, | |

মূলপাতা জাতীয়

কফিনবন্দি হয়ে দেশে ফিরলেন শহীদ ওসমান হাদি


কফিনবন্দি হয়ে দেশে ফিরলেন শহীদ ওসমান হাদি। ছবি: সংগৃহীত
রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় :১৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ ৬:০৪ : অপরাহ্ণ

সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদির মরদেহ ঢাকায় পৌঁছেছে। আজ শুক্রবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে তার মরদেহ বহনকারী বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

এর আগে বাংলাদেশ সময় আজ দুপুর ২টা ‌৩ মিনিটে সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইটটি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়।

শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে ওসমান হাদির মরদেহ জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের হিমঘরে নেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে আগামীকাল শনিবার তার মরদেহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে নেওয়া হবে। সেখান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ওসমান হাদির মরদেহে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন।

আগামীকাল শনিবার দুপুর ২টায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে ওসমান হাদির জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পাশে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে দাফন করা হবে।

কথা ছিল জনপ্রতিনিধি হয়ে রুখবেন অন্যায়-অনাচার। কিন্তু সব থেমে গেল একটি বুলেটে। দেশি-বিদেশি হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে টানা সাতদিনের লড়াই শেষে নিথর দেহে বাংলাদেশে ফিরছেন ওসমান হাদি। তার লাল-সবুজের কফিন যেন এক অসমাপ্ত প্রতিশ্রুতি। তবে রেখে গেলেন সাহস, প্রতিবাদ আর বিদ্রোহের মতো কিছু শব্দ।

লাশবন্দি কফিন নিয়ে আজ শুক্রবার দুপুরে ওসমান হাদির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট করা হয়। এতে লেখা হয়, ‘হারাম খাইয়া আমি এত মোটাতাজা হই নাই, যাতে আমার স্পেশাল কফিন লাগবে! খুবই সাধারণ একটা কফিনে হালাল রক্তের হাসিমুখে আমি আমার আল্লাহর কাছে হাজির হবো।’ যদিও গুলিবিদ্ধ হওয়ার আগেই এমন মন্তব্য করেছিলেন জুলাইয়ের অন্যতম নায়ক ওসমান হাদি।

উল্লেখ্য, আততায়ীর বুলেটে বিদ্ধ হয়ে টানা সাত দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেছেন চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের সামনের সারির অকুতোভয় যোদ্ধা শরিফ ওসমান বিন হাদি। বাংলাদেশ সময় গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

 

উন্নত চিকিৎসার জন্য ওসমান হাদিকে গত ১৫ ডিসেম্বর দুপুর পৌনে ২টার দিকে ঢাকা শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে তাকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওসমান হাদির চিকিৎসার যাবতীয় ব্যয় সরকার বহন করছে।

গত ১২ ডিসেম্বর দুপুর সোয়া ২টার দিকে রাজধানীর বিজয়নগরের পানির ট্যাংকির সামনে রিকশায় করে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেলে আসা দুই দুর্বৃত্ত খুব কাছ থেকে ওসমান হাদিকে গুলি করে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। তিনি সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজপথ, ক্যাম্পাস ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্পষ্ট রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসেন ওসমান হাদি। জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে অভ্যুত্থানের ইতিহাস ধরে রাখতে তিনি গড়ে তোলেন ইনকিলাব মঞ্চ। রাজনৈতিক এই প্লাটফর্মের মাধ্যমে হাদি দেশের মানুষের কাছে একজন পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। তার কর্মকাণ্ড দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

হাদীর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার শুরু নলছিটির একটি মাদ্রাসায়। তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত সেখানে পড়াশোনার পর তিনি ঝালকাঠি এন এস কামিল মাদ্রাসায় ভর্তি হন এবং আলিম পরীক্ষা সম্পন্ন করেন। পরে উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি রাজধানী ঢাকায় এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনেই তার রাজনৈতিক চিন্তা ও নেতৃত্বগুণ আরও বিকশিত হয়।

ওসমান হাদি ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলা শহরের খাসমহল এলাকার মৃত মাওলানা সৈয়দ আব্দুল হাদির ছোট ছেলে। হাদির ওপর হামলার ঘটনার পর প্রতিবেশীরা ওসমান হাদিদের বাসায় ছুটে এসে তাদের সান্ত্বনা দেন। এ সময় হাদির বোন মাহফুজা বেগম কান্নারত অবস্থায় বলতে থাকেন, ‘পার্শ্ববর্তী দেশের গোয়েন্দা সংস্থা তোরে (হাদি) বাঁচতে দেবে না।’

আরও পড়ুন: এক সাহসী কণ্ঠের প্রস্থান

মন্তব্য করুন
Rajniti Sangbad


আরও খবর