, | |

মূলপাতা চট্ট-মেট্টো

বাধ্য হয়ে ১৭ বছর বিদেশে থাকতে হয়েছিল: তারেক রহমান


আজ সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরীর জে এম সেন হলের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের পর বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম প্রকাশের সময় :২০ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:৩৩ : অপরাহ্ণ

রাজনৈতিক কারণে বাধ্য হয়ে ১৭ বছর বিদেশে থাকতে হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, মুসলমান হিসেবে বাংলাদেশে আমি হয়ত সংখ্যাগুরু। কিন্তু এই দেশের ওপর আপনার যে অধিকার আছে, এই দেশের ওপর আমারও সেই অধিকার আছে। এই রাষ্ট্র আপনাকে যা দেবে, এই রাষ্ট্র আমাকেও তাই দেবে।

আজ মঙ্গলবার রাতে চট্টগ্রাম নগরীর আন্দরকিল্লায় জে এম সেন হলে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে জে এম সেন হলে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী।

জে এম সেন হলে গত ৪০ বছর ধরে দুর্গা পূজার আয়োজন করে আসছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, চট্টগ্রাম মহানগর শাখা।

পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা জানান, এই প্রথম একজন প্রধানমন্ত্রী জে এম সেন হলে দুর্গা পূজা দেখতে এসেছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মানুষ জীবন বাজি রেখে যুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন করেছিলেন। সেই যুদ্ধে লাখ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছিলেন, শহীদ হয়েছিলেন অনেকে। তখন কেউ দেখেননি কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ কিংবা কে খ্রিষ্টান। সবাই দেখেছিলেন, তারা মুক্তিযুদ্ধ করছেন, দেশকে স্বাধীন করতে চান। তাদের লক্ষ্য ছিল দেশকে স্বাধীন করা।

স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়েছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, গণতন্ত্র রক্ষা এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও ছাত্র-জনতাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা রাজপথে নেমে এসেছেন। জনগণের কথা বলার অধিকার ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে কেউ তার পাশের বা সামনে-পেছনের কর্মীর ধর্মীয় পরিচয় জানতে চাননি।

 

২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই বছরের জুলাইয়ে দেশের মানুষ ও ছাত্র-জনতা স্বৈরাচারকে বিদায় করেছেন। সারাদেশের লাখ লাখ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিলেন। মা-বোন, শিশু, তরুণ, যুবকসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ সেই আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন। সেদিনও কেউ কারও ধর্মীয় পরিচয় জানতে চায়নি। স্বৈরাচারের গুলি কিন্তু দেখেনি কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে খ্রিষ্টান। গুলিবিদ্ধ মানুষকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে, কেউ পথে প্রাণ হারিয়েছেন। সবার লক্ষ্য ছিল মানুষের কথা বলার অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।

তারেক রহমান বলেন, স্বৈরাচার ক্ষমতায় টিকে থাকতে গুলি চালিয়েছে। অনেকে শহীদ হয়েছেন, অনেকে আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিদের অন্যরা হাসপাতালে নিয়ে গেছেন। হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার সময়ও চিকিৎসকেরা ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে আলাদা করেননি। তার ভাষায়, কেউ জিজ্ঞেস করেনি, গুলি খাওয়া মানুষটি মুসলমান, নাকি হিন্দু, নাকি বৌদ্ধ, নাকি খ্রিষ্টান।

সরকারপ্রধান বলেন, এই দেশ আপনার, এই দেশ আমার, এই দেশ আমাদের সবার। মানুষ যে ধর্মেরই হোক না কেন, বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ ও বেড়ে ওঠার মধ্য দিয়ে সবাই এ দেশের নাগরিক। ধর্মীয় পরিচয়ের বাইরে বাংলাদেশের নাগরিক পরিচয়ই সবার অভিন্ন পরিচয়।

বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে সবাইকে মিলেমিশে থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আসুন, আমরা সবাই মিলে সেই বাংলাদেশটি, প্রত্যাশিত বাংলাদেশটি গড়ে তুলি, যেই বাংলাদেশের জন্য দল, মত, ধর্ম, বর্ণনির্বিশেষে বিভিন্ন সময়ে অকাতরে আমরা বুকের রক্ত ঢেলে দিয়েছি। সবার সহযোগিতায় সুখী-সমৃদ্ধ ও কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। এ জন্য হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকারসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: জান্নাতের টিকিট বিক্রি করি না, পথ দেখিয়ে দিই: জামায়াত আমীর

Rajniti Sangbad


আরও খবর