সচিবালয়ের সামনে আনসারদের সঙ্গে সংঘর্ষের পর অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে ৩ দফা দাবি রেখেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।
গতকাল রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যােয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ সমাবেশে এই তিন দফা ঘোষণা করেন সংগঠনটির সমন্বয়করা।
দাবি উল্লেখ করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক আবু বাকের মজুমদার বলেন, আন্দোলনকারী আনসারদের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার খরচ সরকারকে বহন করতে হবে। শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারীদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করতে হবে। এবং সরকারের সব পর্যায়ে ক্লিন অভিযান পরিচালনা করে ফ্যাসিবাদের দোসরদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।
এরপর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক মুখ সারজিস আলম বলেন, শকুনদের বলে দিতে চাই, আজকের পর থেকে সচিবালয়ের আশপাশে অবস্থান করলে ছাত্র-জনতা দেখে নেবে।
এ সমন্বয়ক আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থানের কয়েকদিন যেতে না যেতে অধিকার আদায়ের নামে যারা ভণ্ডামি করে সচিবালয় ব্লকেড করে, তারা স্বৈরাচারের দালাল। আমাদের ভাইদের ওপর হামলাকারীদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়ছি না। শকুনদের সাবধান করে দিতে চাই। আমার ভাইয়ের দিকে হাত বাড়ালে আর অস্তিত্ব থাকবে না।
উল্লেখ্য, গতকাল রোববার রাতে সচিবালয় এলাকায় আনসার সদস্যদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহসহ ৩৫ জন শিক্ষার্থী আহত হন। পরে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের ধাওয়ায় পালিয়ে যান আনসার সদস্যরা।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ও অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম, সমন্বয়ক সারজিস আলম ও হাসনাত আবদুল্লাহসহ অনেককে আটক রাখার খবরে সচিবালয়ের উদ্দেশে রওনা হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এসময় আনসার সদস্যরা শিক্ষার্থীদের ধাওয়া করে। এ সময় কয়েকজনকে লাঠিপেটা করে আনসার সদস্যরা। পরে শিক্ষার্থীরা ধাওয়া দিয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে আনসার সদস্যরা সেখান থেকে পালিয়ে যান।
এর আগে আনসার সদস্যরা গতকাল সকাল থেকে সচিবালয়ের সামনে চাকরি জাতীয়করণের এক দফা দাবিতে অবস্থান নেন। আনসার সদস্যদের আন্দোলনের কারণে টানা সাড়ে ৮ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ হয়ে ছিলেন সচিবালয়ে কর্মরত বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
আরও পড়ুন: শিক্ষার্থীদের ধাওয়ায় সচিবালয় থেকে পালালেন আনসার সদস্যরা
