রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদক
প্রকাশের সময় : ১৩ জুন ২০২৬, ১২:২৩ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে পুলিশ পরিচয়ে আটক, মারধর ও হেনস্তার ঘটনায় পুলিশের এসআইসহ তিনজনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে। এর আগে অভিযুক্ত এসআই (নিরস্ত্র) শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া ও কনস্টেবল মো. রাসেল চৌধুরীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। মামলার পর একজনকে গ্রেপ্তার করেছে খুলশী থানা পুলিশ।
আজ শনিবার সকালে চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (পিআর) আমিনুর রশিদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে তথ্য জানানো হয়।
জাতীয় দলের স্পিনার নাঈম হাসান এখন নগরের বহদ্দারহাটের ফরিদার পাড়ার বাড়িতে রয়েছেন। থানা থেকে ভোররাতের দিকে তিনি বাসায় ফিরেছেন।
আজ শনিবার দুপুর ১২টার দিকে নাঈম হাসানের বাসায় গেছেন পুলিশ কমিশনার হাসান মোহাম্মদ শওকত আলী। এ সময় তিনি নাঈম ও তার বাবা মাহবুব হাসানের সঙ্গে কথা বলেন। দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তির আশ্বাস দেন।
কী ঘটেছিল?
পুলিশের এমন ঘটনায় নাঈম হতবাক ও কিছুটা বিপর্যস্ত। নাঈমের বাবা মাহবুব আলম বিএনপি নেতা। তিনি একসময় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ছিলেন।
জানা গেছে, শুক্রবার রাত ১১টার দিকে ক্রিকেটার নাঈম হাসান শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশায় ওঠেন। তিনি প্রিমিয়ার লিগ খেলে ঢাকা থেকে বিমানযোগে চট্টগ্রাম ফেরেন। তার সিএনজি অটোরিকশাটি ফ্লাইওভার থেকে নামার পর লালখান বাজার এলাকায় পুলিশ সংকেত দেয়।
নাঈম বলেন, ‘তারা আমাকে কোনো ধরনের পরিচয় না দিয়ে গাড়ি থেকে নামতে বলেন। সিএনজি অটোরিকশা চালকের কাছ থেকে গাড়ির ডকুমেন্ট ছিনিয়ে নেন। একপর্যায়ে তারা আমার গলা চেপে ধরে জোর করে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তোলার চেষ্টা করে।’
জাতীয় দলের এই ক্রিকেটার বলেন, ‘আমি জানতে চেয়েছিলাম কেন আমাকে এমন করা হচ্ছে। তখন আমাকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়। সেখানে দুইজন পুলিশ সদস্য ছিলেন বলে পরে জানতে পারি। তাদের সঙ্গে সাদা পাঞ্জাবি পরা আরেকজন ব্যক্তি ছিলেন, যিনি নিজেও আমাকে মারধর করেন।’
নাঈম ফোনে তার বাবার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে পুলিশ আরও ক্ষিপ্ত হয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি আমার বাবাকে ফোন করার চেষ্টা করছিলাম। তখনও আমার গলা চেপে ধরে। আমি চিৎকার করলে আশপাশের মানুষজন জড়ো হতে শুরু করেন। প্রায় একশ থেকে দেড়শ মানুষ সেখানে উপস্থিত হন। অনেকেই আমার পরিচয় জানার পর বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করেন।’
নাঈম বলেন, ‘আমি নিজের পরিচয় দিয়েছি, আইডি কার্ড দেখিয়েছি। তারপরও তারা আমাকে ‘আসামি’ বলে সম্বোধন করে এবং কথা বলতে নিষেধ করে। আমাকে পরে পুলিশ আরেকটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে থানায় নেয়। সেখানে আমাকে বলা হয়, নিচের দিকে তাকিয়ে কথা বলতে। পরে কারো ফোন আসার পর তাদের আচরণ বদলে যায় এবং আমাকে বসতে বলা হয়।’
জাতীয় দলের এই ক্রিকেটার বলেন ‘মানুষ আমাকে চিনতো বলে আমি আজ বেঁচে গেছি। আমার জায়গায় যদি কোনো সাধারণ মানুষ থাকতেন, তাহলে তার কী হতো? তাকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হতো, সেটি কেউ জানতো না। একজন সাধারণ নাগরিক যদি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছেই নিরাপদ না থাকেন, তাহলে এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক বিষয়।’
নাঈমের বাবা মাহবুব আলম বলেন, ‘পুলিশ তুলে নিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে আমি দ্রুত থানায় আসি। ডিউটি অফিসার আমারে প্রথমে থানাতেই ঢুকতে দেননি। দূরে গিয়ে বসতে বলেন। পরে স্থানীয়দের প্রতিবাদের মুখে থানায় ঢুকতে দেয়। থানায় এসে পরিচয় দেওয়ার পরও আমার ছেলেকে অপমান করে কথা বলেছেন ওসি। পরে ঢাকা থেকে তামিম ইকবাল, ইসরাফিল খসরুর ফোন পেয়ে পুলিশ নমনীয় হয় এবং ভুল স্বীকার করে। জড়িত পুলিশ সদস্যদের শাস্তি চাই।’
আরও পড়ুন: নিউমুরিং টার্মিনাল ইজারা: এবার চট্টগ্রাম বন্দরে দানা বাঁধছে না আন্দোলন
