সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, গণভোটের রায় এই বাংলার মাটিতে বাস্তবায়ন করা হবে, এই বিএনপি সরকারই বাস্তবায়ন করতে বাধ্য হবে। বিএনপি পানি খাবে, কিন্ত ঘোলা করে খাবে।
আজ শনিবার সকাল ১০টার দিকে গাজীপুরের ভোগড়া-বাইপাসের টাঙ্গাইল রোডে ১১ দলীয় ঐক্যের লং মার্চের পথসভায় তিনি এ কথা বলেন।
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, জ্বালানি ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণসহ আট দফা দাবিতে ঢাকা টু রংপুরমুখী এই লং মার্চ কর্মসূচির আয়োজন করে ১১ দলীয় ঐক্য।
সরকারকে হুঁশিয়ার করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘১৮ কোটি মানুষের ন্যায্য দাবি নিয়ে আমরা রাস্তায় নেমেছি। আট দফা দাবি প্রয়োজনে নয় বা ১০ দফায় রূপ নিতে পারে, এমনকি এক সময় তা এক দফায়ও পরিণত হতে পারে। এক দফায় যখন পরিণত হবে, তখন কিন্তু পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ হবে।’
পথসভায় উপস্থিত জনতার উদ্দেশে জামায়াত আমীর বলেন, ‘গণভোটে হ্যাঁ বলেছিলেন ৭০ ভাগ মানুষ। সরকার আপনাদের দেওয়া গণভোটের রায় অগ্রাহ্য করে আপনাদের অপমানিত করেছে। সেই অপমানের প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য আমরা রাস্তায় মেনেছি।’
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা অনুরোধ করবো, হতাশ হয়ে মাথা গরম করবেন না। বরঞ্চ জনতার দাবি মেনে নেওয়ার চেষ্টা করুন। আমরা কোনো কিছুকে পরোয়া করবো না। কারণ আমরা কোনো দলীয় দাবি নিয়ে মাঠে নামিনি। আমরা ১৮ কোটি মানুষের দাবি নিয়ে মাঠে নেমেছি।’
এর আগে সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে লং মার্চের উদ্বোধন করেন জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমান।
লং মার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম বলেন, ‘দেশে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস বন্ধ হয়ে যাবে, সেজন্য বিএনপি কর্মীদের ঘরে ঘরে হাহাকার শুরু হয়ে গেছে। এ সরকার বিএনপির সরকার না, হাসিনার সরকার। আমরা দেশকে সঠিক পথে আনার জন্যই লংমার্চ করছি। কোনো মুনাফেকের কথায় আপনারা বিপথগামী হবেন না।’
সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক (এনসিপি) নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘তারেক রহমানকে নির্ধারণ করতে হবে তিনি কি হেলিকপ্টারে পালিয়ে দেশ ছাড়বেন, নাকি সম্মানের সাথে পদত্যাগ করবেন।’
এনসিপির এই আহ্বায়ক বলেন, ‘যারা অতীতে গণতন্ত্র ধ্বংস করেছে, তাদের স্থান হয়েছে ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে। এরশাদও অনেক সম্মানের সাথে পদত্যাগ করেছিল। ফলে তারেক রহমানকে তার যাওয়ার রাস্তা নিজেকেই বাছাই করে নিতে হবে।’
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক বলেন, ‘আমরা বর্তমান সরকারকে সতর্ক করার জন্য এই লং মার্চ কর্মসূচিতে নাম নেমেছি। ১১ দল বাংলাদেশের আন্দোলন-সংগ্রামের অতীত ইতিহাস বদলে দিয়ে এক নতুন মাইলফলক সৃষ্টি করবে। আমাদের আন্দোলন হবে শান্তিপূর্ণ এবং গণসম্পৃক্ত। গোটা দেশের কোটি কোটি জনতাকে ঐক্যবদ্ধ করে যে আন্দোলন গড়ে উঠবে, তাতে বিএনপি জনগণের দাবি আদায়ে ব্যর্থ হলে ভেসে যাবে।’
এর আগে ছয় দফা দাবিতে গত ৫ সেপ্টেম্বর ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ অনুষ্ঠিত হয়।
প্রথমে ছয় দফা দাবির মধ্যে ছিল-গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিরোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করা। পরে এতে দুর্নীতি, দখলবাজি ও চাঁদাবাজি বন্ধ করার দাবি যুক্ত হয়। সবশেষে উত্তরাঞ্চলের জন্য তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিও এতে যুক্ত করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: হাসিনার আমলের ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা করছে ঢাকা, যা বললো ভারত
