সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর ওপর পচা ডিম নিক্ষেপ করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।
মানব পাচারের অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে। আদালত তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে আদালত থেকে হাজতে নেওয়ার পথে তার ওপর পচা ডিম নিক্ষেপ করেন এক ব্যক্তি।
জানা গেছে, তাকে নেওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা মিছিল করে বিভিন্ন স্লোগান দেয়। এর মধ্যে এক ব্যক্তি ডিম নিক্ষেপ করতে থাকেন।
বয়স্ক এবং দাড়িওয়ালা ওই ব্যক্তি বিভিন্ন টিভি চ্যানেলকে বলেন, তিনি ১০টি পচা ডিম নিক্ষেপ করেছেন। ডিমগুলো তিনি বাসা থেকে নিয়ে এসেছিলেন। তিনি বলেন, ছয়-সাতটি ডিম তাঁর গায়ে লেগেছে। বাকিগুলো পুলিশের গায়ে লেগেছে। অসাবধানতাবশত পুলিশের গায়ে লাগায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে আরও কিছু মারা হবে।
কেন পচা ডিম মারা হলো-এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে একসময় রিমান্ডে নিয়ে মারধর করা হয়েছিল। এই রাগে তিনি পচা ডিম মেরেছেন। তবে তিনি নাম প্রকাশ করেননি।
বিকেল ৫টার দিকে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্য দিয়ে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে আদালতে হাজির করা হয়। মাথায় হেলমেট ও বুকে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরিয়ে তাকে আদালতে নেওয়া হয়। তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। শুনানি শেষে আদালত পাঁচ দিনই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে গতকাল সোমবার গভীর রাতে রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকার ২ নম্বর লেনের ১৫৩ নম্বর বাড়ি থেকে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মানব পাচার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদনসহ তাঁকে আদালতে হাজির করা হয়।
প্রসঙ্গত, ২০০৭ সালের এক-এগারোর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী অত্যন্ত ক্ষমতাধর ও কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। তৎকালীন সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি ‘গুরুতর অপরাধ দমনসংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটি’র সমন্বয়ক নিযুক্ত হন। তার নেতৃত্বাধীন এই কমিটির অধীনেই সে সময় দেশজুড়ে ব্যাপক দুর্নীতিবিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়েছিল, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বিতর্কিত ও আলোচিত অধ্যায়।
সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে কথিত ‘মাইনাস টু ফর্মুলা’র মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব পাল্টে ফেলে রাজনীতিকে নতুন চেহারা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ ওঠে।
পরবর্তীতে ২০০৮ সালে লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে নিযুক্ত হন। আওয়ামী লীগ সরকারের টানা তিন মেয়াদে তার চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছিল।
সেনাবাহিনী থেকে অবসরের পর ঢাকায় একটি পাঁচ তারকা মানের হোটেল খুলে ব্যবসা শুরু করেন অবসরপ্রাপ্ত এই সেনা কর্মকর্তা। পাশাপাশি শুরু করেন জনশক্তি রপ্তানির ব্যবসা।
২০১৮ সালে তিনি রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শুরু করেন। এইচ এম এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন। এরপর জাতীয় পার্টির টিকেটে ২০১৮ এবং ২০২৪ সালে দুই দফায় ফেনী-৩ (সোনাগাজী-দাগনভূঞা) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
আরও পড়ুন: ৫ দিনের রিমান্ডে সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী
