, | |

মূলপাতা জাতীয়

কর্নেল সাব ফোন করে বললেন, ‘স্যার, আমরা আপনাকে রক্ষা করবো’


সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন। ছবি: সংগৃহীত
রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় :১৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ১০:০৭ : পূর্বাহ্ণ

আওয়ামী লীগ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন দলের অন্যান্য নেতাদের মতো ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর গা ঢাকা দেন। টানা আট মাস তিনি দেশেই নানা জায়গায় পালিয়ে ছিলেন। ধরা পড়ার ভয়ে ও নিরাপত্তার কারণে একাধিকবার বাসা বদল করেছেন। মোবাইল সিম পরিবর্তন করেছেন ছয়বার। চেহারাতেও এনেছেন বড় ধরনের পরিবর্তন। পরবর্তী সময়ে এক সেনা কর্মকর্তা তাকে ফোন করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বলেন। আব্দুল মোমেন এখন যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্র্রে থাকা এক বাংলাদেশি সাংবাদিক সুলতানা রহমানের সঙ্গে সম্প্রতি ভার্চুয়াল টক শোতে অংশ নিয়ে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন নিজেই তার দেশ ছেড়ে পালানোর কাহিনী তুলে ধরেন।

আব্দুল মোমেন জানান, গণঅভ্যুত্থানের পূর্ববর্তী সময়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রেই ছিলেন। সেখান থেকে কয়েক দিন আগে দেশে ফিরেন। আর তিনি আসার পরপরই গণঅভ্যুত্থান হয়। ফলে তাকেও অন্যদের মতো আত্মগোপনে যেতে হয়েছে।

কীভাবে কোথায় পালিয়ে ছিলেন সেটা তুলে ধরে সাবেক এই পররাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, ‘আমি কোনো আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে যাইনি। আমার সব আত্মীয়-স্বজন পাবলিকলি নোন। আমি অন্যান্য লোকের যেমন রেন্ট হাউসের বাড়িতে ছিলাম। এইটা আমার খুব কাজ দিয়েছে। এক বাসার মালিকের সঙ্গে দেখা হয়েছিলো। সেই মালিককে আমি জিজ্ঞেস করলাম, আপনার এগুলো তো সুন্দর। উনাকে আমি আগে চিনতাম। উনি এসে বললেন; আমরা গার্মেন্টস ব্যবসায়ী। হোটেলে আমাদের বায়ারকে রাখি না। বাসায় রাখি। এজন্য বাসা সুন্দর করে রাখি। এখন যেহেতু দেশে কোনো বায়ার আসতেছে না, কেউ আসলে সিঙ্গাপুর কিংবা ব্যাংকক পর্যন্ত আসে। ঢাকায় ভয় পায় আসে না। সেজন্য সব খালি। তার জন্য আপনি ভাড়া পাচ্ছেন।’

কীভাবে দেশে থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি আব্দুল মোমেন। তিনি বলেন, ‘বিমানবন্দর দিয়ে যাওয়া সম্ভব ছিল না। বিভিন্নভাবে পালিয়ে আসছি। সব বলা সম্ভব নয়, এখনও সময় আসেনি। তবে সত্যি বলতে, সরকারি লোকজনই আমাকে সাহায্য করেছে।’

সাবেক এই পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘‘এটা এক ধরনের সিনেমার মতো। একটা সুন্দর মুভি হবে। আই ওয়াজ দ্য লাস্টম্যান টু লিভ দ্য কান্ট্রি। আমি কোনো অন্যায় করিনি, কাউকে জেলে পাঠাইনি, চুরি-চামারি করিনি। সো আই ওয়াজ কনফিডেন্ট। তাই ভেবেছিলাম, আমি কেন পালাবো? কিন্তু যখন কর্নেল সাব ফোন করে বললেন, ‘স্যার, আমরা আপনাকে রক্ষা করবো, স্যার আপনার নাম্বার পেয়ে গেছে। এখান থেকে পালান। এখান থেকে চলে যান। তখন বাধ্য হয়ে পালাতে হলো।’’

 

পালানোর সময় চেহারা পরিবর্তন করার কথা জানিয়ে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘আমি পালিয়ে পালিয়ে ছিলাম। যাতে বাইরে কেউ না চিনতে পারে, মবের জ্বালায়। সেজন্য চেহারা-টেহারা সব পরিবর্তন করে ফেলেছি। যখন নাপিতের কাছে গেলাম, এক বাসায় গেলাম সার্টেন টাইমে। ওই বাসায় এক নাপিত এলো। সেটি আমার বাসা না। আরেকজনের বাড়িতে। যাতে ওই নাপিত কাউকে বলতে পারে না কোথায় আমার সঙ্গে দেখা হয়েছে। এটা লং স্টোরি। বহুত কষ্ট করে বের হয়েছি। আমার বউয়ের প্রেসারে ও উনার বুদ্ধিতে বের হয়েছি। এই যে বের হইছি কিছু জানি না। কারণ আমি তো ফোনে কথা বলতে পারি না। সি মেক দিস এরেঞ্জমেন্ট।’

সাবেক এই পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে অনেক ফড়িয়া আছে আপনাকে বিদেশ পাঠানোর জন্য। ওগুলো সবগুলোই মানি মেকিং। শুধু টাকা নেয়। আমি জীবিত আছি। আর মানুষের দোয়া। বহু লোক আমার জন্য দোয়া করেছে। ওমরাহ্‌ হজ করেছে। আমি তো অনেককেই চিনি না। বাট ডিড ইট।’

অন্তর্বতী সরকারের সমালোচনা করে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘দেশটাকে বাঁচাতে হবে। দেশটাকে জঙ্গি দেশ বানাতে চাই না। এ ব্যাপারে সবার উদ্যোগ নেওয়া দরকার।’

সাবেক এই পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের পতনের কারণ নিয়েও বিশ্লেষণ করেন। এই পতনের পেছনে বিদেশি শক্তির হাত আছে বলে ইঙ্গিত দেন। তিনি নানা সময় সরকারকে সতর্ক করেছেন বলেও জানান।

আরও পড়ুন: বিএনপি নেতার মৃত্যু: অভিযানে অংশ নেওয়া সব সেনা সদস্যকে প্রত্যাহার

মন্তব্য করুন
Rajniti Sangbad


আরও খবর