রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদক
প্রকাশের সময় : ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ২:১৫ অপরাহ্ণ
বন্দরনগরী চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা ইস্যু সংসদে তুলে ধরেছেন চট্টগ্রাম-১০ (পাহাড়তলী-হালিশহর) আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান। আজ বুধবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৪তম দিনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি চট্টগ্রাম নগরীর জলবদ্ধতা নিরসনে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
সাঈদ আল নোমান বলেন, ‘এই মুহূর্তে চট্টগ্রামের মানুষ পানিতে ভাসছে। আমাদের পানি গলা পর্যন্ত। মানুষ ভাবতে শুরু করেছে, চট্টগ্রামের এই সমস্যা কোনোদিন সমাধান হবে না।’
প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী একজন মানবিক প্রধানমন্ত্রী। তিনি সবসময় মৌলিক জায়গায় হাত দেন। চট্টগ্রামের জন্য যদি প্রথম একটি কাজ করতে হয় তাহলে আমাদের এই জলাবদ্ধতার সমস্যা নিরসন করতে হবে।’
চট্টগ্রাম নগরীর ভয়াবহ জলাবদ্ধতা নিরসনে সংসদে একটি প্রস্তাব তুলে ধরে সাঈদ আল নোমান বলেন, ‘বিভিন্ন গণমাধ্যমে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতার বিষয়টা যেভাবে আমরা দেখছি, সেটাকে যদি চিন্তায় আনি, তাহলে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে কয়েক বছরের মধ্যে একটি ব্যবস্থা নিতে হবে।’
এরপর প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সংবাদমাধ্যমে আমিও দেখেছি অতিবৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম শহরের একটি বড় অংশে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এটি শুধু চট্টগ্রামেরই নয়, সারাদেশের চিত্র। এই জলাবদ্ধতা দূরীকরণে একজন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ ছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তিনি যে খাল খনন করেছিলেন সেই খাল খননের মাধ্যমেই এই জলাবদ্ধতা দূরীকরণ করা যাবে।’
চট্টগ্রামবাসীর উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘এই কষ্টের জন্য আমি আমার অবস্থান থেকে চট্টগ্রাম শহরে বসবাসকারী সব নাগরিকের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। আমরা চেষ্টা করছি যত দ্রুত সম্ভব এই সমস্যাটা থেকে মানুষকে বের করে নিয়ে আসা যায়।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এরইমধ্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের যে প্রশাসক আছেন, উনার সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। উনি এর মধ্যেই সমস্যা সমাধানে চেষ্টা করছেন। কিন্তু এখন তো এটি অনেক বড় একটি জলাবদ্ধতা হয়ে গেছে, স্বাভাবিকভাবেই এটি নিরসনে একটু সময় লাগবে।’
প্রসঙ্গত, বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম নগরীতে গত সোমবার (২৭ এপ্রিল) ও গতকাল মঙ্গলবার ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। বৃষ্টিতে কোথাও হাঁটুসমান, আবার কোথাও বুকসমান পানিতে তলিয়ে যায় বন্দরনগরী। নগরীর মুরাদপুর, জিইসি মোড়, প্রবর্তক মোড়, চকবাজার, নিউমার্কেট, তিন পুলের মাথা, কাতালগঞ্জ, আগ্রাবাদ ও হালিশহরে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো পানিতে তলিয়ে যায়। অনেক এলাকায় ড্রেন উপচে পানি সড়ক ও বাসাবাড়িতে ঢুকে পড়ে।
অনেক সড়কে বুকসমান হওয়ায় বন্ধ হয়ে যায় যানবাহন চলাচল। জলাবদ্ধতায় কার্যত অচল হয়ে যায় চট্টগ্রাম নগরী। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন নগরবাসী। এসময় দুর্ভোগের শিকার সাধারণ মানুষ সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, বন্দরনগরী চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে ৮ হাজার ৬২৬ কোটি টাকার একটি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। ৩৬টি খাল নিয়ে চলমান এই প্রকল্পের কাজ পরিচালনা করছে সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রাম সিটির মেয়র পদে বিএনপিতে আলোচনায় দুই নাম
