, | |

মূলপাতা আইন-আদালত

আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো চিন্ময়কে


বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস
প্রকাশের সময় :৫ মে, ২০২৫ ১:৪৪ : অপরাহ্ণ

রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় কারাবন্দি বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

আজ সোমবার চট্টগ্রামের ৬ষ্ঠ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস এম আলাউদ্দিন মাহমুদের আদালতে শুনানি শেষে এ আদেশ দেয়া হয়। এ সময় চিন্ময় দাসকে জেলখানা থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত করা হয়।

এর আগে গতকাল রোববার এ হত্যা মামলায় চিন্ময়কে গ্রেপ্তারের আবেদন করে পুলিশ।

এ বিষয়ে সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী জানান, আলিফ হত্যা মামলায় পুলিশের আবেদন অনুযায়ী চিন্ময়কে গ্রেপ্তার দেখানোর অনুমতি দিয়েছে আদালত। নিরাপত্তাজনিত কারণে তাকে সরাসরি আদালতে হাজির না করে ভার্চুয়ালি হাজির করা হয়।

চিন্ময় দাসের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম কোতোয়ালি থানায় দায়ের হওয়া চারটি মামলার মধ্যে এটি একটি। অন্য তিনটি মামলা পুলিশ ও আইনজীবীদের ওপর হামলা, বিচারকাজে বাধা এবং আদালত এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে দায়ের করা হয়েছে। আগামীকাল মঙ্গলবার এই তিন মামলার শুনানি হবে।

 

প্রসঙ্গত, গত ২৫ অক্টোবর চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের নেতৃত্বে চট্টগ্রামের লালদীঘি মাঠে সনাতনী সম্প্রদায়ের একটি বড় সমাবেশ হয়। সেদিন নিউমার্কেট মোড়ে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার ওপরে ইসকনের গেরুয়া রঙের ধর্মীয় পতাকা স্থাপন করা হয়। এ ঘটনায় গত ৩০ অক্টোবর চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে জাতীয় পতাকার অবমাননার অভিযোগে রাষ্ট্রদ্রোহ আইনে একটি মামলা দায়ের হয়।

নগরীর চান্দগাঁও মোহরা ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ খান বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাস কোতোয়ালী থানায় এই মামলা করেন।

মামলায় অভিযোগে বলা হয়েছে, ৫ অগাস্ট গণঅভুত্থানের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা নিউমার্কেট মোড়ে একটি জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে। গত ২৫ অক্টোবর লালদীঘি ময়দানে সনাতনীদের সমাবেশের দিন ওই পতাকার ওপর ইসকনের গেরুয়া রঙের ধর্মীয় পতাকা স্থাপন করে দেওয়া হয়, যা রাষ্ট্রের অখণ্ডতাকে অস্বীকার করার শামিল।

রাষ্ট্রদ্রোহের সেই মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গত ২৫ নভেম্বর ঢাকা শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ২৬ নভেম্বর তাকে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে চট্টগ্রাম আদালতে নেওয়া হয়। আদালত জামিন না মঞ্জুর করে তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন। জামিন না দেওয়ার জের ধরে সেখানে বিক্ষোভ করেন ইসকনের সমর্থকরা। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় তারা। সংঘর্ষ চলাকালে আদালত এলাকায় মসজিদসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায় তারা।

একপর্যায়ে বিকেলে আদালতের প্রধান ফটকের বিপরীতে রঙ্গম কনভেনশন হলের গলিতে একদল ইসকন অনুসারীর হাতে খুন হন অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম আলিফ।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, বিকেল পৌনে ৪টার দিকে ইসকনের অনুসারীরা আদালত এলাকায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে হামলা শুরু করলে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ তাদের বাধা দেন। এরপর তাকে তুলে নিয়ে আদালতের প্রধান ফটকের বিপরীতে রঙ্গম টাওয়ারের সামনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সাইফুলকে কুপিয়ে আহত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় সাইফুলকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেলে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আরও পড়ুন: কলকাতায় বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কিনেছেন বাহাউদ্দিন নাছিম

মন্তব্য করুন
Rajniti Sangbad


আরও খবর