দেশের শতবর্ষী প্রাচীন ব্যবসায়ী সংগঠন চিটাগাং চেম্বার অব কমার্সের নির্বাচন আবারও স্থগিত করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে এক রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট ৬ মাসের জন্য নির্বাচন স্থগিত করার আদেশ দিয়েছে।
চেম্বার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদের দুই পরিচালক প্রার্থী এস এম নুরুল হক ও আজিজুল হক এই রিট আবেদন করেন।
রিটের শুনানি শেষে হাইকোর্ট ৬ মাসের জন্য নির্বাচন স্থগিতের আদেশ দিয়েছে বলে রাজনীতি সংবাদকে নিশ্চিত করেছেন রিটকারী আইনজীবী আশফাকুর রহমান।
জানা গেছে, গত ২২ এপ্রিল এফবিসিসিআইয়ের আর্বিট্রেশন ট্রাইব্যুনালের আদেশ অনুযায়ী নির্বাচনের নতুন তফসিল ঘোষণা না করায় এই রিট আবেদন দায়ের করেন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদের দুই পরিচালক প্রার্থী।
আগামী ২৩ মে (শনিবার) চিটাগাং চেম্বারের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। চেম্বারের নির্বাচন বোর্ড নির্বাচনের প্রস্তুতিও প্রায় সম্পন্ন করে ফেলেছে। কিন্তু ভোটের দুই দিন আগে নির্বাচন আটকে দিলো হাইকোর্ট।
সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ প্যানেল এফবিসিসিআইয়ের আর্বিট্রেশন ট্রাইব্যুনালের আদেশ অনুযায়ী নির্বাচনের নতুন তফসিল ঘোষণার দাবি জানিয়েছিলো। কিন্তু চেম্বারের নির্বাচন বোর্ড তা আমলে না নিয়ে গত ১৮ মে পুরোনো তফসিল অনুযায়ী ভোটের তারিখ ঘোষণা করে। ঈদের ছুটির দুই দিন আগে ২৩ মে ভোটের তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
গত বছরের ১১ আগস্ট চিটাগাং চেম্বারের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। তফসিল অনুযায়ী গত বছরের ১ নভেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ভোটের দুই দিন আগে এক রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট নির্বাচন স্থগিতের আদেশ দেয়। এরপর দ্বিতীয় দফায় গত ৪ এপ্রিল ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করে নির্বাচন বোর্ড। কিন্তু আপিল বিভাগের নির্দেশে নির্বাচন আবার স্থগিত করা হয়। এবার তৃতীয় দফায় নির্বাচন স্থগিত করা হলো।
গত ২২ এপ্রিল এফবিসিসিআইয়ের আর্বিট্রেশন ট্রাইব্যুনাল বাণিজ্য বিধিমালা-২০২৫ অনুযায়ী নতুন তফসিল ঘোষণা করে চিটাগাং চেম্বারের নির্বাচন অনুষ্ঠানের আদেশ দেয়। বাণিজ্য বিধিমালা-২০২৫ অনুযায়ী চেম্বারের সদস্যদের সরাসরি ভোটে সভাপতি, সিনিয়র সহসভাপতি, সহসভাপতি এবং পরিচালক নির্বাচিত হবে।
নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদের দুই পরিচালক প্রার্থী এস এম নুরুল হক ও মুহাম্মদ আজিজুল হক এবং চেম্বারের সদস্য মোহাম্মদ বেলাল হোসেন পৃথকভাবে আর্বিট্রেশন ট্রাইব্যুনালে এ মামলা দায়ের করেছিলেন।
কিন্তু চেম্বারের নির্বাচন বোর্ড গত বছরের ১১ ডিসেম্বর হাইকোর্টের আদেশের ভিত্তিতে পুরোনো তফসিল অনুযায়ী ভোটের তারিখ ঘোষণা করে। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী ইউনাইটেড বিজনেস ফোরাম প্যানেল পুরোনো তফসিল অনুযায়ী ভোটগ্রহণের পক্ষে ছিলো।
এবারের চেম্বারের নির্বাচনে দুটি প্যানেল গঠন হয়। ইউনাইটেড বিজনেস ফোরাম নামের প্যানেলের লিডার হলেন চট্টগ্রামের খ্যাতনামা শিল্পপ্রতিষ্ঠান সীকম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আমিরুল হক। এই প্যানেলের উপদেষ্টা হলেন চিটাগাং চেম্বারের সাবেক সভাপতি আমির হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বর্তমান সরকারের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর ছোট ভাই। আর সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ নামের অপর প্যানেলের লিডার হলেন এস এম নুরুল হক। তিনি বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা এস এম ফজলুল হকের ছোট ভাই।
উল্লেখ্য, চিটাগাং চেম্বারের সর্বশেষ ভোটাভুটি হয়েছিল ২০১৩ সালের ৩০ মার্চ। ওই নির্বাচনে মাহবুবুল আলম-নুরুন নেওয়াজ সেলিম পরিষদ জয়লাভ করে। তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলো মোরশেদ মুরাদ ইব্রাহীম-আবদুস সালাম ঐক্য পরিষদ। নির্বাচনে মাহবুবুল আলম-নুরুন নেওয়াজ সেলিম পরিষদ থেকে ২০ জন এবং মোরশেদ-সালাম পরিষদ থেকে মাত্র চারজন পরিচালক নির্বাচিত হন। এর পরের পাঁচ মেয়াদের নির্বাচনে কোনো ভোটাভুটি হয়নি।
আরও পড়ুন:
শিপ ব্রেকার্স এসোসিয়েশনের নির্বাচনে নাটকীয় মোড়!
চট্টগ্রাম সিটির মেয়র পদে বিএনপিতে আলোচনায় দুই নাম
