রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শিগগিরই পদত্যাগ করতে পারেন বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা চলছে। শারীরিক অসুস্থতাকে পদত্যাগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানিয়েছে। সরকার ও বিএনপির একাধিক সূত্রের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে পদত্যাগের বিষয়ে বিএনপির উচ্চপর্যায় থেকে বার্তা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তার সম্ভাব্য উত্তরসূরি নিয়েও দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা চলছে।
বঙ্গভবন সূত্রে জানা গেছে, আগামীকাল শুক্রবার মো. সাহাবুদ্দিন অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করছেন। শুক্রবার দুপুর নাগাদ পদত্যাগপত্র জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পাঠাতে পারেন।
জানা যায়, চলতি মাসের শুরুতে রাষ্ট্রপতিকে মৌখিকভাবে পদত্যাগের অনুরোধ জানায় বিএনপি সরকার। এ সময় তিনি কিছুটা সময় চান।
২০২৩ সালের এপ্রিলে দায়িত্ব নেওয়া সাহাবুদ্দিনই চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পূর্ববর্তী মেয়াদের একমাত্র শীর্ষ ব্যক্তি, যিনি এখনও নিজের পদে বহাল রয়েছেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদে থাকা-না থাকা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন রাষ্ট্রপতির অপসারণের দাবি জানালেও তাতে সমর্থন দেয়নি বিএনপি। বরং তাকে দায়িত্বে রাখার পক্ষে অবস্থান নেয় দলটি। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছেই শপথ নেয় ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। পরে ২০২৬ সালের নির্বাচনের পর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছেই শপথ নিয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি।
নির্ভরযোগ্য কয়েকটি সূত্রের দাবি অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন গত মে মাসে চিকিৎসার জন্য লন্ডন সফরকালে ভারতে অবস্থানরত সাবেক ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। লন্ডনে ৯ মে থেকে ১৮ মে অবস্থানের সময় এই ফোনালাপটি ঘটে বলে পরবর্তীতে দেশের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার নজরে আসে।
এ ঘটনার পরই মূলত তাকে পদত্যাগের একটি পরোক্ষ বার্তা দেওয়া হয় বলে জোর গুঞ্জন ওঠে।
তবে সম্ভাব্য এ পদত্যাগের নেপথ্যে কেবল ফোনালাপই একমাত্র কারণ নয় বলে মনে করছেন বিএনপির এক সিনিয়র নেতা। তিনি বিষয়টিকে আরও বিস্তৃত ও জটিল রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের অংশ হিসেবে দেখছেন।
এদিকে, রাষ্ট্রপতি পদে কে আসতে পারেন, তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণির নাম সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে নতুন করে আলোচনায় এসেছে। যদিও এর আগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খানসহ আরও কয়েকজনের নাম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচিত হয়েছিল।
সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকারই ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
আরও পড়ুন: মানবতাবিরোধী অপরাধে গ্রেপ্তার মোজাফফর, ২ দিনের জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি
