বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ | ১৩ ফাল্গুন, ১৪৩২ | ৮ রমজান, ১৪৪৭

মূলপাতা চট্ট-মেট্টো

আটকে গেলো শিপিং এজেন্টস এসোসিয়েশনের ভোটের চূড়ান্ত ফল



রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
প্রকাশের সময় : ২ জানুয়ারি ২০২৬, ২:১৫ অপরাহ্ণ

‘একেপেশে’ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে উল্লাসে মেতে উঠেছিলেন তারা। একে অপরের গলায় জয়ের মালা পরিয়ে দেন। ‘ভি’ চিহ্ন দেখিয়ে হাসিমুখে ফটোসেশনও করেন তারা। একে অপরকে মিষ্টিমুখও করান। কিন্তু নেতৃত্বের আসনে বসার আগেই তাদের এই বিজয়ের আনন্দ বিষাদে পরিণত হয়।

গত ২৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে নেতৃত্বের আসনে বসতে পারেনি ঐক্য পরিষদ! নির্বাচনের পরদিন ২৯ ডিসেম্বর সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগ শিপিং এজেন্টস এসোসিয়েশনের নির্বাচনের ওপর স্থিতাবস্থা জারি করে। এর ফলে নির্বাচন বোর্ড আর ভোটের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করতে পারেনি। এতে কপাল পুড়ে গলায় জয়ের মালা পরা ঐক্য পরিষদের প্রার্থীদের।

শিপিং এজেন্টস এসোসিয়েশনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, নির্বাচনের দিন প্রাথমিক ফলাফল ঘোষণা হবে। এরপর নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে কোনো প্রার্থীর অভিযোগ থাকলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নির্বাচন আপিল বোর্ডের কাছে আপিল করবে। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আপিল বোর্ড অভিযোগকারীর আপিল নিষ্পত্তি করবে। অর্থাৎ কোনো প্রার্থীর অভিযোগ থাকলে নির্বাচনের চারদিন পর নির্বাচন বোর্ড চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করবে। তবে গত ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে কোনো প্রার্থীর অভিযোগ না থাকলেও ভোটের পরদিন আপিলের সুযোগ থাকার কারণে ওইদিন চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করতে পারেনি নির্বাচন বোর্ড। এরই মধ্যে নির্বাচন বোর্ডের কাছে সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগ থেকে নির্বাচনের ওপর স্থিতাবস্থার নোটিশ আসে।

এর আগে গত ৯ অক্টোবর বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ভোটের মাত্র দুই দিন আগে নির্বাচন স্থগিত করে শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনে প্রশাসক নিয়োগ দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। প্রশাসককে ১২০ দিনের মধ্যে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিলো। তিন শিপিং ব্যবসায়ী আহসান ইকবাল চৌধুরী, সাকিবুল ইসলাম ও সৈয়দ ইকবাল আলী শিমুলের অভিযোগের প্রেক্ষিতে শুনানি করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এই আদেশ দিয়েছিলো।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এই আদেশ চ্যালেঞ্জ করে গত ৭ অক্টোবর হাইকোর্টে রিট করেন শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ঐক্য পরিষদের প্যানেল লিডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন চৌধুরী। গত ৯ অক্টোবর হাইকোর্ট রিট নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনের ওপর স্থিতাবস্থা জারি করে। গত ৮ ডিসেম্বর হাইকোর্টে এই রিট নিষ্পত্তি হয়। রিটের রায়ের পর্যবেক্ষণে হাইকোর্ট নির্দেশনা দেয়, দুই মাসের মধ্যে নতুন করে শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। কিন্তু নির্বাচন বোর্ড নতুন তফসিল ঘোষণা না করে আগের তফসিল অনুযায়ী গত ২৮ ডিসেম্বর নির্বাচন আয়োজন করে।

