শতাধিক গুম-খুনের খলনায়ক আলোচিত সাবেক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের নেতৃত্বে ভারত ও বাংলাদেশজুড়ে সক্রিয় ছিল একটি ‘কিলিং নেটওয়ার্ক’।
আজ রোববার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।
আমিনুল ইসলাম বলেন, র্যাবের টিএফআই সেল থেকে দুজন আসামিকে নিয়ে জিয়াউলের নেতৃত্বে জাফলংয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে সাক্ষীসহ আরও কয়েকজন সেনা কর্মকর্তা ছিলেন। জাফলংয়ে যাওয়ার পর ভারতের সাদা পোশাকের কিছু লোকজন দুজনকে নিয়ে আসেন। ভারত থেকে আনা এসব লোকদের বিনিময়ের মাধ্যমে হস্তান্তর করা হয়। ভারত থেকে আনা দূজন ভারতের হাজতের আসামি ছিলেন।
সাক্ষীর বিবরণের বরাতে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ভারত থেকে আনা দুজনকে রাস্তার মধ্যেই মাথায় গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়। এভাবেই তিনি হত্যাকাণ্ড চালিয়েছেন। ভারতের লোকজনকে জিয়াউল আহসানের অনুসারীরাই হয়তো তাদের নিয়ে আসতেন। তারা কোনো দলের বা কোনো বাহিনীর হতে পারে। অর্থাৎ জিয়াউলের এই কিলিং নেটওয়ার্ক ভারত ও বাংলাদেশজুড়ে ছিল। তবে ভারত থেকে সাদা পোশাকে আসা লোকজন যে দুজন ব্যক্তিকে হস্তান্তর করেছিলেন, তারা কি ভারতের নাকি বাংলাদেশের নাগরিক তা যাচাই-বাছাই করা সম্ভব হয়নি।
আমিনুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত শতাধিক গুম ও হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজ এক সেনা কর্মকর্তা গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য দিয়েছেন। তার সাক্ষ্যগ্রহণ এখনো চলমান রয়েছে এবং এতে বেশ কয়েকটি আলোচিত ঘটনার বিবরণ উঠে এসেছে। সাক্ষ্য দেওয়া সেনা কর্মকর্তা ট্রাইব্যুনালের সামনে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর বর্ণনা তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে একটি ছিল জিয়াউলের জাফলং অপারেশন।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, বিডিআরের বিভিন্ন সদস্যদের ধরে এনে দুটি পদ্ধতিতে হত্যা করেছেন তিনি। এর মধ্যে কাউকে ইনজেকশন পুশ করে, আবার কাউকে মাথায় গুলি করে হত্যার পর নদীতে ফেলে দিতেন। এই দুই প্রক্রিয়ায় প্রায় ১০ থেকে ১২ জন বিডিআর সদস্যকে তিনি হত্যা করেছেন বলে সাক্ষী জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: সিলেটের ডিসি সারওয়ার আলমকে হঠাৎ প্রত্যাহার
