২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম ও কুমিল্লায় মোট ৫৮ জন নিহত হয়েছেন।
আজ মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (চার্জশিট) খুব শিগগিরই দাখিল করা হবে বলেও জানান তিনি।
আমিনুল ইসলাম জানান, শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডে নিহতদের পরিচয় ইতোমধ্যে শনাক্ত করা গেছে এবং ঘটনাটি নিয়ে চলমান তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। এ ঘটনায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সরকারের ঊধ্বর্তনদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। এছাড়া, সরকারের হেফাজতে ইসলামকে নিধনের উদ্দেশ্য ছিল।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর জানান, আগামী ৭ জুনের মধ্যে এই মামলার চার্জশিট দাখিল করা হবে। মামলায় ৩০ জনের বেশি আসামি করা হতে পারে।
এর আগে স্বাধীনভাবে অনুসন্ধান করা মানবাধিকার সংস্থা ‘অধিকার’ ২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট তাদের ফেসবুক পেজে ৬১ জন নিহতের একটি তালিকা প্রকাশ করেছিল এবং নিহত দাবি করে ৯৩ জনের নাম ও পরিচয় প্রকাশ করেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।
উল্লেখ্য, ব্লগারদের বিরুদ্ধে ইসলাম ধর্ম অবমাননা এবং নারীনীতির বিরোধিতাসহ ১৩ দফা দাবিতে ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে অবস্থান নেয় হেফাজতে ইসলাম। সেদিন হাজার হাজার কওমি আলেম-ছাত্র ও সাধারণ মুসল্লি মহাসমাবেশে অংশ নেন। এ সমাবেশে তৎকালীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চালানো অভিযানকে কেন্দ্র করে যে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে, তা শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড হিসেবে পরিচিত।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) তদন্ত সংস্থা এই হত্যাকাণ্ডকে একটি অত্যন্ত পরিকল্পিত হিসেবে উল্লেখ করেছে।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট
