগতির বৈদ্যুতিক ট্রেন চালু করতে হবে। বন্দরকে ল্যান্ডলর্ড কনসেপ্ট হিসেবে সরাসরি কাজ করতে হবে, সব কার্গো/কন্টেইনার আইসিডি/সিএফএস-এ পাঠিয়ে অ্যাসেসমেন্ট, ডেলিভারি ও স্টাফিং সম্পন্ন করতে হবে। বন্দরকে পোর্ট কমিউনিটি সিস্টেমের অধীনে কাজ করতে হবে। কাস্টমস অ্যাসেসমেন্ট ও ক্লিয়ারিং সিস্টেম ফেসলেস ও পেপারলেস হতে হবে।’

 

চেম্বার সভাপতি বলেন, ‘মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দর থেকে কর্ণফুলী টানেল হয়ে লক্ষ্মীপুর থেকে চাঁদপুর হয়ে নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকা পর্যন্ত আরেকটি ডেডিকেটেড মেরিন ড্রাইভ সড়ক মাল্টিমোডাল সংযোগ হিসেবে নির্মাণ করতে হবে, যাতে বন্দরগুলোর পূর্ণ সুবিধা পাওয়া যায়। চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের মধ্যে বিদ্যমান সড়ক ও রেললাইন মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দর পর্যন্ত সম্প্রসারণ করতে হবে।’

আমিরুল হক বলেন, ‘চট্টগ্রাম থেকে সেবা নিলে নেপালের মতো স্থলবেষ্টিত দেশের পণ্য পরিবহনে প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করতে হবে। অন্য কোনো বন্দর ব্যবহার করলে দূরত্ব প্রায় ২ হাজার কিলোমিটার হতে পারে। ফলে চট্টগ্রামকে ব্যবহার করে এসব দেশের পরিবহন ব্যয় ও সময় কমানোর সুযোগ রয়েছে।’

‘সেভেন সিস্টার্স’ হিসেবে পরিচিত ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোসহ প্রতিবেশী দেশগুলোকে সেবা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে চিটাগাং চেম্বার সভাপতি বলেন, ‘চেম্বার রাজনৈতিক অবস্থান থেকে বিষয়টি বিবেচনা করে না। অর্থনীতি সচল রাখতে কোনো দেশের জন্য দরজা বন্ধ করে রাখা যায় না।’

মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে আমিরুল হক বলেন, ‘অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার শুরুতেই পানি সরবরাহ, গ্যাস ও বিদ্যুতের নিশ্চয়তা দেওয়া প্রয়োজন ছিল। এসব ইউটিলিটি নিশ্চিত না করায় বিনিয়োগ আকর্ষণে সমস্যা তৈরি হয়েছে।’

কমনওয়েলথ জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সভাপতি পারভিন এফ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সেমিনারে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন-চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজির উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ ওবায়দুল করিম, প্রকৌশলী সুভাষ বড়ুয়া, চট্টগ্রামের সাউদার্ন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক শরীফ আশরাফউজ্জামান, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন, দৈনিক আজাদী পত্রিকার সম্পাদক এম এ মালেকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল ওসমান গণি মনসুর।

Rajniti Sangbad


আরও খবর