, | |

মূলপাতা চট্ট-মেট্টো

চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সিডিএ’র চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় যারা


রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় :৬ মে, ২০২৬ ৪:০৭ : অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই দুই প্রতিষ্ঠানের দুই শীর্ষ পদে নিয়োগ পেতে দৌড়ঝাঁপ করছেন চট্টগ্রামের একাধিক বিএনপি নেতা। দলীয় বিভিন্ন পর্যায়ে তদবির করছেন তারা।

২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার চট্টগ্রামসহ দেশের ৬০টি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকে অপসারণ করে। এরপর জেলা পরিষদে আমলাদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। বিএনপি সরকার গঠনের পর এসব আমলাদের সরিয়ে দলীয় নেতাদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিচ্ছে। এ পর্যন্ত দেশের মোট ৫৬টি জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার।

বর্তমানে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক পদে আছেন মো: মোতাহার হোসেন। তিনি চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক)। জেলা পরিষদের প্রশাসক পদে তাকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সরকার পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তিনি এ পদে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। অর্থাৎ সরকার এ প্রতিষ্ঠানে কাউকে প্রশাসক নিয়োগ দিলে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার সেখানে আর দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।

এদিকে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) বর্তমান চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. নুরুল করিমের মেয়াদ আরও এক বছর চার মাস বাকি আছে। ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর তাকে তিন বছরের জন্য নিয়োগ দিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নুরুল করিমের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করে সিডিএ’তে শিগগিরই নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি সরকার। একই সাথে সিডিএ’র চেয়ারম্যান পদেও নতুন নিয়োগ দেবে সরকার। এই দুই প্রতিষ্ঠানের দুই শীর্ষ পদে কারা নিয়োগ পেতে পারেন তা নিয়ে চট্টগ্রামবাসীর মধ্যে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে।

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বা প্রশাসক এবং সিডিএ’র চেয়ারম্যান পদ দুটি যুগ্মসচিব পদমর্যাদার।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সিডিএ’র চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে ‘যোগ্যতাসম্পন্ন’ নেতা বেছে নেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুধু ত্যাগী নেতা হলেই হবে না, নিয়োগপ্রত্যাশী নেতাদের উচ্চশিক্ষিত, দক্ষ ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন হতে হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির একজন কেন্দ্রীয় নেতা রাজনীতি সংবাদকে বলেন, সম্প্রতি কুমিল্লা, চাঁদপুর, ফেনী ও নোয়াখালী জেলা পরিষদে সরকার যেসব বিএনপি নেতাদের প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে তারা সবাই যোগ্যতাসম্পন্ন। যেমন ফেনী জেলা পরিষদে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পাওয়া বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ খালেক একজন অধ্যাপক। চাঁদপুর জেলা পরিষদে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পাওয়া জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক একেএম সলিম উল্যা একজন আইনজীবী। চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সিডিএ’র চেয়ারম্যান পদেও যোগ্যতাসম্পন্ন নেতাদের নিয়োগ দেওয়া হবে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের ৫০ জন প্রার্থীর মধ্যে চট্টগ্রাম থেকে বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছে মাত্র একজনকে। তিনি হলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাবেক সদস্য ও জাতীয় সংসদের প্রয়াত সাবেক চিফ হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা। অথচ দ্বাদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের ৪৮ জন প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামী লীগ চট্টগ্রাম থেকে তিনজনকে মনোনয়ন দিয়েছিল।

সংরক্ষিত নারী আসনে চট্টগ্রাম থেকে মাত্র একজনকে মনোনয়ন দেওয়ার চিত্র তুলে ধরে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির শীর্ষ একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাজনীতি সংবাদকে বলেন, সরকার চাইলে চট্টগ্রাম থেকে দুই-তিনজনকে মনোনয়ন দিতে পারতো। কিন্তু ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানার মতো চট্টগ্রামে আর যোগ্যতাসম্পন্ন প্রার্থী ছিলেন না। রাজনীতিতে শুধু ত্যাগ স্বীকার করে পদ-পদবি পাওয়া যায় না। এখন পদ-পদবি পেতে হলে যোগ্যতাও লাগবে।

চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে শামীম
চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক পদে নিয়োগপ্রত্যাশী একাধিক বিএনপি নেতা। এরমধ্যে রয়েছেন-চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইদ্রিস মিয়া ও সদস্য সচিব হেলাল উদ্দিন, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শেখ মো. মহিউদ্দিন, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক অ্যাডভোকেট ইফতেখার হোসেন চৌধুরী মহসিন, উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনের বিএনপি প্রার্থী মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকারের ছেলে ব্যারিস্টার তারেক আকবর খোন্দকার।

তবে এসব বিএনপি নেতাদের ছাপিয়ে নিয়োগ দৌড়ে এগিয়ে আছেন দলটির চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম। তাকে জেলা পরিষদের প্রশাসক নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চট্টগ্রামের বিএনপি নেতাকর্মীরা নানা আলোচনা-সমালোচনা করছেন। গত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন তিনি। কিন্তু জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী আবদুল হান্নান মাসউদের কাছে তিনি হেরে যান।

দলীয় একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপি হতে না পারায় মাহবুবের রহমান শামীম চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক হতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। গত এপ্রিল মাসে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এ বিষয়ে তার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী তাকে আশ্বাস দিয়েছেন।

সূত্রটি আরও জানিয়েছে, একজন মন্ত্রী, যিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য, তিনি চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক পদে শামীমের নাম প্রধানমন্ত্রীর কাছে সুপারিশ করেছেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী আমিনুল হক হেরে যাওয়ার পর তাকে টেকনোক্র্যাট কোটায় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এই সমীকরণ সামনে এনে বিএনপির একজন কেন্দ্রীয় নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাজনীতি সংবাদকে বলেন, মাহবুবের রহমান শামীম তৃণমূল থেকে উঠে আসা একজন দক্ষ, অভিজ্ঞ ও ত্যাগী নেতা। তার পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি রয়েছে। তিনি দীর্ঘ ১০ বছর ধরে বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) সাবেক সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এজিএস)। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স পাসও করেছেন। আওয়ামী লীগের ১৬ বছরের শাসনামলে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে। জেলও কেটেছেন। এসব ত্যাগ ও যোগ্যতা বিবেচনায় শামীমকে জেলা পরিষদের প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে মূল্যায়ন করা হতে পারে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাহবুবের রহমান শামীম রাজনীতি সংবাদকে বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমাকে নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হতেই পারে। সরকার যাকে উপযুক্ত মনে করবে তাকে দায়িত্ব দেবে। এর বাইরে আমি আর কিছু বলতে চাই না।’

মাহবুবের রহমান শামীমের গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর হাতিয়ায়। কিন্তু তিনি রাজনীতি করছেন চট্টগ্রামে। নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসন থেকে নির্বাচন করলেও তিনি চট্টগ্রাম নগরীর ২৯ নম্বর পশ্চিম মাদারবাড়ি ওয়ার্ডের মাঝির ঘাট এলাকার ভোটার। চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

আইনগতভাবে সরকার চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক পদে দেশের যেকোনো জেলার যেকোনো ব্যক্তিকে নিয়োগ দিতে পারে। তবে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হতে হলে প্রার্থীকে সংশ্লিষ্ট জেলার ভোটার হতে হবে। সেক্ষেত্রেও আইনগত কোনো বাধা নেই মাহবুবের রহমান শামীমের।

