বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোর (সিআইবি) তালিকায় ‘ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি’ হিসেবে নাম আছে রাইজিং স্টিল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমজাদ হোসেন চৌধুরীর। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রমতে, তার খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ১২০০ কোটি টাকা। কিন্তু হাইকোর্টে রিট করে তিনি ‘আদালতে ঋণখেলাপি স্থগিতের আদেশ আছে’ জানিয়ে শিপ ব্রেকার্স এসোসিয়েশনের নির্বাচনে সভাপতি প্রার্থিতা বৈধতা করে নেন। তবে হাইকোর্টকে ‘বিভ্রান্ত’ করে শেষ রক্ষা হলো না আমজাদ চৌধুরীর। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে ফেঁসে গেছেন তিনি।
গত ১ জুন হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন আমজাদ হোসেন চৌধুরী। রিটের শুনানি শেষে তার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্ট।
আমজাদ চৌধুরীর প্রার্থিতার বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আজ বুধবার আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) করেন শিপ ব্রেকার্স এসোসিয়েশনের নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান।
আপিল বিভাগের বিচারপতি ফারাহ মাহবুবের বেঞ্চে লিভ টু আপিলের আংশিক শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে আপিল বিভাগ আমজাদ চৌধুরীর প্রার্থিতার বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করে দেয়। এরপর আগামী ৮ জুন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির তারিখ ধার্য করা হয়। এ সময় পর্যন্ত শিপ ব্রেকার্স এসোসিয়েশনের নির্বাচনের সমস্ত কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
জানতে চাইলে শিপ ব্রেকার্স এসোসিয়েশনের নির্বাচন বোর্ডের পক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক রাজনীতি সংবাদকে বলেন, ‘আমজাদ চৌধুরী রিটে হাইকোর্টে ঋণখেলাপি স্থগিতের আদেশ আছে বলে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু আপিল বিভাগ হাইকোর্টের সেই স্থগিতের আদেশ স্থগিত করে দিয়েছিলেন। আমজাদ চৌধুরী হাইকোর্টকে বিভ্রান্ত করেছেন। আমরা আজ আপিল বিভাগকে এ তথ্য জানানোর পর আদালত আমজাদ চৌধুরীর প্রার্থিতার বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করে দিয়েছে। আগামী ৮ জুন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে আপিলের পূর্ণাঙ্গ শুনানি হবে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রিটকারী আমজাদ চৌধুরীর আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব রাজনীতি সংবাদকে বলেন, ‘শিপ ব্রেকার্স এসোসিয়েশনের নির্বাচনে ঋণখেলাপি প্রার্থী হতে পারবেন না-এমন কোনো শর্ত বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালায় নেই। নির্বাচনে প্রার্থী বিজয়ী হলে ৬ মাসের মধ্যে খেলাপি ঋণ পরিশোধ করতে পারবে। পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে আপিলের শুনানিতে আমরা এ বিষয়ে যুক্তি উপস্থাপন করবো।’
প্রসঙ্গত, গত ৩০ এপ্রিল ঋণখেলাপির অভিযোগে আমজাদ চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল করে শিপ ব্রেকার্স এসোসিয়েশনের নির্বাচন বোর্ড। এরপর তিনি নির্বাচন আপিল বোর্ডের কাছে আপিল করেন। গত ৬ মে আপিল বোর্ডে আপিল শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এরপর গত ১০ মে নির্বাচন আপিল বোর্ডও আমজাদ চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল করে দেয়।
আমজাদ চৌধুরী বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আসলাম চৌধুরীর ছোট ভাই। আসলাম চৌধুরী গত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে বিজয়ী হন।
আজ বুধবার (৩ জুন) চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচ তারকা হোটেল রেডিসন ব্লুতে জাহাজভাঙা মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স এসোসিয়েশনের (বিএসবিআরএ) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
জানা গেছে, শিপ ব্রেকার্স এসোসিয়েশনের এবারের নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন ১৮ জন। এর মধ্যে সভাপতি পদে প্রার্থী হয়েছেন দুজন। এরা হলেন- দেশের খ্যাতনামা শিল্পগ্রুপ পিএইচপি ফ্যামিলির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মহসিন ও রাইজিং স্টিল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমজাদ চৌধুরী। নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা হলো ৮৬ জন। নির্বাচনে দুই বছর মেয়াদের জন্য সভাপতি, সিনিয়র সহসভাপতি ও দুজন সহসভাপতি এবং সাতজন নির্বাহী সদস্য নির্বাচিত হবেন।
আরও পড়ুন: চিটাগাং চেম্বারের নতুন সভাপতি আমিরুল হক
