আওয়ামী লীগের বিগত ১৬ বছরের শাসনামলে গুম, নির্যাতন ও খুনের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের দুই মামলায় ১৩ সেনা কর্মকর্তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।
আজ রোববার সকাল ১০টার দিকে বিশেষ প্রিজন ভ্যানে এসব সেনা কর্মকর্তাদের ট্রাইব্যুনাল-১ আনা হয়। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ গুমের দুই মামলার শুনানি হবে।
এ মামলার পরবর্তী শুনানির দিন সেনাকর্মকর্তাদের সশরীরে উপস্থিতির পরিবর্তে ভার্চুয়ালি হাজিরা দেওয়ার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন সেনাকর্মকর্তাদের পক্ষের আইনজীবীরা।
ট্রাইব্যুনালে আনা ১৩ সেনা কর্মকর্তা হলেন-র্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, ব্রিগেডিয়ার কেএম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান (অবসরকালীন ছুটিতে), র্যাবের গোয়েন্দা শাখার সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মশিউর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম, ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী।
এদিকে ট্রাইব্যুনাল ঘিরে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মোতায়েন করা হয়েছে বাড়তি পুলিশ, র্যাব, বিজিবি।
এর আগে মানবতাবিরোধী অপরাধের পৃথক দুই মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার নিরাপত্তা উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল তারিক আহমেদ সিদ্দিক ও ডিজিএফআইয়ের সাবেক পাঁচ মহাপরিচালকসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে গত ৮ অক্টোবর গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। যার মধ্যে ২৫ জনই সাবেক ও বর্তমান সেনাকর্মকর্তা। একইদিন প্রসিকিউশন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে।
পরবর্তীতে সেনাবাহিনীর হেফাজতে থাকা ১৫ কর্মকর্তাকে ২২ অক্টোবর সাধারণ পোশাকে বিশেষ প্রিজন ভ্যানে করে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। শুনানি শেষে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। পরে তাদের ঢাকা সেনানিবাসের ঘোষিত সাবজেলে নেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: হাসিনা-কামালকে দেশে আনতে যে পথে হাঁটছে সরকার
