জাহাজভাঙা মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স এসোসিয়েশনের (বিএসবিআরএ) নির্বাচন নিয়ে নাটকীয়তার শেষ নেই। গত ১০ মে ঋণখেলাপির অভিযোগে নির্বাচনী ট্রেন থেকে ছিটকে গিয়েছিলেন সভাপতি প্রার্থী রাইজিং স্টিল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমজাদ হোসেন চৌধুরী। কিন্তু ভোটের দুই দিন আগে আবার তিনি নির্বাচনী ট্রেনে উঠে গেছেন!
আজ সোমবার হাইকোর্টের বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী এবং বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ আমজাদ হোসেন চৌধুরীর রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে তার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করে।
রিটকারীর আইনজীবী মো. এনামুল হোসাইন রাজনীতি সংবাদকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গত ৩০ এপ্রিল মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ঋণখেলাপির অভিযোগে আমজাদ চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল করে শিপ ব্রেকার্স এসোসিয়েশনের নির্বাচন বোর্ড। এরপর তিনি নির্বাচন আপিল বোর্ডের কাছে আপিল করেন। গত ৬ মে আপিল শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এরপর গত ১০ মে নির্বাচন আপিল বোর্ড আমজাদ চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল করে দেয়।
গত ১০ মে নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আফতাব উদ্দিন চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক নোটিশে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোর (সিআইবি) রিপোর্টে আমজাদ চৌধুরী ঋণখেলাপি সাব্যস্ত হওয়ায় তার আপিল নামঞ্জুর হয়।
এখন হাইকোর্টের রায়ে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ায় আমজাদ চৌধুরী আগামী ৩ জুন শিপ ব্রেকার্স এসোসিয়েশনের নির্বাচনে সভাপতি পদে পিএইচপি ফ্যামিলির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মহসিনের সঙ্গে লড়বেন।
আমজাদ চৌধুরী বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আসলাম চৌধুরীর ছোট ভাই। আসলাম চৌধুরী গত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে বিজয়ী হন।
জানা গেছে, শিপ ব্রেকার্স এসোসিয়েশনের নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন ১৮ জন। নির্বাচনে দুই বছর মেয়াদের জন্য সভাপতি, সিনিয়র সহসভাপতি ও দুজন সহসভাপতি এবং সাতজন নির্বাহী সদস্য নির্বাচিত হবেন।
এর আগে গত বছরের ২৫ অক্টোবর শিপ ব্রেকার্স এসোসিয়েশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। নির্বাচনে ১১টি পদের বিপরীতে মনোনয়নপত্র জমা দেন ১১ জন। এসব প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গত ১৫ সেপ্টেম্বর ‘স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন’ করতে না পারার কারণ দেখিয়ে ইস্তফা দেয় নির্বাচন বোর্ড। ফলে আর নির্বাচন হয়নি।
এরপর গত বছরের ৩ নভেম্বর শিপ ব্রেকার্স এসোসিয়েশনের এক সভায় আমজাদ চৌধুরীকে সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মনোনীত করা হয়। তিনি সংগঠনটির নির্বাহী কমিটির সদস্য। তাকে চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য এস এম আল মামুনের পরিবর্তে নিযুক্ত করা হয়।
কিন্তু গত ৫ ফেব্রুয়ারি অনিয়মের অভিযোগে শিপ ব্রেকার্স এসোসিয়েশনের কমিটি ভেঙ্গে দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এরপর বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের সচিব আবু সাফায়াৎ মুহম্মদ শাহে দুল ইসলামকে শিপ ব্রেকার্স এসোসিয়েশনে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, এর আগে শিপ ব্রেকার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি ছিলেন আবু তাহের। তিনি একটানা ৯ বছর সভাপতি পদে ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ান। তিনি চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য দিদারুল আলম দিদারের বাবা ও চট্টগ্রামের সিটির সাবেক মেয়র মনজুর আলমের ভাই।
আরও পড়ুন: চিটাগাং চেম্বারের নতুন সভাপতি আমিরুল হক
