দেশের আকাশে আজ মঙ্গলবার ১৪৪৮ হিজরি সনের পবিত্র মহররম মাসের চাঁদ দেখা গেছে। ফলে আগামীকাল বুধবার থেকে পবিত্র মহররম মাস গণনা করা শুরু হবে। এ হিসাবে আগামী ২৬ জুন (শুক্রবার) পবিত্র আশুরা পালিত হবে।
আজ সন্ধ্যায় রাজধানীর বায়তুল মুকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সচিবের রুটিন দায়িত্ব) মো. ফজলুর রহমান।
সভায় মহররম মাসের চাঁদ দেখা সম্পর্কে সব জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত তথ্য নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়। এতে দেখা যায় যে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দেশের আকাশে পবিত্র মহররম মাসের চাঁদ দেখা গেছে।
ফারসি আশারা শব্দের অর্থ দশ। তাই ১০ মহররম আশুরা নামে পরিচিত। ৬১ হিজরি ১০ মহররম কারবালায় ফুরাত নদীর তীরে ইয়াজিদ বাহিনী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর প্রিয় কন্যা ফাতিমা (রা.) পুত্র ইমাম হুসাইন (রা.) কে হত্যা করে। এ কারণে মুসলামনদের কাছে দিনটি শোকের। তবে আশুরার আরও গুরুত্ব রয়েছে।
হিজরি সালের প্রথম মাস হচ্ছে মহররম। আশুরার দিন দেশে নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি থাকে। বিহারী সম্প্রদায়ের লোকেরা বিশেষভাবে আশুরা পালন করে থাকেন। কারবালা প্রান্তরে হযরত ইমাম হোসাইন (রা.) এর শাহাদতবরণের শোকাবহ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মূলত পালিত হয় আশুরা।
তবে ইসলামের ইতিহাসে পবিত্র আশুরা অসংখ্য তাৎপর্যময় ঘটনায় উজ্জ্বল হয়ে আছে। এই দুনিয়া সৃষ্টি, হযরত আইয়ুব (আ.) এর কঠিন পীড়া থেকে মুক্তি, হযরত ঈসা (আ.) এর আসমানে জীবিত অবস্থায় উঠে যাওয়াসহ অসংখ্য ঐতিহাসিক ঘটনার সঙ্গে মহররমের ১০ তারিখ অবিস্মরণীয় ও মহিমান্বিত। এই পৃথিবীর মহাপ্রলয় বা কিয়ামত মহররমের ১০ তারিখে ঘটবে বলে বিভিন্ন হাদিসে উল্লেখ রয়েছে।
আরও পড়ুন: নামাজে সিজদার সময় আগে নাক না কপাল রাখতে হবে?
