প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘কিছুটা কষ্ট হলেও করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে দেশে এক সপ্তাহের লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। মানুষের জীবন সবার আগে। তাই জীবন বাঁচাতে সবাইকে লকডাউন মেনে চলতে হবে।’
আজ রোববার (৪ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের দ্বাদশ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা বলেন।
সংসদ অধিবেশনে দেয়া ভাষণে শেখ হাসিনা বলেন, ‘করোনার দ্বিতীয় ঢেউ চলছে। এটি সামলাতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। আগে বয়স্করা সংক্রমিত হতো কিন্তু এখন তরুণ ও শিশুরা সবাই আক্রান্ত হচ্ছে। দ্বিতীয় ঢেউ সামলাতে মানুষের কিছুটা সমস্যা হবে। কিন্তু তারপরও জীবনটা অনেক বড়। মানুষের জীবন বাঁচাতে হবে।’
এ সময় সরকার প্রধান কিছু নির্দেশনা দিয়ে বলেন, ‘স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে, মাস্ক পড়তে হবে, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। বিয়ে-শাদি, অনুষ্ঠান সবই বন্ধ রাখতে হবে। যেখানে ভিড় হয় সে জায়গা এড়িয়ে চলতে হবে। বাজারে বা বাইরে গেলে ঘরে ফিরে গরম পানির ভাপ নিতে হবে। পর্যটন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ। বিমানে করে বিদেশ থেকে কেউ এলে তাকে কোয়ারেন্টিন করতে হবে। অবাধে চলাফেরা শুরু করেছে। এগুলো বন্ধ করতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘করোনা ভাইরাস এখন বিশ্বব্যাপী মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। বাংলাদেশে ২৯, ৩০ ও ৩১ মার্চ করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ খুব বেশি বেড়ে গিয়েছিল। এখনো বাড়ছে। সে কারণে নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি সবাইকে মানতে হবে। বিয়েশাদিসহ সব অনুষ্ঠান বন্ধ রাখতে হবে।’
বাইরে থেকে ঘরে ফিরে সবাইকে গরম পানির ভাপ নিতে পরামর্শ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এবারের ভাইরাসটি কতটুকু খারাপ করল, চট করে তা বোঝা যায় না। পরে দেখা যায়, পরিস্থিতি হঠাৎ খারাপ হয়েছে। তাই সবাইকে সাবধানে থাকতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। এখন দেখা যাচ্ছে, তরুণ ও শিশুরাও সংক্রমিত হচ্ছে। তাদের সুরক্ষিত রাখতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি। আমরা টিকার দ্বিতীয় ডোজ শুরু করবো। আরও টিকা আনা হবে। টিকা আনার ব্যবস্থা করবো।’
উল্লেখ্য, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে আগামীকাল সোমবার থেকে সাত দিন লকডাউন ঘোষণা করে গণপরিবহন চলাচল বন্ধের পাশাপাশি বাজার-মার্কেট, হোটেল-রোস্তোরাঁসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার।
