সরকারবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে ইরান। দেশটির রাজধানী তেহরানে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনে এক রাতেই দুই শতাধিক বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রভাবশালী সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাতে তেহরানে বিক্ষোভ চরম আকার ধারণ করে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি সহিংস হয়ে উঠলে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে নিরাপত্তা বাহিনী ব্যাপক গুলি চালায়। এতে প্রাণ হারান বহু মানুষ।
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি প্রতিবাদে গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে বিক্ষোভ শুরু হয়, তবে এখন তা সরকার বিরোধী বিক্ষোভে রূপ নিয়েছে। বিক্ষোভ দমনে বিভিন্ন স্থানে গুলি চালিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী।
তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর কেরমানশাহে বিক্ষোভ চলাকালে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) আট সদস্য নিহত হয়েছেন।
তেহরানের একজন চিকিৎসক যুক্তরাষ্ট্রের টাইম ম্যাগাজিনকে জানিয়েছেন, রাজধানীর মাত্র ছয়টি হাসপাতালে কমপক্ষে ২১৭ জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে। এদেরমধ্যে বেশিরভাগই মারা গেছেন গুলিবিদ্ধ হয়ে।
হতাহতের এই সংখ্যার বিষয়ে অবশ্য ইরানের সরকার এখনো কোনো মন্তব্য করেনি। এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে প্রায় সম্পূর্ণভাবে দেশটিতে ইন্টারনেট ও টেলিযোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়। ওই চিকিৎসক দাবি করেন, শুক্রবার হাসপাতাল থেকে লাশ সরিয়ে নিয়ে যায় কর্তৃপক্ষ। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নিহতদের বেশিরভাগই তরুণ।
টাইম ম্যাগাজিনের মতে, এই মৃত্যুর তথ্য সত্য হলে এটি প্রমাণ করে যে সরকার বিক্ষোভ দমনে কঠোর ও সহিংস পদক্ষেপ নিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া সতর্কবার্তাও কার্যত উপেক্ষিত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ট্রাম্প এর আগে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, বিক্ষোভকারীদের হত্যার জন্য ইরান সরকারকে চড়া মূল্য দিতে হবে।
শুক্রবার ইরানি মানবাধিকার সংগঠন এইচআরএএনএ শুক্রবার জানায়, ২৮ ডিসেম্বর বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে অন্তত ৬২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৪ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং ৪৮ জন বিক্ষোভকারী।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ডিসেম্বর ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলন শুরু হয়, যা বর্তমানে দেশের অন্তত ৩১টি শহরে ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার রাতের রক্তক্ষয়ী ঘটনার পরও শুক্রবার রাতে তেহরানসহ বিভিন্ন এলাকায় হাজারো মানুষ আবার রাস্তায় নামেন।
আরও পড়ুন: মার্কিন আদালতে মাদুরো বললেন, ‘আমাকে অপহরণ করা হয়েছে’
