, | |

মূলপাতা আইন-আদালত

শেখ হাসিনাকে রাতের ভোটের পরামর্শ দেন জাবেদ পাটোয়ারী


ছবিতে ডানে সাবেক আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারী। নিচে ইনসেটে আরেক সাবেক আইজিপি আবদুল্লাহ আল-মামুন।
প্রকাশের সময় :৩১ জুলাই, ২০২৫ ১:০৩ : পূর্বাহ্ণ

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাতে ভোট দিয়ে ব্যালট বাক্স ভরে রাখার পরামর্শ দিয়েছিলেন পুলিশের তৎকালীন মহাপরিদর্শক (আইজিপি) জাবেদ পাটোয়ারী। ব্যালট বাক্সের ৫০ শতাংশ ভরে রাখতে বলেছিলেন তিনি।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এক মামলায় আরেক সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনের পাঁচ পৃষ্ঠার জবানবন্দিতে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর এ তথ্য।

গত ২৪ মার্চ ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে জবানবন্দি দেন তিনি। চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইনের খাস কামরায় বিশ্রাম ও চিন্তা করতে আড়াই ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়। এরপর জবানবন্দি রেকর্ড শুরু হয়।

আব্দুল্লাহ আল-মামুন জবানবন্দিতে জানান, সে সময় আমি ডিআইজি (ঢাকা রেঞ্জ) হিসেবে কর্মরত ছিলাম। আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারী রাতের বেলায় ব্যালট বাক্সে প্রায় ৫০ শতাংশের মতো ব্যালট রাখার পরামর্শ দেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে।

সাবেক এই আইজিপি বলেন, সাবেক আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারীর পরামর্শ মতোই শেখ হাসিনা সরকারের পক্ষ থেকে মাঠ পর্যায়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল, যেন ভোটের আগের দিন রাতেই ব্যালট বাক্সের ৫০ শতাংশ নৌকায় সিল মেরে ভর্তি করা হয়। রাজনৈতিক নেতাদের সহযোগিতায় ও উদ্যোগে জেলা প্রশাসন, ডিসি, ইউএনও, এসি ল্যান্ড, এসপি ও থানার ওসিরা মুখ্য ভূমিকা পালন করেন।

 

আব্দুল্লাহ আল-মামুন জবানবন্দিতে বলেন, পরবর্তীতে পুলিশের বিপিএম ও পিপিএম পদক নির্বাচনের ক্ষেত্রে নির্বাচন ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সক্রিয় পুলিশ কর্মকর্তাদেরকে বিবেচনা করা হতো। এ ক্ষেত্রে সঠিকভাবে পেশাদারিত্ব দেখানো হয়নি।

সাবেক এই আইজিপি বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর থেকে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে ব্যাপকভাবে রাজনৈতিক মেরুকরণ ও গোপালগঞ্জ কেন্দ্রিকক বিভিন্ন বলয় তৈরি হয়। রাজনৈতিক বিষয় এবং বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা জড়িয়ে পড়েন। জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে আমার মতো পুলিশ কর্মকর্তাদের বাহিনীকে নিয়ন্ত্রণ করার সুযোগ সীমিত ছিল। রাজনৈতিক যোগাযোগ থাকায় বিতর্কিত পুলিশ কর্মকর্তারা স্বাভাবিক আইন-কানুনের তোয়াক্কা না করে সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়নে ব্যাপক তৎপর ছিল।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থাকাকালে ছাত্রলীগের রাজনীতি করেননি উল্লেখ করে আব্দুল্লাহ আল-মামুন বলেন, পুলিশ বাহিনীতে গোপালগঞ্জ কেন্দ্রিক কর্মকর্তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব ও বিরোধ দেখা দেওয়ায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল আমার সততা, দক্ষতা ও জ্যেষ্ঠতার বিবেচনায় আইজিপি হিসেবে আমাকে নিয়োগ দেন। পুলিশ বাহিনীর সুনাম ও কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রকাশ্যে দ্বন্দ্ব যাতে দেখা না দেয়, তার স্বার্থে আমাকে পরবর্তীতে দুইবার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ হিসেবে আইজিপি করা হয়।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ২৩ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার হন তৎকালীন পুলিশ মহাপরিদর্শক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন।

আরও পড়ুন: আ.লীগ সরকারের গোমর ফাঁস করে দিলেন সাবেক আইজিপি মামুন

মন্তব্য করুন
Rajniti Sangbad


আরও খবর