বর্ষায় বৃষ্টিতে ভিজে রিকশা চালাতে হয় চালকদের। একদিন রিকশা না চালালে বাড়িতে চুলা জ্বলে না তাদের। আর চুলা না জ্বললে পরিবারের সবাইকেই না খেয়ে দিন পার করতে হয়। তাই পরিবারের কথা ভেবেই তারা বৃষ্টিতে ভিজে রিকশা চালান। এতে জ্বর-সর্দিসহ নানা অসুস্থতায় পড়তে হয় তাদের। তাই বর্ষাকালে খুব কষ্টে কাটে রিকশাচালকদের জীবন। হতদরিদ্র ও অসহায় এসব রিকশাচালকদের পাশে দাঁড়িয়েছে দেশের স্বনামধন্য শিল্পগ্রুপ পিএইচপি ফ্যামেলি। বর্ষাকালে বৃষ্টিতে দুর্ভোগ থেকে রক্ষায় রিকশাচালকদের মাঝে রেইনকোট বিতরণের একটি অনন্য উদ্যোগ নিয়েছেন দেশের স্বনামধন্য ব্যবসায়ী পিএইচপি ফ্যামেলির চেয়ারম্যান সুফি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।
গতকাল রোববার বৃষ্টির সময় নগরীর বিভিন্ন স্থানে ২ হাজার রিকশাচালককে রেইনকোট বিতরণ করেছে পিএইচপি ফ্যামেলি। রেইনকোট পেয়ে আনন্দিত হন রিকশাচালকরা। এ সময় তারা পিএইচপি ফ্যামেলির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

জানা গেছে, পরবর্তীতে নগরীর বাকলিয়া থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত গ্যারেজগুলোতে রিকশাচালকদের মাঝে আরও রেইনকোট বিতরণ করবে পিএইচপি ফ্যামেলি। এ ছাড়া চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৩ হাজার পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে রেইনকোট দিবে দেশের শীর্ষস্থানীয় এই শিল্পগ্রুপ।
পিএইচপি ফ্যামিলির পরিচালক আলী হোসেন সোহাগ রাজনীতি সংবাদকে বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত বর্ষাকালে রিকশাচালকরা বৃষ্টিতে ভিজে রিকশা চালায়। তাদের প্রতি কারও কোনো খেয়াল নেই। সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে আমরা রিকশাচালকদের মাঝে রেইনকোট বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছি। তবে কয়েক বছর আগেও আমরা চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে রিকশাচালকদের মাঝে রেইনকোট বিতরণ করেছিলাম।’
পিএইচপি ফ্যামিলির এই পরিচালক জানিয়েছেন, তারা আগামী সপ্তাহে নগরীর বিভিন্ন মাদ্রাসার আশেপাশে অনাথ শিশুদের মাঝে ১ হাজার মশারি বিতরণ করবে।
উল্লেখ্য, দেশের স্বনামধন্য শিল্পগ্রুপ পিএইচপি ফ্যামেলি দীর্ঘ দিন ধরে সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসাবে মানবসেবায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। দেশের অন্যতম বৃহৎ এই শিল্পগোষ্ঠী আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালের ক্যান্সার ইনস্টিটিউট ও রিসার্চ সেন্টারে পাঁচ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছে। জনকল্যাণ সংস্থা আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামকে দিয়েছে একটি অত্যাধুনিক অ্যাম্বুলেন্স। চট্টগ্রাম কিডনি ফাউন্ডেশনে দিয়েছে এক কোটি টাকার অনুদান। এ ছাড়া করোনাকালীন সময়ে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালকে অ্যাম্বুলেন্স উপহার দিয়েছিল এই শিল্পগ্রুপ।
আরও পড়ুন: ১ হাজার ৪৮৩ টাকায় ব্যবসা শুরু, এখন ৬ হাজার কোটি টাকার শিল্প গ্রুপ
