রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদক
প্রকাশের সময় : ২৪ জুলাই ২০২৬, ২:১৭ অপরাহ্ণ
সফরসূচি অনুযায়ী, চিকিৎসা শেষে ২৬ জুলাই ব্যাংকক থেকে দেশে ফেরার কথা জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের। কিন্তু রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের গুঞ্জনের মধ্যে সফর সংক্ষিপ্ত করে আজ শুক্রবার দেশে ফিরেছেন স্পিকার। তবে বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছুই বলেননি তিনি।
স্পিকারের ভাষ্য-রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে কিছু জানা নেই তার। স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষ হওয়ায় দেশে ফিরেছেন তিনি।
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, গত এক সপ্তাহ বিদেশে থাকায় তিনি কিছুই জানেন না। পদত্যাগের বিষয়ে সাংবাদিকরা যেমন শুনেছেন, তিনিও তেমনই শুনেছেন। শুক্রবার দুপুর সোয়া ১২টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেন তিনি। বিমানবন্দরে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম তাঁকে স্বাগত জানান।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে হাফিজ উদ্দিন বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি কী করবেন, না করবেন সেটি আমি জানি না। তিনি রাষ্ট্রপতি দেশের প্রথম ব্যক্তি।’
স্পিকার বলেন, ‘আমি দেশের বাইরে ছিলাম। সুতরাং এখানে কে পদত্যাগ করবে, না করবে তা আমার জানা নেই। এখন হয়তো জানতে পারব। যদি তিনি পদত্যাগ করেন, তবে স্পিকারের কাছে করবেন। আগামী ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদ নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবেন। এটাই সংসদীয় রীতি।’
সফর সংক্ষিপ্ত করে কেন দেশে ফিরলেন এমন প্রশ্নের উত্তরে হাফিজ উদ্দিন বলেন, ‘আমার ঢাকায় কিছু ব্যক্তিগত কাজ আছে। গতকাল আমার মেডিকেল চেকআপ যেহেতু শেষ হয়েছে, তাই আমি দেশে ফিরে এসেছি।’
রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে পরবর্তী দায়িত্ব স্পিকারের- এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এটি ট্রাডিশনালি বাংলাদেশের সংবিধানে লেখা আছে। যখন রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করে, তখন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে স্পিকার দায়িত্বপালন করেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করে জাতীয় সংসদ, সেটি তিন মাসের মধ্যে করতে হয়। এটাই সংসদের পজিশন।’
সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। গত বছরের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে শেখ হাসিনাকে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেন। শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতের নির্বাসনে রয়েছেন। তিনি তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।
৭৬ বছর বয়সী মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পাঁচ বছরের জন্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। যদিও রাষ্ট্রপতির পদটি সাংবিধানিকভাবে মূলত আনুষ্ঠানিক, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তার ভূমিকা বিশেষ গুরুত্ব পায়।
এদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে তার পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন: পদত্যাগের বিষয়ে মুখ খুললেন রাষ্ট্রপতি
