, | |

মূলপাতা চট্ট-মেট্টো

চিটাগাং চেম্বারে মেম্বারশিপ নিয়ে ভয়াবহ জালিয়াতি


প্রকাশের সময় :২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ৯:২০ : অপরাহ্ণ

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দেশের শতবর্ষী বাণিজ্য সংগঠন চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিতে মেম্বারশিপ (সদস্যপদ) নিয়ে ভয়াবহ জালিয়াতি হয়েছে। চট্টগ্রাম-১১ আসনের (বন্দর-পতেঙ্গা) আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ও চিটাগাং চেম্বারের সাবেক সভাপতি এম এ লতিফ নানা ছলছাতুরির মাধ্যমে অভিনব কায়দায় এই জালিয়াতি করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, চিটাগাং চেম্বারে চারটি ক্যাটাগরিতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে সদস্যপদ দেওয়া হয়। এগুলো হলো-অর্ডিনারি, অ্যাসোসিয়েট, টাউন অ্যাসোসিয়েশন এবং ট্রেড গ্রুপ। একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান একটি ক্যাটাগরি থেকে সদস্যপদ নিতে পারে। একজন ব্যক্তির চারটি প্রতিষ্ঠান থাকলে চারটি ক্যাটাগরি থেকে সদস্যপদ নিতে পারে।

চিটাগাং চেম্বারের নির্বাচনে এই চারটি ক্যাটাগরির মধ্যে অর্ডিনারি থেকে ১২ জন, অ্যাসোসিয়েট থেকে ৬ জন, টাউন অ্যাসোসিয়েশন থেকে ৩ জন এবং ট্রেড গ্রুপ থেকে ৩ জন পরিচালক নির্বাচিত হয়। ২৪ জন পরিচালক থেকে ভোটাভুটি কিংবা সমঝোতার ভিত্তিতে সভাপতি, সিনিয়র সহসভাপতি ও সহসভাপতি নির্বাচিত হয়।

তবে নির্বাচনে টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী থাকে না। এই দুটি ক্যাটাগরিতে ডেলিগেট মেম্বাররা সমঝোতার ভিত্তিতে যে ৬ জনকে প্রার্থী করেন তারা বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়। এই দুটি ক্যাটাগরি লতিফের কোটা নামে পরিচিত। তিনি যাদের প্রার্থী সিলেকশন করেন তারাই পরিচালক নির্বাচিত হয়।

চারটি ক্যাটাগরির মধ্যে অর্ডিনারি ও অ্যাসোসিয়েট থেকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকার যে কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সদস্যপদ নিতে পারে। তবে টাউন অ্যাসোসিয়েশনে উপজেলার ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানকে সদস্যপদ দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে চেম্বারে তিন উপজেলার ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানকে এই ক্যাটাগরির সদস্যপদ দেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো-পটিয়া অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, বোয়ালখালী অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি এবং হাটহাজারী অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি।

অপরদিকে ট্রেড গ্রুপে চারটি ব্যবসায়ী গ্রুপকে সদস্যপদ দেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো-চিটাগাং ডাইস অ্যান্ড কেমিক্যালস ইমপোটার্স অ্যান্ড ডিলার্স গ্রুপ, চিটাগাং মিল্ক ফুড ইমপোটার্স অ্যান্ড ডিলার্স গ্রুপ, চিটাগাং টায়ার টিউব ইমপোটার্স অ্যান্ড ডিলার্স গ্রুপ এবং চট্টগ্রাম ক্ষুদ্র পাদুকা শিল্প মালিক গ্রুপ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের কোনো চেম্বারে টাউন অ্যাসোসিয়েশন এবং ট্রেড গ্রুপ ক্যাটাগরি নেই। ঢাকা চেম্বার অব কমার্সে একসময় এ দুটি ক্যাটাগরি থাকলেও ১৫ বছর আগে তা বিলুপ্ত করা হয়েছে। শুধু চিটাগাং চেম্বারে এ দুটি ক্যাটাগরি এখনো বিদ্যমান আছে।

বিস্ময়কর বিষয় হলো, চিটাগাং চেম্বারে টাউন অ্যাসোসিয়েশন ক্যাটাগরির সদস্যভুক্ত তিনটি প্রতিষ্ঠান এবং ট্রেড গ্রুপের দুটি প্রতিষ্ঠান হলো ভুয়া।

