যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার পদত্যাগ করছেন। আজ সোমবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা জানান স্টারমার। ঘোষণার সময় তার চোখ ভরে ওঠে পানিতে; কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে আসে।
বক্তব্যের শেষে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ব্রিটিশ রাজনীতির সবচেয়ে বড় পদটি ছাড়ার পর তিনি তার সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যয় করবেন, আর তা হলো তার ‘অসাধারণ স্ত্রী’ ভিক্টোরিয়ার সেরা স্বামী এবং তার ‘সুন্দর সন্তানদের’ সেরা বাবা হওয়া।’
পদত্যাগের প্রশ্নে কিয়ার স্টারমার বলেন, ‘এই প্রশ্নের ব্যাপারে আমার সংসদীয় দলের উত্তর আমি শুনেছি এবং আমি সানন্দে সেই উত্তর গ্রহণ করছি। আমি যে দেশকে ভালোবাসি, তাকে সবার আগে রাখার জন্যই আমার প্রতিটি সিদ্ধান্ত ছিল। এ কারণেই আমি লেবার পার্টির নেতার পদ থেকে পদত্যাগ করবো।’
স্টারমার বলেন, ‘নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবো। ক্ষমতা হস্তান্তর যাতে সুশৃঙ্খলভাবে হয় তা নিশ্চিত করতেও সবকিছু করবো।’
বেশ কয়েক মাস ধরেই স্টারমারের নেতৃত্বের ওপর চাপ বেড়েছে। এরমধ্যে সম্প্রতি তার প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ডি বার্নহাম পার্লামেন্টে একটি আসনে উপনির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয়লাভ করলে সেই চাপ হঠাৎ আরও বেড়ে যায়।
মধ্যপন্থী-বাম ঘরানার লেবার পার্টিকে ২০২৪ সালের নির্বাচনে ভূমিধস বিজয় এনে দেন স্টারমার। তবে নানা বিতর্ক ও নীতিগত অবস্থান বদলের কারণে তার জনপ্রিয়তা কমতে থাকে।
স্টারমারের এই পদত্যাগের মাধ্যমে এক দশকের মধ্যে সপ্তম নতুন প্রধানমন্ত্রী পেতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য।
আরও পড়ুন: লেবাননে ইসরায়েলের হামলার জেরে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিলো ইরান
