, | |

মূলপাতা আন্তর্জাতিক

জেন-জিদের বিক্ষোভে উত্তাল দিল্লি, আটক দেড় হাজারের বেশি


দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আটক করেছে পুলিশ।
রাজনীতি সংবাদ ডেস্ক প্রকাশের সময় :১০ অক্টোবর, ২০২৬ ৫:১২ : অপরাহ্ণ

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবিতে জেন-জিদের বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানী নয়াদিল্লি। বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানীজুড়ে ব্যাপক ধরপাকড় চালিয়েছে দিল্লি পুলিশ। এ পর্যন্ত দেড় হাজারের বেশি মানুষকে আটক করেছে পুলিশ। এরমধ্যে সাবেক চার মুখ্যমন্ত্রীকে আটক করা হয়েছে। এরা হলেন-তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় প্রধান ও পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, আম আদমি পার্টির (আপ) নেতা ও দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, ত্রিপুরা রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার এবং কেরালা রাজ্য সরকারের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও বর্তমান বিরোধী নেতা পিনারাই বিজয়ন।

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী দিল্লির যন্তর মন্তরে পৌঁছাতে পারেননি দেশটির তরুণদের আন্দোলন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতারা। বিক্ষোভস্থলে পৌঁছানোর আগেই সিজেপিসহ দেশটির বিভিন্ন বিরোধীদলের শীর্ষ নেতাদের আটক করায় তাদের ‌‘যন্তর মন্তর ২.০’ কর্মসূচি ঘিরে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

মুম্বাই থেকে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করেছে পুলিশ।

দিল্লিতে বাসভবনের বাইরে থেকে মমতাকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ ও দেশটির আধা-সামরিক বাহিনী সিআরপিএফ। এরপর একটি প্রিজন ভ্যানে করে তাকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর দিল্লির লোধি এস্টেটে নিজ বাড়ির সামনে থেকে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়ালকে আটক করা হয়।

দিল্লিতে নির্ধারিত কর্মসূচিতে যোগ দেয়ার আগে শীর্ষ নেতাদের আটক করা হলেও আন্দোলন থামবে না বলে জানিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি।

দিল্লি পুলিশ বিক্ষোভের অনুমতি না দেওয়া সত্ত্বেও শনিবার কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছিল সিজেপি। এতে প্রায় ২০ হাজার মানুষের সমাগম হবে বলে প্রত্যাশা করা হয়েছিল। তবে মূল আয়োজকদের আটক এবং ব্যাপক পুলিশ মোতায়েনের কারণে বিক্ষোভের প্রস্তুতি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। দিল্লিজুড়ে পুলিশের পাশাপাশি দেশটির আধা-সামরিক বাহিনী সিআরপিএফের ৩৫ হাজারের বেশি সদস্যকে মোতায়েন করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে বলতে শোনা যায়, বিমান অবতরণের ঠিক পরপরই দিল্লি পুলিশের নারী কর্মীরা তাকে এবং তার সহকর্মীদের আটক করতে বিমানের ভেতরে প্রবেশ করেন।

এ সময় ইনস্টাগ্রাম লাইভে দীপকে বলেন, ‘আপনারা দেখতে পাচ্ছেন, আমাদের আটক করতে দিল্লি পুলিশ বিমানের ভেতর প্রবেশ করছে। তারা সবাই বিমানের ভেতরে ঢুকছে। আমরা মাত্রই অবতরণ করেছি। দিল্লি পুলিশের সব কর্মকর্তা করিডোরে দাঁড়িয়ে আছেন। তারা বিমানের ভেতর থেকে আমাদের আটক করার চেষ্টা করছেন। পুরো দিল্লি পুলিশ বিমানে উঠছে। এটাই নরেন্দ্র মোদির ভয়।’

দিল্লি বিমানবন্দরে সিজেপির শীর্ষ নেতারা পৌঁছানোর প্রায় এক ঘণ্টা আগে সংগঠনটির সমর্থক ও ইউটিউবার ধ্রুব রাঠীকে দিল্লির সেক্টর ৫৬-এর বাসা থেকে গুরুগ্রাম পুলিশ আটক করেছে।

বিদেশে বসবাসকারী রাঠী এই বিক্ষোভে অংশ নিতে ভারতে এসেছিলেন। তার আটকের খবরটি এই আন্দোলনকে ঘিরে চলা অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সিজেপি আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়ায় দিল্লি ও এর আশপাশের এলাকায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে পুলিশ।

সিজেপির এই জমায়েত ঘিরে দিল্লিকে কঠোর নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে রেখেছে স্থানীয় প্রশাসন। দেশটির এই রাজধানীতে নিয়মিত পুলিশের পাশাপাশি প্রায় ৩৫ হাজার অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি যন্তর মন্তরসহ দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন এলাকায় সিআরপিএফ ও কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্যও মোতায়েন রয়েছে।

যন্তর মন্তরের ৪ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে মোবাইল ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করেছে প্রশাসন। এছাড়া উত্তর প্রদেশ ও হরিয়ানার সঙ্গে দিল্লির সীমান্তবর্তী বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়ক এবং নয়াদিল্লির দিকে যাওয়া বিভিন্ন রুটে ট্রাফিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে কর্তৃপক্ষ।

যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশ ক্যাব সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় ও শত শত ট্রেনের যাত্রা বাতিল করেছে। রাজধানীতে সম্ভাব্য জনস্রোত নিয়ন্ত্রণ এবং বিশৃঙ্খলা এড়াতে বৃহত্তর নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মেট্রোসেবাও বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

এদিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের দাবি জানিয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি বলেছেন, ‘জ্ঞানেশ কুমার চলে যাবেন। এই সরকার চলে যাবে। তারপর গণতন্ত্রের মেরামত শুরু হবে।’

তবে ককরোচ জনতা পার্টির পরিকল্পিত এই বিক্ষোভ থেকে দূরে রয়েছে কংগ্রেস। রাহুল গান্ধী তার রাজনৈতিক মিত্র ও তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের এক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে চেন্নাইয়ে গেছেন।

কেন সিইসির পদত্যাগ চাইছেন আন্দোলনকারীরা?
ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটি নাম বাদ দেওয়ায় বিরোধী দলগুলো নির্বাচন কমিশনের প্রধান জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এই বিক্ষোভ করছে।

বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার ঘটনা বিজেপির জেতা সাম্প্রতিক কয়েকটি রাজ্য নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করেছে এবং বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের নির্বাচনি প্রক্রিয়ার ওপর একটি কালো ছায়া ফেলেছে।

Rajniti Sangbad


আরও খবর