অভিযোগ পাওয়া গেছে, চিটাগাং চেম্বারের সাবেক সভাপতি এম এ লতিফ অভিনব জালিয়াতির মাধ্যমে নামসর্বস্ব এসব কাগুজে প্রতিষ্ঠানগুলোকে মেম্বারশিপ দিয়েছেন। চেম্বারের নির্বাচনকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে এসব ভুয়া প্রতিষ্ঠান বানিয়ে ভোটব্যাংক তৈরি করেছেন তিনি। কথিত এসব প্রতিষ্ঠানে তিনি তার পরিবার ও পছন্দের লোকদের সদস্য করেছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, নিজের ছেলেদের নিয়ে লতিফ চিটাগাং ডাইস অ্যান্ড কেমিক্যালস ইমপোটার্স অ্যান্ড ডিলার্স গ্রুপ নামের ভুঁইফোড় প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছেন। অভিনব জালিয়াতির মাধ্যমে নামসর্বস্ব এই প্রতিষ্ঠানকে চেম্বারের সদস্যপদ দিয়েছেন তিনি। চেম্বারে সদস্যপদের জন্য আবেদনের সময় এই প্রতিষ্ঠানের প্যাডে অফিসের ঠিকানা উল্লেখ করা হয়েছিল, ‘ও আর দত্ত লেইন, পাথরঘাটা, চট্টগ্রাম।’

চিটাগাং চেম্বারে মেম্বারশিপ নিয়ে ভয়াবহ জালিয়াতি

রাজনীতি সংবাদের এই প্রতিবেদক গত ২৪ ফেব্রুয়ারি দুপুরে ওই ঠিকানায় সরেজমিনে গিয়ে প্রতিষ্ঠানের সন্ধান পাওয়া তো দূরের কথা, পাথরঘাটায় ‘ও আর দত্ত লেইন’ নামের কোনো এলাকার নামই নেই! ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে কথিত এই প্রতিষ্ঠানটি চেম্বারের ট্রেড গ্রুপের সদস্যপদ নিয়েছে।

বিস্ময়কর বিষয় হলো, চেম্বারের ২০২৩ সালের নির্বাচনে নামসর্বস্ব চিটাগাং ডাইস অ্যান্ড কেমিক্যালস ইমপোটার্স অ্যান্ড ডিলার্স গ্রুপ থেকে ডেলিগেট মেম্বার হয়ে পরিচালক নির্বাচিত হয়েছিলেন এম এ লতিফের তৃতীয় ছেলে ওমর হাজ্জাজ। বিনাভোটে পরিচালক হওয়ার পর সভাপতির চেয়ারে বসেন তিনি। এম এ লফিতের বড় ছেলে ওমর ফারুকও ২০১৯ সালে ভুয়া এই প্রতিষ্ঠান থেকে ডেলিগেট মেম্বার হয়ে পরিচালক নির্বাচিত হয়েছিলেন।

এ বিষয়ে জানতে চিটাগাং চেম্বারের সাবেক সভাপতি ওমর হাজ্জাজের ফোনে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

এরপর এম এ লফিতের বড় ছেলে ওমর ফারুকের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হয়। তার কাছে এই জালিয়াতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। তিনি এ বিষয়ে তার বাবা কারাবন্দি এম এ লতিফের কাছে জিজ্ঞাসা করতে বলেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, চিটাগাং ডাইস অ্যান্ড কেমিক্যালস গ্রুপ নামের অস্তিত্বহীন এই প্রতিষ্ঠানের সেক্রেটারি হলেন এম এ লতিফের দ্বিতীয় ছেলে ওমর খৈয়াম।

মিল্ক ফুড ইমপোটার্স অ্যান্ড ডিলার্স গ্রুপ নামের প্রতিষ্ঠানটিও নামসর্বস্ব। চেম্বারে সদস্যপদের জন্য আবেদনের সময় এই প্রতিষ্ঠানের প্যাডে অফিসের ঠিকানা উল্লেখ করা হয়েছিল, ‘৯ বান্ডেল রোড, পাথরঘাটা, চট্টগ্রাম।’

