ছাত্র-জনতার দুদিনের টানা আন্দোলনের পর অবশেষে নিষিদ্ধ করা হলো বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে। আর আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের ঘোষণায় রাজধানীর শাহবাগে আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠেন ছাত্র-জনতা।
আজ শনিবার রাতে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের খবরে স্লোগানে স্লোগানে উত্তাল হয়ে উঠে পুরো শাহবাগ মোড়। সেখান থেকে ইন্টারকন্টিনেন্টাল হয়ে বাংলামোটর পর্যন্ত ছাত্র-জনতা উচ্ছাসে মেতে উঠেন। তারা আনন্দ মিছিল বের করেন।
শাহবাগ মোড় থেকে আনন্দ মিছিলে ব্যাপক শোডাউনসহ অংশ নিতে দেখা যায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী ছাত্রশিবির, ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন, ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশ (আপ বাংলাদেশ), ইনকিলাব মঞ্চসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ ছাত্র-জনতাকে।
শনিবার রাত সাড়ে ৮টায় যমুনায় উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। পরে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলও সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের জন্য এক ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছিল ইনকিলাব মঞ্চ। এ সময়ের মধ্যে আওয়ামী লীগসহ এর অঙ্গসংগঠনগুলোকে নিষিদ্ধ করা না হলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও জানান মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি।
গত ৮ মে রাত ১০টা থেকে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবি জানিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ অবস্থান কর্মসূচির ডাক দেয়। তার আহ্বানে সাড়া দেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
রাত ১টার দিকে মিছিল নিয়ে রাজধানীর মিন্টো রোডে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে যান এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেন। তাদের সঙ্গে দলের কেন্দ্রীয় নেতারাও ছিলেন।
পরদিন শুক্রবার (৯ মে) প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে বাদ জুমা বড় জমায়েতের ডাক দেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। সেখানে মঞ্চ বানিয়ে বিভিন্ন দাবি ও স্লোগান দিয়ে সরকারকে আলটিমেটাম দেন আন্দোলনকারীরা। পরে বিকেল ৫টার দিকে শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন তারা।
আরও পড়ুন: ‘ফ্যাসিবাদী দল’ আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা
