, | |

মূলপাতা আন্তর্জাতিক

‘আমেরিকা পার্টি’ নামে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করছেন ইলন মাস্ক


ইলন মাস্ক
প্রকাশের সময় :৮ জুন, ২০২৫ ৭:০৩ : অপরাহ্ণ

টেসলা ও স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে বড় ধরনের চমক সৃষ্টি করেছেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রকাশ্য বিরোধের মধ্যেই তিনি ‘আমেরিকা পার্টি’ নামে একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন।

আজ রোববার ভারতীয় সংবাদপত্র ইন্ডিয়া টুডেসহ একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এই সংবাদ প্রকাশিত হয়।

গত বছর ট্রাম্পকে জোরালোভাবে সমর্থন করলেও এবার নিজের অবস্থান থেকে সরে এসেছেন মাস্ক। গত মার্কিন নির্বাচনে তিনি ট্রাম্পপন্থী একটি রাজনৈতিক জোট গঠন করে তাতে ২৬০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি অনুদান দিয়েছিলেন। এমনকি চলতি বছরের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের প্রশাসন তাঁকে “ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট ইফিসিয়েন্সি” (DoGE)-এর সহ-প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেয়, যার মূল কাজ ছিল সরকারি ব্যয় কমানো ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করা।

 

কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্পের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ে মাস্কের। দ্বন্দ্ব চরমে পৌঁছায় যখন মাস্ক এক্স (সাবেক টুইটার)–এ তার ২২ কোটির বেশি অনুসারীর মধ্যে একটি জরিপ চালিয়ে প্রশ্ন করেন, “আমেরিকায় কি এমন একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের সময় এসে গেছে, যা আসলে মাঝারি অবস্থানে থাকা ৮০ শতাংশ মানুষের প্রতিনিধিত্ব করবে?”

এই জরিপে ৫৬ লাখের বেশি মানুষ অংশ নেন এবং তাঁদের প্রায় ৮০ শতাংশই মাস্কের প্রস্তাবে সম্মতি জানান।

এরপর মাস্ক আরও এক পোস্টে বলেন, “মানুষ মতামত দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে একটি নতুন রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন।” তিনি এই দলের নাম প্রস্তাব করেন ‘আমেরিকা পার্টি’।

এর পেছনে মাস্কের ক্ষোভের একটি বড় কারণ ট্রাম্পের ২.৪ ট্রিলিয়ন ডলারের কর ও ব্যয় বিল, যেটিকে তিনি ‘জঘন্য ও বেহায়াপনা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

এর জেরে ট্রাম্প পাল্টা হুমকি দেন, টেসলা ও স্পেসএক্সসহ মাস্কের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত সব ফেডারেল চুক্তি বাতিল করে দেবেন।

এ বিরোধ ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমেও। মাস্ক প্রকাশ্যে ট্রাম্পকে জেফরি অ্যাপস্টেইনের কেলেঙ্কারির সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করেন এবং তার অভিশংসনের আহ্বান জানান। অ্যাপস্টেইন ছিলেন শিশু পাচার ও যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত ও কারাবন্দি অবস্থায় ২০১৯ সালে রহস্যজনকভাবে মৃত্যুবরণ করেন।

মাস্ক-ট্রাম্প বিরোধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্তেজ মন্তব্য করেন, “এই দুটি বিশাল ইগো একসঙ্গে থাকার জন্য জন্মায়নি। এই বিচ্ছেদ বহু আগেই হওয়া উচিত ছিল।”

বিরোধের প্রভাব পড়ে শেয়ারবাজারেও। টেসলার শেয়ার ১৪ শতাংশ ও ট্রাম্প মিডিয়ার শেয়ার ৮ শতাংশ পড়ে যায় বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো। তবে পরদিন কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায় উভয় কোম্পানির শেয়ার।

এই সবকিছু নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেন রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ। তিনি এক্সে পোস্ট দিয়ে বলেন, “ডি এবং ই–এর মধ্যে শান্তিচুক্তির জন্য আমরা সহায়তা করতে প্রস্তুত। পারিশ্রমিক হিসেবে স্টারলিঙ্কের শেয়ার নিলেই চলবে। মারামারি কোরো না বন্ধুরা!”

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ইলন মাস্কের এই নতুন পদক্ষেপ যে নানামাত্রিক প্রতিক্রিয়া তৈরি করবে, তা বলাই বাহুল্য।

আরও পড়ুন: লন্ডনে ড. ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ চান টিউলিপ

মন্তব্য করুন
Rajniti Sangbad


আরও খবর