, | |

মূলপাতা আন্তর্জাতিক

মার্কিন আদালতে মাদুরো বললেন, ‘আমাকে অপহরণ করা হয়েছে’


ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আদালতে নেওয়া হচ্ছে।
রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় :৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ১০:২৪ : পূর্বাহ্ণ

যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে অস্ত্র ও মাদকসংক্রান্ত মামলায় নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। বিচারকের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি আমার দেশের প্রেসিডেন্ট।’ একই সাথে তিনি দাবি করেন যে, তাকে অপহরণ করে নিয়ে আসা হয়েছে। মাদুরোর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসও মাদক সংক্রান্ত অভিযোগ অস্বীকার করে আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।

এর আগে গত শনিবার গভীর রাতে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে সামরিক অভিযান চালিয়ে মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে তুলে নিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর ডেল্টা ফোর্সের সেনারা।

মাদুরোর নিযুক্ত আইনজীবী আদালতকে জানান, তার ক্লায়েন্ট এখনই জামিন চাইছেন না। তবে ভবিষ্যতে চাইবেন। আদালত মাদুরোর মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন আগামী ১৭ মার্চ।

সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, আদালতের ভেতর একজন স্প্যানিশ ভাষায় চেঁচিয়ে মাদুরোকে উদ্দেশ করে বলতে থাকেন ‘আপনি যা করেছেন তার জন্য মূল্য দিতে হবে।’ ওই সময় মাদুরো স্প্যানিশ ভাষায় জবাব দেন, ‘আমি একজন অপহৃত প্রেসিডেন্ট, যুদ্ধবন্দি।’

 

এরপর তাকে আদালত থেকে বের করে নেওয়া হয়। পরে আদালতের পোডিয়ামে তোলা হয় তার স্ত্রীকে। ওই সময় সেখানে থাকা একজন কাঁদছিলেন। তাকে তখন বিচারক বের হয়ে যেতে বলেন।

মাদুরোর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে তিনি একটি কোকেন পাচার নেটওয়ার্ক তদারকি করতেন। এই নেটওয়ার্ক মেক্সিকোর সিনালোয়া ও জেটাস কার্টেল, কলম্বিয়ার ফার্ক বিদ্রোহী গোষ্ঠী এবং ভেনেজুয়েলার ত্রেন দে আরাগুয়া গ্যাংসহ সহিংস সংগঠনগুলোর সাথে জোটবদ্ধ ছিল।

তবে মাদুরো দীর্ঘদিন ধরেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তার দাবি, এসব অভিযোগ আসলে ভেনেজুয়েলার সমৃদ্ধ তেলভান্ডারের ওপর সাম্রাজ্যবাদী নকশা বাস্তবায়নের একটি অজুহাত।

ভেনেজুয়েলার সংসদীয় অধিবেশনে যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে থাকা অপসারিত নেতা নিকোলাস মাদুরোর মুক্তির দাবির মধ্যেই গতকাল সোমবার ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ পড়ানো হয়েছে। ৫৬ বছর বয়সী রদ্রিগেজ ২০১৮ সাল থেকে ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি বলেন, মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী শনিবার রাতে যে অভিযানে আটক করেছে, তা তার কাছে অপহরণ বলে মনে হয়েছে এবং এতে তিনি গভীরভাবে ব্যথিত। তাকেও হুমকি দিয়ে রাখেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি বলেন, রদ্রিগেজ যদি যুক্তরাষ্ট্রের কথা না শোনেন তাহলে তাকেও মাদুরোর চেয়ে কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে।

আরও পড়ুন: ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে যেভাবে তুলে আনে মার্কিন বাহিনী

মন্তব্য করুন
Rajniti Sangbad


আরও খবর