সিডিএ’র চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় ৩ নাম
সিডিএ’র চেয়ারম্যান পদেও একাধিক বিএনপি নেতা নিয়োগপ্রত্যাশী। এরমধ্যে রয়েছেন-চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির দুই যুগ্ম আহ্বায়ক নিয়াজ মোহাম্মদ খান ও আহমেদ উল আলম চৌধুরী রাসেল, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন এবং ফটিকছড়ি উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কর্নেল (অব.) আজিম উল্লাহ বাহার।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমানের নাম আলোচনায় থাকলেও নিয়োগের প্রস্তাব পেলে তিনি সরকারকে একটা শর্ত দেবেন বলে রাজনীতি সংবাদকে জানিয়েছেন। সেই শর্ত হলো, সিডিএ’র চেয়ারম্যানের পদ সচিব পদমর্যাদায় উন্নীত করা। প্রসঙ্গত, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান পদ সচিব পদমর্যাদার।

নাজিমুর রহমান রাজনীতি সংবাদকে বলেন, ‘আমি মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব। আমার দলীয় স্ট্যাটাসের সাথে যুগ্মসচিব পদমর্যাদা সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই সরকার যদি আমাকে প্রস্তাব দেয় তাহলে আমি সিডিএ’র চেয়ারম্যানের পদ সচিব পদমর্যাদায় উন্নীত করার জন্য শর্ত দেবো। এ শর্ত পূরণ না হলে আমি প্রস্তাব গ্রহণ করবো না। আর রাজউকের চেয়ারম্যান পদ সচিব পদমর্যাদার হলে সিডিএরটা কেন হবে না?

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রে জানা গেছে, আইনি জটিলতার কারণে সরকার এই মুহূর্তে সিডিএ’র চেয়ারম্যানের পদ সচিব পদমর্যাদায় উন্নীত করতে পারবে না।

নাজিমুর রহমান ছাড়া নিয়োগপ্রত্যাশী বিএনপি নেতাদের মধ্যে সিডিএ’র চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় আছে তিনজনের নাম। এরা হলেন-ফটিকছড়ি উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কর্নেল (অব.) আজিম উল্লাহ বাহার, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নিয়াজ মোহাম্মদ খান এবং উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন। এদের মধ্যে দৌড়ে এগিয়ে আছেন আজিম উল্লাহ বাহার।

গত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসন থেকে মনোনয়ন চেয়ে বঞ্চিত হন আজিম উল্লাহ বাহার। তিনি ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফটিকছড়ি আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। কিন্তু তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারীর কাছে তিনি হেরে যান।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, কর্নেল (অব.) আজিম উল্লাহ বাহারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা আজিম উল্লাহ বাহারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে সুপারিশ করেছেন।

১৯৮২ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত সিডিএ’তে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের প্রেষণে নিয়োগ দেওয়া হতো। এরপর সেনা কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া বন্ধ হয়ে যায়। ২০০৯ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়ার রীতি চালু করে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। মহানগর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ আবদুচ ছালাম টানা ১০ বছর সিডিএ’র চেয়ারম্যান ছিলেন। এরপর নিয়োগ দেওয়া হয় মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি জহিরুল আলম দোভাষকে। তিনি দুই মেয়াদে পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করেন। এরপর আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ ইউনুছকে চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর অন্তর্বর্তী সরকার তার নিয়োগ বাতিল করে প্রকৌশলী মো. নুরুল করিমকে সিডিএ চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেয়।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, চট্টগ্রাম নগরীতে জলাবদ্ধতা নিরসনে সিডিএ’র বর্তমান চেয়ারম্যান নুরুল করিম কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারছেন না। এ অবস্থায় সরকার জলাবদ্ধতা নিরসনের বিষয়টি মাথায় রেখে সিডিএ কে কার্যকর করতে এই প্রতিষ্ঠানে দক্ষ ও অভিজ্ঞ সাবেক সেনা কর্মকর্তা আজিম উল্লাহ বাহারকে নিয়োগ দিতে পারেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কর্নেল (অব.) আজিম উল্লাহ বাহার রাজনীতি সংবাদকে বলেন, ‘সিডিএ’র যেসব উন্নয়নমূলক কাজ হয় সে বিষয়ে আমার যথেষ্ট অভিজ্ঞতা আছে। ২০০৭-২০০৮ সালে রংপুর ডিভিশনে আমি কর্নেল অ্যাডমিন পদে কর্মরত ছিলাম। ওই সময় আমি রংপুর বিভাগে বিভিন্ন প্রকল্পের উন্নয়ন ও নির্মাণ কাজ তদারকি করেছি। সরকার যদি আমাকে উপযুক্ত মনে করে সিডিএ’র চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব দেয় তাহলে আমি সরকার ও চট্টগ্রামবাসীর প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করবো। চট্টগ্রামের উন্নয়নের জন্য যা কিছু করার তা আমি করবো।’