চিটাগাং চেম্বারে মেম্বারশিপ নিয়ে ভয়াবহ জালিয়াতি

রাজনীতি সংবাদের এই প্রতিবেদক গত ২৪ ফেব্রুয়ারি দুপুরে ওই ঠিকানায় সরেজমিনে গিয়ে দেখতে পান, সেখানে একটি মুদির দোকান ও তবলা মেরামতের দোকান।

চিটাগাং চেম্বারে মেম্বারশিপ নিয়ে ভয়াবহ জালিয়াতি

ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে মিল্ক ফুড ইমপোটার্স নামের কথিত এই প্রতিষ্ঠানটিও চেম্বারের ট্রেড গ্রুপের সদস্যপদ বাগিয়ে নিয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মিল্ক ফুড ইমপোটার্স নামের ভুঁইফোড় এই প্রতিষ্ঠানটির সেক্রেটারি হলেন বেনজির চৌধুরী নিশান। তিনি তিনবার ট্রেড গ্রুপ থেকে পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি চিটাগাং চেম্বারের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি নুরুন নেওয়াজ সেলিমের মেয়ের জামাতা।

চেম্বারের ২০২৩ সালের নির্বাচনের আগে মিল্ক ফুড ইমপোটার্স গ্রুপ থেকে বেনজির চৌধুরী নিশানের স্বাক্ষরিত চারজন ডেলিগেট মেম্বারের তালিকা রাজনীতি সংবাদের হাতে এসেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বেনজির চৌধুরী নিশান রাজনীতি সংবাদকে বলেন, ‘মিল্ক ফুড ইমপোটার্স অ্যান্ড ডিলার্স গ্রুপ সম্পর্কে আমি কিছু জানি না। এই গ্রুপ থেকে ডেলিগেট কীভাবে নির্বাচিত হয়েছিল তাও আমি জানি না। আসলে তখন তো কেউ ভোটে পরিচালক নির্বাচিত হয়নি। লতিফ সাহেব চেম্বারের পরিচালক সিলেকশন করতেন। তিনি কাকে কীভাবে সিলেকশন করতেন সেটা আমাদের জানার সুযোগ ছিল না। তিনি যে জালিয়াতি করেছেন সেটা তখন জানতাম না।’

টাউন অ্যাসোসিয়েশনের তিন প্রতিষ্ঠানও নামসর্বস্ব। চেম্বারে সদস্যপদের জন্য আবেদনকৃত এই প্রতিষ্ঠানের প্যাডে অফিসের কোনো ঠিকানা উল্লেখ নেই। পটিয়া, বোয়ালখালী ও হাটহাজারীতে অনুসন্ধান করেও এই তিন প্রতিষ্ঠানের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

পটিয়া ও বোয়ালখালী অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যপদ নিয়েও জালিয়াতি হয়েছে। চেম্বারের ২০২৩ সালের নির্বাচনে টাউন অ্যাসোসিয়েশন ক্যাটাগরিতে পটিয়া অ্যাসোসিয়েশন থেকে ডেলিগেট মেম্বার করা হয় আদনানুল ইসলামকে। তিনি এম এ লতিফের আপন ভাগিনা। তার বাড়ি হলো চট্টগ্রাম নগরীর মাদারবাড়িতে। কিন্তু তিনি পটিয়া অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যপদ নিয়ে চেম্বারের পরিচালক হয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আদনানুল ইসলাম রাজনীতি সংবাদকে বলেন, ‘পটিয়ায় আমার কাপড়ের ব্যবসা আছে। তাই পটিয়া অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যপদ নিয়েছি। আর পটিয়া অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য হতে হলে সেখানকার স্থানীয় বাসিন্দা হতে হবে এরকম কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।’

চেম্বারের ২০২৩ সালের নির্বাচনে টাউন অ্যাসোসিয়েশন ক্যাটাগরিতে বোয়ালখালী অ্যাসোসিয়েশন থেকে ডেলিগেট করা হয় সাজ্জাদ উন নেওয়াজকে। তিনি চিটাগাং চেম্বারের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি নুরুন নেওয়াজ সেলিমের ছেলে। তার গ্রামের বাড়ি হলো ফেনীতে। কিন্তু তিনি বোয়ালখালী অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যপদ নিয়ে চেম্বারের পরিচালক হয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে সাজ্জাদ উন নেওয়াজের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হয়। ‘আপনার গ্রামের বাড়ি ফেনীতে, কিন্তু বোয়ালখালী অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যপদ নিয়ে কীভাবে চিটাগাং চেম্বারের টাউন অ্যাসোসিয়েশন থেকে পরিচালক হলেন?’ এ প্রতিবেদকের এই প্রশ্ন শুনে তিনি ফোনের সংযোগ কেটে দেন। এরপর তাকে কয়েকবার কল করা হলেও রিসিভ করেননি।