হাইকোর্টের নির্দেশনা লঙ্ঘনের অভিযোগে দুই শিপিং ব্যবসায়ী ট্রাইকন গ্লোবাল লজিস্টিকসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ ইকবাল আলী শিমুল ও বেনোসিয়ান মেরিটাইম লিমিটেড ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগে রিটের বিরুদ্ধে পৃথকভাবে লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) করেন। এর মধ্যে ইকবাল আলী শিমুল আপিল করেন ২৯ ডিসেম্বর আর আনোয়ার হোসেন আপিল করেন ২৪ ডিসেম্বর। গত ২৯ ডিসেম্বর আপিল বিভাগ দুটি আবেদনের আপিলের অনুমতি দেয় এবং শিপিং এজেন্টস এসোসিয়েশনের নির্বাচনের ওপর স্থিতাবস্থা জারি করে। আগামী ১১ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে লিভ টু আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

কেন হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী নতুন তফসিলে নির্বাচন আয়োজন করা হয়নি-নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান কমডোর (অব.) এ জেড এম জালাল উদ্দিনের কাছে এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ঐক্য পরিষদের প্যানেল লিডার ক্যাপ্টেন সালাহউদ্দিন চৌধুরী রাজনীতি সংবাদকে বলেন, ‘নতুন নির্বাচন বলতে নতুন করে ভোটের তারিখের নোটিশ জারি করা আর নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য ভোটারদের সময় দেওয়া। সে অনুযায়ী নির্বাচন বোর্ড নির্বাচন করেছে। যদি নতুন করে তফসিল ঘোষণা করা হতো, তাহলে ৯০ দিনের আগে নির্বাচন আয়োজন করা যেতো না।’

বেনোসিয়ান মেরিটাইম লিমিটেড ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেনের আইনজীবী হাসান মোহাম্মদ রিয়াদ রাজনীতি সংবাদকে বলেন, ‘রিটের রায়ের পর্যবেক্ষণে হাইকোর্ট নতুন নির্বাচন আয়োজনের নির্দেশনা দিয়েছিলেন। কিন্তু নির্বাচন বোর্ড তা আমলে নেয়নি। যেহেতু আগের তফসিলে নির্বাচন হয়নি, তাই হাইকোর্ট নতুন নির্বাচনের কথা বলেছেন। আর হাইকোর্ট নতুন করে নির্বাচন আয়োজনের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য সংগঠনের ডিটিও, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব, শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের প্রশাসক এবং চট্টগ্রামের ডিসি ও বিভাগীয় কমিশনারকে নির্দেশনা দিয়েছিলেন। কিন্তু নির্বাচন বোর্ড সরকারি এই ছয় কর্মকর্তাকে অবহিত না করে নির্বাচন আয়োজন করে। এতে হাইকোর্টের নির্দেশনা লঙ্ঘন করা হয়েছে।’

ট্রাইকন গ্লোবাল লজিস্টিকসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ ইকবাল আলী শিমুলের আইনজীবী এ এস আই এম রিজোয়ান সিদ্দিকী রাজনীতি সংবাদকে বলেন, ‘বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে ১২০ দিনের মধ্যে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের নির্দেশ দিয়েছিলো। কিন্তু তা বাস্তবায়ন হয়নি। এসব কারণে আমরা লিভ টু আপিল করেছি।’

এদিকে গত ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচনে ২৪টি পদের সবকটিতে বিজয়ী হয় ঐক্য পরিষদের প্রার্থী। তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী সম্মিলিত পরিষদের ৭ সদস্য নির্বাচনে প্রার্থী হলেও তারা কেউ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি। তারা ভোট বর্জন করেন। ভোটের এক সপ্তাহ আগে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান সম্মিলিত পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী আহসান ইকবাল চৌধুরী আবির। ‘একেপেশে’ এই নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় ঐক্য পরিষদের প্রার্থী নাফ মেরিন সার্ভিসেসের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার ক্যাপ্টেন সালাহউদ্দিন চৌধুরী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ভেগা মেরিন (প্রা.) লিমিটেডের পরিচালক আহসানুল হক চৌধুরীর মধ্যে। তবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মাত্র ৮ ভোট পান আহসানুল হক চৌধুরী। নির্বাচনে ভোটার ছিল ১৬১ জন। এর মধ্যে ভোট দেয় ৮৩ জন।

আরও পড়ুন: রিট খারিজ, চিটাগাং চেম্বার নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে টাউন-ট্রেড গ্রুপ

মন্তব্য করুন
Rajniti Sangbad


আরও খবর