সিডিএ’র চেয়ারম্যান হতে আগ্রহী চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নিয়াজ মোহাম্মদ খান। তিনি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ২৩ নম্বর উত্তর পাঠানটুলী ওয়ার্ড থেকে তিনবার কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। একজন অভিজ্ঞ, দক্ষ ও পরিচ্ছন্ন জনপ্রতিনিধি হিসেবে পরিচিত এ বিএনপি নেতা। তিনি বি.কম পাশ করেছেন। পাশাপাশি তিনি একজন চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট (সিএ)। ১৯৯৬ সালে এবং ২০০৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে এ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে। তিনবার জেলও কেটেছেন তিনি।

জানতে চাইলে নিয়াজ মোহাম্মদ খান রাজনীতি সংবাদকে বলেন, ‘আমি তিনবার কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছি। এলাকার অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করেছি। তাই আমার উন্নয়নমূলক কাজের অভিজ্ঞতা আছে। বিগত সময়ে বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামে অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছি। সরকার যদি আমাকে যোগ্য বিবেচনা করে সিডিএ’র চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেয় তাহলে আমি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবো।’

সিডিএ’র চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় আছেন উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেনও। জেলা পরিষদে মাহবুবের রহমান শামীম দৌড়ে এগিয়ে থাকায় পিছিয়ে পড়েছেন ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত। তাই তিনি এখন সিডিএ’র দিকে তাকিয়ে আছেন। তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনের সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ।

দলীয় একটি সূত্রে জানা গেছে, ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েতকে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক কিংবা সিডিএ’র চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলামের কাছে জোরালো সুপারিশ করেছেন গিয়াস কাদের।

ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেনের গ্রামের বাড়ি সন্দ্বীপে। তবে তিনি বসবাস করেন নগরীর গনি বেকারি এলাকায়। তিনি গত সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু তাকে বঞ্চিত করে মোস্তফা কামাল পাশাকে প্রার্থী করা হয়। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন না পাওয়ায় চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক কিংবা সিডিএ’র চেয়ারম্যান হতে আগ্রহী এই বিএনপি নেতা।

জানা গেছে, ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন ছাত্রজীবনে চট্টগ্রাম মহানগরীতে রাজনীতি করেছেন। তিনি ১৯৮৪ সালে চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ছাত্রদলের সভাপতি এবং পলিটেকনিকের নির্বাচিত জিএস ছিলেন। ১৯৮৫ সালে তিনি চট্টগ্রাম পলিটেকনিক থেকে ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করেন। এরপর ১৯৮৬ সালে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হন। পরে উত্তর জেলা বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৬ বছরের শাসনামলে বিএনপির রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে সবসময় সক্রিয় ছিলেন তিনি। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়। জেলও কেটেছেন তিনি।

জানতে চাইলে ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন রাজনীতি সংবাদকে বলেন, ‘আমি চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের পাশাপাশি সিডিএ’র চেয়ারম্যান পদেও নিয়োগপ্রত্যাশী। আশা করছি, দল আমাকে এবার মূল্যায়ন করবে। সরকার আমাকে উপযুক্ত মনে করে নিয়োগ দিলে চট্টগ্রামের উন্নয়নে আমি শতভাগ সততার সাথে দায়িত্ব পালন করবো।’

আরও পড়ুন: চট্টগ্রাম সিটির মেয়র পদে বিএনপিতে আলোচনায় দুই নাম

মন্তব্য করুন
Rajniti Sangbad


আরও খবর