, | |

মূলপাতা জাতীয়

গাজীপুর, মিরপুর, সাভার ও আশুলিয়ায় শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ


গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। ছবি: সংগৃহীত
রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদক, ঢাকা প্রকাশের সময় :২ নভেম্বর, ২০২৬ ১২:২৮ : অপরাহ্ণ

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিতে গাজীপুর, মিরপুর, সাভার ও আশুলিয়ায় পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আজ সোমবার সকাল থেকে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে। এ সময় বিক্ষোভের মধ্যে একটি কাভার্ডভ্যানে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। সংঘর্ষ ও উত্তেজনার জেরে শিল্পাঞ্চলের একাধিক পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।

গাজীপুরে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কাজে যোগ না দিয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মৌচাক, সফিপুর ও পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করেন শ্রমিকেরা। দুপুর ১২টার দিকে গাজীপুরের কালিয়াকৈরের পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় বিভিন্ন অলিগলি থেকে শ্রমিকরা পুলিশকে টার্গেট করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এসময় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকেরা কাজে যোগ না দিয়ে কারখানার সামনে জড়ো হন। পরে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে মহাসড়কে নেমে আগুন জ্বালিয়ে ও ব্যারিকেড দিয়ে বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ করেন তারা। এতে মহাসড়কের দুই পাশে দূরপাল্লার বাস, যাত্রীবাহী যানবাহন ও পণ্যবাহী ট্রাক আটকা পড়ে। ভোগান্তিতে পড়েন হাজারো যাত্রী ও চালক।

মিরপুর-১৪ নম্বর এলাকায় সকাল সোয়া ৯টার দিকে পোশাকশ্রমিকরা রাস্তায় অবস্থান নেয়। তারা মিছিল নিয়ে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরের দিকে অগ্রসর হতে চাইলে আগে থেকেই অবস্থান নেওয়া পুলিশ সদস্যরা তাদের বাধা দেন। একপর্যায়ে শ্রমিকরা পুলিশের বাধা অতিক্রমের চেষ্টা করলে পুলিশ ধাওয়া দেয়। একই সময়ে মিরপুর-১০ নম্বর এলাকা থেকেও শ্রমিকদের আরেকটি দল জড়ো হওয়ার চেষ্টা করে। পুলিশের তৎপরতায় তাদের সেই প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হয়। পরে শ্রমিকরা ছত্রভঙ্গ হয়ে কারখানার ভেতরে ফিরে যান।

 

সাভারে সকাল ১০টার পর আবদুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কের নরসিংহপুর ও নিশ্চিন্তপুর এলাকায় শ্রমিকদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা কাজে যোগ না দিয়ে কারখানা থেকে বেরিয়ে সড়কে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে তাদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশকে টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করতে দেখা যায়।

বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের একাংশ বিভিন্ন সড়কে অবস্থান নিয়ে যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি করেন। এতে আবদুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কে যান চলাচল কিছুটা ব্যাহত হয়। এছাড়া সংঘর্ষের মধ্যে একটি কাভার্ড ভ্যানে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।

অন্যদিকে আশুলিয়ার আর্টিস্টিক ডিজাইন লিমিটেড নামের একটি কারখানায় হামলা ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে শিল্প পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আশুলিয়ার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

শিল্প পুলিশ সূত্র জানায়, শ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মুখোমুখি অবস্থানের কারণে শিল্পাঞ্চলে উত্তেজনা বিরাজ করছে। নিরাপত্তার স্বার্থে আশপাশের বেশ কয়েকটি কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে শারমিন গ্রুপের কারখানাও বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, শিল্পাঞ্চলের কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে পুলিশ কাজ করছে। এছাড়া আশুলিয়ার আর্টিস্টিক ডিজাইন লিমিটেডের শ্রমিকেরা হামলা চালিয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করছেন বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন: তাহসিফের সঙ্গে উত্তরার বারে যাওয়া সেই তরুণী গ্রেপ্তার

Rajniti Sangbad


আরও খবর