ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীর এমপি হিসেবে শপথ নিতে পারবেন বলে রায় দিয়েছে হাইকোর্ট। তার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্ট এ রায় দিয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।
এ রায়ের ফলে সংসদ সদস্য হিসেবে সারোয়ার আলমগীরের শপথ নিতে আর কোনো আইনি বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা। তবে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা জানিয়েছেন প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর আইনজীবী।
এর আগে, রিটার্নিং কর্মকর্তা সারোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করলেও তার বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ এনে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিন। ওই আপিলের শুনানি শেষে গত ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বাতিল করে। পরে কমিশনের ওই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এবং প্রার্থিতা ফিরে পেতে ১৯ জানুয়ারি হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন তিনি।
রিটের শুনানি শেষে হাইকোর্ট নির্বাচন কমিশনের মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত স্থগিত করেন। এরপর ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করেন জামায়াত প্রার্থী নুরুল আমিন।
গত ৩ ফেব্রুয়ারি শুনানি শেষে আপিল বিভাগ লিভ টু আপিল মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে আদেশে বলা হয়, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে সারোয়ার আলমগীর অংশ নিতে পারবেন। তবে আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত চট্টগ্রাম-২ আসনের ফল প্রকাশ করা যাবে না।
নির্বাচনে সারোয়ার আলমগীর ১ লাখ ৩৮ হাজার ৫৪৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী নুরুল আমিন পান ৬২ হাজার ১৬০ ভোট। কিন্তু আপিল বিভাগের নির্দেশনার কারণে নির্বাচন কমিশন ওই আসনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ স্থগিত রাখে। ফলে সংসদ সদস্য হিসেবে তার শপথ গ্রহণও আটকে যায়।
পরবর্তীতে ফলাফলের গেজেট প্রকাশ এবং শপথ গ্রহণের অনুমতি চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেন সারোয়ার আলমগীর। সর্বশেষ হাইকোর্ট তার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করায় শপথ গ্রহণের পথও উন্মুক্ত হলো।
আরও পড়ুন: সংবিধানে ফিরলো তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ও গণভোট
