, | |

মূলপাতা চট্ট-মেট্টো

শিপ ব্রেকার্সের নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না ঋণখেলাপি আমজাদ


রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় :৮ জুন, ২০২৬ ৮:০৯ : অপরাহ্ণ

জাহাজভাঙা মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স এসোসিয়েশনের (বিএসবিআরএ) নির্বাচন থেকে শেষ পর্যন্ত বাদ পড়লেন ঋণখেলাপি আমজাদ হোসেন চৌধুরী। নির্বাচনে তিনি সভাপতি প্রার্থী ছিলেন। আমজাদ চৌধুরীর প্রার্থিতার বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টের রিটের আদেশ স্থগিত করেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। আপিল বিভাগের এই আদেশের ফলে শিপ ব্রেকার্স এসোসিয়েশনের নির্বাচন পরিচালনা বোর্ডের সিদ্ধান্ত বহাল থাকছে। ফলে নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন না আমজাদ চৌধুরী।

আজ সোমবার আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের বিচারক প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম, বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও বিচারপতি ফারাহ মাহবুবের আদালত এ আদেশ দেন।

জানতে চাইলে শিপ ব্রেকার্স এসোসিয়েশনের নির্বাচন বোর্ডের পক্ষের আইনজীবী ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক রাজনীতি সংবাদকে বলেন, ‘আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানি শেষে আমজাদ হোসেন চৌধুরীর করা হাইকোর্টের রিট আদেশ স্থগিত করেছে আপিল বিভাগ। ফলে শিপ ব্রেকার্স এসোসিয়েশনের নির্বাচন বোর্ডের সিদ্ধান্ত বহাল থাকছে। অর্থাৎ ঋণখেলাপির দায়ে আমজাদ চৌধুরী নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন না। আপিল বিভাগের এই রায়ের ফলে নির্বাচনে বাধা নেই।’

গত ৩০ এপ্রিল ঋণখেলাপির অভিযোগে আমজাদ চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল করে শিপ ব্রেকার্স এসোসিয়েশনের নির্বাচন পরিচালনা বোর্ড। এরপর আমজাদ নির্বাচন আপিল বোর্ডের কাছে আপিল করেন। গত ৬ মে আপিল বোর্ডে আপিল শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি রিপোর্টে ‘ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি’ সাব্যস্ত হওয়ায় শুনানিতে আমজাদের আপিল নামঞ্জুর হয়। এরপর গত ১০ মে নির্বাচন আপিল বোর্ড লিখিত পত্রের মাধ্যমে আমজাদের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করে।

নির্বাচনী বোর্ডের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে গত ১ জুন হাইকোর্টে রিট করেন আমজাদ চৌধুরী। রিটের শুনানি শেষে তার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্ট। হাইকোর্টের এই আদেশের বিরুদ্ধে গত ৩ জুন আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) করে শিপ ব্রেকার্স এসোসিয়েশনের নির্বাচন বোর্ড। আংশিক আপিল শুনানি শেষে আপিল বিভাগ আমজাদ চৌধুরীর প্রার্থিতার বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করে দেয়। এরপর ৮ জুন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির তারিখ ধার্য করা হয়। এ সময় পর্যন্ত শিপ ব্রেকার্স এসোসিয়েশনের নির্বাচনের সমস্ত কার্যক্রম স্থগিত রাখারও নির্দেশ দেওয়া হয়।

 

শিপ ব্রেকার্স এসোসিয়েশনের প্রশাসক ও বাংলাদেশে শিপিং করর্পোরেশনের সচিব আবু সাফায়েত মো. সাহে দুল ইসলাম জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি রিপোর্টে ‘ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি’ হিসেবে আমজাদ হোসেন চৌধুরীর নাম থাকায় নির্বাচনী নীতিমালা অনুযায়ী তার প্রার্থিতা বাতিল করেছিল নির্বাচন বোর্ড। আপিল বিভাগ সেই সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছেন। তাই আমজাদ চৌধুরীর নির্বাচনে অংশগ্রহণের আর সুযোগ নেই।

আমজাদ চৌধুরী চিটাগাং চেম্বার অব কমার্সের সিনিয়র সহসভাপতি। তিনি বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আসলাম চৌধুরীর ছোট ভাই। আসলাম চৌধুরী গত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে বিজয়ী হন।

প্রসঙ্গত, গত ৩ জুন চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচ তারকা হোটেল রেডিসন ব্লুতে শিপ ব্রেকার্স এসোসিয়েশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা হলো ৮৬ জন। নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন ১৮ জন। এর মধ্যে সভাপতি পদে প্রার্থী হয়েছেন দুজন। এরা হলেন- দেশের খ্যাতনামা শিল্পগ্রুপ পিএইচপি ফ্যামিলির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মহসিন ও রাইজিং স্টিল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমজাদ চৌধুরী। কিন্তু আমজাদ চৌধুরী নির্বাচন থেকে বাদ পড়েছেন। নির্বাচনে দুই বছর মেয়াদের জন্য সভাপতি, সিনিয়র সহসভাপতি ও দুজন সহসভাপতি এবং সাতজন নির্বাহী সদস্য নির্বাচিত হবেন।

এর আগে গত বছরের ২৫ অক্টোবর শিপ ব্রেকার্স এসোসিয়েশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। নির্বাচনে ১১টি পদের বিপরীতে মনোনয়নপত্র জমা দেন ১১ জন। তখন আমজাদ চৌধুরীর ‘অযাচিত হস্তক্ষেপের’ কারণে ১৫ সেপ্টেম্বর ‘স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন’ করতে না পারার কারণ দেখিয়ে ইস্তফা দেয় নির্বাচন বোর্ড। ফলে আর নির্বাচন হয়নি।

এরপর গত বছরের ৩ নভেম্বর সংগঠনের সংঘবিধি লঙ্ঘন করে শিপ ব্রেকার্স এসোসিয়েশনের সভাপতির পদ ‘দখল’ করেন আমজাদ চৌধুরী। সংগঠন পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে আমজাদ চৌধুরীকে গত ৫ ফেব্রুয়ারি অপসারণ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এরপর বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের সচিব আবু সাফায়াৎ মুহাম্মদ শাহে দুল ইসলামকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। দায়িত্ব নিয়েই প্রশাসক গত ২ মার্চ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন।

আরও পড়ুন: মশা মারা শিখতে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার দরকার নেই, চট্টগ্রাম মেয়রকে প্রধানমন্ত্রী

মন্তব্য করুন
Rajniti Sangbad


আরও খবর