, | |

মূলপাতা জাতীয়

আজ পরীক্ষা হলে সচিবালয় অভিমুখে লংমার্চের ঘোষণা পরীক্ষার্থীদের


সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন আন্দোলনরত পরীক্ষার্থীরা। ‎
রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় :১৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০৫ : পূর্বাহ্ণ

আজ ‎বুধবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা স্থগিত করা না হলে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় অভিমুখে লংমার্চ করার ঘোষণা দিয়ে সড়ক ছেড়েছে আন্দোলনরত পরীক্ষার্থীরা।

আজ ‎মঙ্গলবার রাত সোয়া ১০টার দিকে তারা সংসদ ভবনের সামনে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ত্যাগ করে। এরপর সড়কটিতে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নেওয়া এবং পরীক্ষার্থীদের ‘ফার্মের মুরগি’ বলে সম্বোধন করা হয়েছে-এমন অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার রাত সোয়া ৮টার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে জড়ো হয়ে মানিক মিয়া এভিনিউ অবরোধ করেন।

পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে এক তাৎক্ষণিক ব্রিফিংয়ে ঢাকা সিটি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী মিরাজ হোসেন দিনের কর্মসূচি শেষ করার ঘোষণা দেন।

বুধবারের পরীক্ষা মঙ্গলবার রাতের মধ্যেই স্থগিত করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেছেন, একই সঙ্গে তারা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চান। দাবি না মানা হলে বুধবার ‘লংমার্চ টু শিক্ষা মন্ত্রণালয়’ কর্মসূচি পালন করবেন।

‎মিরাজ বলেন, ‘সরকার যদি বুধবারের পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা না করে, তাহলে এ দিন পরীক্ষা দেবো কি না, তা আমরা আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবো। বুধবার যদি পরীক্ষায় বসতে হয়, তাহলে আমরা একটা অখুশি মনে লংমার্চ কর্মসূচি পালন করব। আমরা পরীক্ষা দেবো, তা বলিনি, আমরা বলছি, যদি পরীক্ষায় বসতে হয় তাহলে অখুশি মনে লংমার্চ কর্মসূচি পালন করবো। কারণ, সরকার পরে বলবে (পরীক্ষা না দিলে) আমরা ফেল।’

‎এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে পুলিশ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সংসদ ভবনের সামনে থেকে লাঠিপেটা করে সরিয়ে দেয়। এর মধ্যে আন্দোলনরত পরীক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধিদল সংসদের ভেতরে প্রবেশ করলেও তাদের সঙ্গে দায়িত্বশীল কারও আলোচনা হয়নি।

আজ সন্ধ্যা ৬টার দিকে তারা জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে পৌঁছে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ-সংলগ্ন বটতলার গেটে অবস্থান নেয়। পরে তারা মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের দুই পাশেই অবরোধ করে। ‎এর আগে বিকেল পৌনে ৪টা থেকে দেড় ঘণ্টা তারা সায়েন্স ল্যাব মোড়ে অবস্থান করে। বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে তারা সায়েন্স ল্যাব মোড় ছেড়ে সংসদের দিকে রওনা হয়। তারা প্রথমে ঢাকা বোর্ডের দিকে যাওয়ার কথা বললেও পরে সংসদ ভবনের দিকে যায়।

 

‎এর আগে দুপুর পৌনে ১২টা থেকে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব ও উত্তরার বিএনএস সেন্টারের সামনের সড়ক আটকে বিক্ষোভ শুরু করেছিল শিক্ষার্থীরা। পরে দুপুরে তারা ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের উদ্দেশে রওনা হয়।

‎বেলা পৌনে ১টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল গেটের সামনে পুলিশ শিক্ষার্থীদের আটকে দেয়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাদের ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। পরে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করেন।

মুহসীন হলের সামনে বাধা পেয়ে বেলা ১টার দিকে নীলক্ষেত মোড়ে অবস্থান নেয় আন্দোলনকারীরা। পরে বেলা পৌনে ২টার দিকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে তারা পলাশী মোড় হয়ে শিক্ষা বোর্ডের দিকে রওনা হয়। বেলা আড়াইটা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বোর্ডের সামনে অবস্থান নেয় পরীক্ষার্থীরা। ‎তখন পরীক্ষার্থীদের শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা আলোচনার প্রস্তাব দিলেও তারা তা না করে ফের সায়েন্স ল্যাবে চলে গেছে বলে জানিয়েছেন আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আকতারুজ্জামান।

‎পরে বিকেল পৌনে ৪টায় আবার সায়েন্স ল্যাব মোড়ে অবস্থান নেয় পরীক্ষার্থীরা।

আন্দোলনকারীরা তিন দফা দাবি তুলে ধরেছেন। দাবিগুলো হলো-দেশের বিভিন্ন এলাকায় চলমান দুর্যোগ পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত রাখতে হবে; বৈরী আবহাওয়ার কারণে ১৩ জুলাই অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা পরীক্ষার্থীদের জন্য পুনরায় পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে; এবং আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনকে পদত্যাগ করতে হবে।

আরও পড়ুন: শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ ৩ দাবি শিক্ষার্থীদের

মন্তব্য করুন
Rajniti Sangbad


আরও খবর