রাজধানীর উত্তরখানে তুরাগ নদ থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির লাশ উদ্ধারের ঘটনায় তার বাবা কে এম এনায়েতুল করিম হেলাল হত্যা মামলা করেছেন। রাজধানীর উত্তরখান থানায় দায়ের করা এ মামলায় তাহসিফের জুনিয়র বন্ধু শাহরিয়ার রেজা দ্বীপকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠিয়েছে নৌপুলিশ।
গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাতে উত্তরখান থানায় এ মামলা করা হয়।
নৌপুলিশ ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল বলেন, তাহসিফের বাবা উত্তরখান থানায় হত্যা মামলাটি করেছেন। ওই মামলায় দ্বীপকে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের পর এ ঘটনায় আরও তথ্য জানা যাবে। মামলাটি উত্তরখান থানায় হলেও তদন্ত করবে নৌপুলিশ।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের বি ব্লকের একটি বাসার তৃতীয় তলা থেকে দ্বীপকে হেফাজতে নেয় পিবিআই। তিনি ওই এলাকার বাসিন্দা সেলিম রেজার ছেলে। নিখোঁজ হওয়ার আগে তাহসিফের সঙ্গে প্রায় ছয় ঘণ্টা সময় কাটিয়েছিলেন দ্বীপ। এ কারণে তার কাছ থেকে ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে তদন্ত শুরু করে পিবিআই।
গত শুক্রবার পিবিআইয়ের একটি তদন্ত দল দ্বীপকে নিয়ে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় যায়। তুরাগ নদসংলগ্ন ২৯ নম্বর সীমানা পিলারের আশপাশে কী ঘটেছিল, তা জানার জন্য তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকা থেকে কালো রঙের একটি সুজুকি জিক্সার ১৫০ মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। মোটরসাইকেলটির কোনো নম্বরপ্লেট ছিল না।
পিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদে দ্বীপ ঘটনার রাতের বিষয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন। সেদিন রাতে তিনি ও তাহসিফ তুরাগ নদসংলগ্ন মাজার বস্তি এলাকায় গিয়েছিলেন। সেখানে দুজনের কথা বলার সময় কয়েকজন তাদের ধাওয়া করেন। দ্বীপের ভাষ্য অনুযায়ী, ধাওয়াকারীদের মধ্যে দুজনের পরনে পুলিশের পোশাক ছিল।
দ্বীপ দাবি করেন, ওই ব্যক্তিদের দেখে তাহসিফ দৌড় দেন। একপর্যায়ে তিনি তুরাগ নদে ঝাঁপ দেন। অন্যদিকে দ্বীপ বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) ২৯ নম্বর সীমানা পিলারের আড়ালে লুকিয়ে পড়েন। পরে সেখান থেকে চলে যান তিনি।
গত ২৮ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তুরাগ নদে একটি মরদেহ ভাসতে থাকার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে টঙ্গী নদী পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করেন। হাতঘড়ি ও পকেটে থাকা আইফোনের সূত্র ধরে মরদেহটি তাহসিফ সাউরির বলে শনাক্ত করা হয়।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় বন্ধুস্থানীয় ছোট ভাই দীপের ডাকে সাড়া দিয়েই বাসা থেকে বের হয়েছিলেন তাহসিফ। এর পর থেকেই আর তার কোনো খোঁজ মিলছিল না। পরবর্তীতে দীপের দাবি ছিল-তাহসিফের মোটরসাইকেলে কারিগরি ত্রুটি থাকায় তারা দুজন একটি ওয়ার্কশপে গিয়েছিলেন। সেখানে মেরামতের কাজ শেষে তারা বাসায় ফিরে একসঙ্গে খাবার খান এবং খাওয়া শেষে দীপ নিজের গন্তব্যে ফিরে যান। তবে তাহসিফের এই আকস্মিক নিখোঁজ ও নদী থেকে লাশ উদ্ধারের ঘটনায় শেষ সময়ে থাকা দীপের কী ভূমিকা ছিল, তা নিয়ে জোরালো সন্দেহ দানা বেঁধেছে।
তাহসিফের মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় এসেছে শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ। তবে ভিডিওটি তাহসিফ ছড়িয়ে দিয়েছিলেন-এমন দাবির পক্ষে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।
আরও পড়ুন: দীপের বক্তব্যে ‘গরমিল’, তাহসিফের মৃত্যু ঘিরে রহস্য বাড়ছে