অনুসন্ধানে জানা যায়, চেম্বারের ২০২৩ সালের নির্বাচনে নামসর্বস্ব কথিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভোটার তালিকাভুক্ত করেন চেম্বার সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ ফারুক। তিনি এম এ লতিফের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত।

২০০৮ সালে এম এ লতিফ আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর শতবর্ষী প্রতিষ্ঠান চিটাগাং চেম্বারকে কব্জায় নেয়। গত ১৬ বছরে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে চেম্বারকে পারিবারিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেন তিনি।

২০১৯ সাল থেকে চেম্বারের তিনটি পরিচালনা পর্ষদে সাতজন নিকটাত্মীয়কে বিনাভোটে পরিচালক পদে বসিয়েছেন প্রতাপশালী আওয়ামী লীগ নেতা এম এ লতিফ। এরা হলেন তার তিন ছেলে-ওমর ফারুক, ওমর হাজ্জাজ ও ওমর মুক্তাদির, লতিফের ভাগিনা আদনানুল ইসলাম, লতিফের মেঝো সম্বন্ধীর (স্ত্রীর বড় ভাই) মেয়ের জামাই মনির উদ্দিন, লতিফের ভাগ্নি জামাই আবু সুফিয়ান চৌধুরী এবং লতিফের বড় সম্বন্ধীর (স্ত্রীর বড় ভাই) মেয়ের জামাই সৈয়দ নজরুল ইসলাম।

গত বছরের ৫ আগস্ট দেশে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর চিটাগাং চেম্বার ঘিরে ব্যবসায়ীদের ক্ষোভ প্রকাশ্যে আসে। চেম্বারে ‘স্বেচ্ছাচারিতা ও পরিবারতন্ত্র’ প্রতিষ্ঠা করার অভিযোগে নগরীর আগ্রাবাদের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের সামনে বিক্ষোভ করেন ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীদের আন্দোলনের মুখে চিটাগাং চেম্বারের পরিচালকরা পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

উল্লেখ্য, গত ৯ বছর ধরে চিটাগাং চেম্বারে ভোট হয়নি। সর্বশেষ ভোটাভুটি হয়েছিল ২০১৩ সালের ৩০ মার্চ। ওই নির্বাচনে এম এ লতিফ সমর্থিত মাহবুবুল আলম-নুরুন নেওয়াজ সেলিম পরিষদ জয়লাভ করে। তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলো মোরশেদ-সালাম ঐক্য পরিষদ। এর পরের পাঁচ মেয়াদের নির্বাচনে কোনো ভোটাভুটি হয়নি।

চেম্বারের ব্যবসায়ীরা বলছেন, এম এ লতিফের ম্যাকানিজমের কারণে গত ৯ বছর ধরে চেম্বারের ভোট হয়নি। ওই সময় চেম্বারের ৬ হাজার ৬২৩ জন ভোটারের মধ্যে প্রায় দেড় হাজার ভুয়া ভোটার ছিল। এসব ভুয়া ভোটারকে লতিফ অবৈধভাবে চেম্বারের সদস্যপদ দিয়েছেন। লতিফের এসব পকেট ভোটের কারণে গত পাঁচটি নির্বাচনে তিনি ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়ান। যে কারণে তার প্যানেলের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেনি।

জানা গেছে, লতিফ আওয়ামী লীগের এমপি হিসেবে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে চেম্বারের গত পাঁচ মেয়াদের নির্বাচনে পর্দার আড়ালে থেকে নেতৃত্ব নির্ধারণ করে দিতেন। তিনি যাদের প্রার্থী সিলেকশন করেছেন তারাই বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন।

আরও পড়ুন:

চিটাগাং চেম্বারের সেক্রেটারি উধাও!

চিটাগাং চেম্বারের সাবেক সভাপতি হাজ্জাজের কর ফাঁকির তদন্ত শুরু

মন্তব্য করুন
Rajniti Sangbad


আরও খবর