, | |

মূলপাতা শিক্ষা

পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে খালেদা জিয়ার অবদান


সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় :১১ মে, ২০২৬ ১০:০৫ : অপরাহ্ণ

আগামী শিক্ষাবর্ষের (২০২৭) পাঠ্যবইয়ে ইতিহাস ও দক্ষতাভিত্তিক বিষয়গুলোতে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সরকার। এর অংশ হিসেবে নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ভূমিকা ইতিহাসের পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা বইয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় নতুনভাবে যুক্ত করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে মহান মুক্তিযুদ্ধের সেক্টরভিত্তিক বিস্তারিত আলোচনা, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনা ও নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান নিয়ে নতুন ব্যাখ্যা ও সংযোজন।

এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, এর মধ্যে ইতিহাস বিষয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের সেক্টরগুলোর বিস্তারিত বর্ণনা, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনা এবং নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ভূমিকা নতুন করে যুক্ত হচ্ছে।

একই সঙ্গে আনন্দময় শিক্ষা, খেলাধুলা, সংস্কৃতি এবং কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব বাড়িয়ে নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্ত ও পুরোনো বই পরিমার্জন করা হচ্ছে। এর মধ্যে ষষ্ঠ শ্রেণিতে আনন্দময় শিক্ষা এবং চতুর্থ শ্রেণিতে ক্রীড়া ও সংস্কৃতিবিষয়ক নতুন বই যুক্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি ষষ্ঠ শ্রেণির কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষাবিষয়ক বইয়ে কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে ব্যাপক পরিমার্জন করা হচ্ছে।

এনসিটিবির সূত্র আরও জানায়, ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির বইয়ে বিষয়গুলো সংক্ষিপ্তভাবে উপস্থাপন করা হলেও নবম শ্রেণির বইয়ে তুলনামূলক বিস্তারিত আলোচনা থাকবে। বিভিন্ন পর্যায়ের যাচাই-বাছাই শেষে পরিবর্তনগুলো চূড়ান্ত করা হবে।

এনসিটিবির চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুল হক পাটওয়ারী (অতিরিক্ত দায়িত্বে) বলেন, পাঠ্যবই প্রতিবছরই কমবেশি পরিমার্জন হয়। এবার যেহেতু নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেছে, তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বিবেচনা করে পরিমার্জনের কাজটি হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগিতায় সারা দেশের প্রায় ৩২০ জন শিক্ষক ও বিশেষজ্ঞ নিয়ে কর্মশালার মাধ্যমে কাজটি করা হচ্ছে। এর মধ্যে মাধ্যমিকের বইগুলো পরিমার্জন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ মে) প্রাথমিকের বইগুলো পরিমার্জনের কাজ শুরু হবে।

 

এর আগে, অন্তর্বর্তী সরকার সে সময় বিদ্যমান নতুন শিক্ষাক্রম থেকে সরে এসে ২০১২ সালের শিক্ষাক্রমের আলোকে বই পরিমার্জন শুরু করে। একইসঙ্গে ২০২৫ সালের পঞ্চম থেকে নবম-দশম শ্রেণির বাংলা ও ইংরেজি বইয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান বিষয়ে কবিতা, প্রবন্ধ ও গদ্য সংযোজন করা হয়। পরে চলতি বছরের পাঠ্যবইয়ে ইতিহাসের অংশ হিসেবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিষয়বস্তু ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম এবং নবম-দশম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় পাঠ্যবইয়ে যুক্ত করা হয়। একইসঙ্গে নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের বিষয়টিও পাঠ্যসূচিতে স্থান পায়।

সরকার প্রতিবছর প্রাকপ্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ্যবই বিনা মূল্যে দিয়ে থাকে। প্রায় চার কোটি শিক্ষার্থীর জন্য আগামী বছর ৩০ কোটির মতো বই ছাপানোর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

এনসিটিবি সূত্র জানিয়েছে, আগামী বছরের সব পাঠ্যবই চলতি বছরের ১৫ নভেম্বরের মধ্যে ছাপিয়ে মাঠপর্যায়ে পাঠানোর পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে তারা। এতে বছরের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের হাতে সব বই পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে বলে তারা আশা করছে।

আরও পড়ুন: ঈদ উপলক্ষে টিসিবির ট্রাকে পণ্য বিক্রি শুরু

মন্তব্য করুন
Rajniti Sangbad


আরও খবর