, | |

মূলপাতা আইন-আদালত

আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানো মামলায় ৬ জনের মৃত্যুদণ্ড


আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানোর দৃশ্য। ইনসেটে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক এমপি সাইফুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় :৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২:০৩ : অপরাহ্ণ

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ঢাকা-১৯ আসনের সাবেক এমপি মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামসহ ছয় আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজধানীর আশুলিয়ায় পুলিশের গুলিতে নিহতের পর লাশ পোড়ানোর ঘটনায় এ মামলা দায়ের করা হয়েছিল।

আজ বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এই রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারপতি নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন-বিশ্বজিৎ সাহা (পলাতক), রনি ভূইয়া (পলাতক), সাবেক এসআই আব্দুল মালেক, সাবেক কনস্টেবল মুকুল চোকদার, পুলিশের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম (পলাতক), এ.এফ.এম সায়েদ রনি (পলাতক)।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ প্রাপ্তরা হলেন-ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাভার সার্কেলের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শহিদুল ইসলাম, ডিবির সাবেক পরিদর্শক আরাফাত হোসেন আরজু, মোঃ আসাদুজ্জামান রিপন (পলাতক), মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান (পলাতক), নির্মল কুমার দাস (পলাতক)।

এছাড়া সাবেক এসআই আরাফাত উদ্দিন ও কামরুল হাসানকে (পলাতক) সাত বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে রাজসাক্ষী আবজালুলকে ক্ষমা করে দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।

এ মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, ঢাকা জেলা পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, পরিদর্শক মো. আরাফাত হোসেন, এসআই আবদুল মালেক, এসআই আরাফাত উদ্দিন, এএসআই কামরুল হাসান, শেখ আবজালুল হক ও কনস্টেবল মুকুল চোকদার। তবে সাবেক এমপি সাইফুলসহ আটজন এখনও পলাতক রয়েছেন।

 

গত বছরের ২১ আগস্ট এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। ওই সময় উপস্থিত আট আসামির সাতজনই নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। তবে দোষ স্বীকার করেন এসআই শেখ আবজালুল হক। তিনি রাজসাক্ষী হয়ে আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সাভারের আশুলিয়ায় পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান ছয় তরুণ। এরপর পুলিশ ভ্যানে তাদের লাশ তুলে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। নৃশংস এ ঘটনার সময় একজন জীবিত ছিলেন। পেট্রল ঢেলে জীবন্ত মানুষকেই পুড়িয়ে মারা হয়। এ ছাড়া এর আগের দিন একজন শহীদ হয়েছিলেন।

এ ঘটনায় একই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হয়। গত ১৪ সেপ্টেম্বর মামলার সূচনা বক্তব্যে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আশুলিয়ায় সংঘটিত বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দেন তিনি।

আরও পড়ুন: র‌্যাবের নাম বদলে হচ্ছে এসআইএফ

মন্তব্য করুন
Rajniti Sangbad


আরও খবর