, | |

মূলপাতা আইন-আদালত

হাসিনা ও কামালের মৃত্যুদণ্ডের আবেদন


শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামাল
রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় :১৬ অক্টোবর, ২০২৫ ৩:১৯ : অপরাহ্ণ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ডের আবেদন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।

আজ বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এ যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের শেষ দিনে এই আবেদন করেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

চিফ প্রসিকিউটর আদালতকে বলেন, ১৪০০ নিরীহ ছাত্র ও সাধারণ মানুষকে হত্যার দায়ে এই দুইজনকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া জরুরি। তার ভাষায়, ‘একজন মানুষকে হত্যার জন্য যদি মৃত্যুদণ্ড হয়, তাহলে ১৪০০ জনের হত্যার দায়ে শেখ হাসিনাকে ১৪০০ বার ফাঁসি হওয়া উচিত। কিন্তু আইনে তা সম্ভব না। তাই আমরা তার মৃত্যুদণ্ড চাই।’

এই মামলার মোট তিনজন আসামি। শেখ হাসিনা ও কামালের পাশাপাশি তৃতীয় আসামি সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুন। তিনি এরই মধ্যে নিজেকে দোষী স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন এবং রাজসাক্ষী হয়েছেন।

প্রসিকিউশন বলেছে, মামুন জবানবন্দিতে ঘটনার পূর্ণ সত্য তুলে ধরেছেন। তবে তার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে ট্রাইব্যুনাল।

এদিকে মামলার দুই প্রধান আসামি হাসিনা ও কামাল বর্তমানে পলাতক। তাদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য সময় প্রার্থনা করেন। ট্রাইব্যুনাল তাকে আগামী সোমবার থেকে যুক্তিতর্ক শুরু করতে নির্দেশ দিয়েছেন। ২৮ কার্যদিবসে এ মামলায় ৫৪ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

গত ১০ জুলাই শেখ হাসিনা, কামাল ও মামুনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। এ মামলায় তাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ আনে প্রসিকিউশন। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ মোট আট হাজার ৭৪৭ পৃষ্ঠার। এর মধ্যে তথ্যসূত্র দুই হাজার ১৮ পৃষ্ঠার, জব্দতালিকা ও দালিলিক প্রমাণাদি চার হাজার পাঁচ পৃষ্ঠার ও শহীদদের তালিকার বিবরণ দুই হাজার ৭২৪ পৃষ্ঠার। সাক্ষী করা হয়েছে ৮১ জনকে। গত ১২ মে চিফ প্রসিকিউটরের কাছে এ মামলার প্রতিবেদন জমা দেন ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তারা।

আরও পড়ুন: কথার কথা নয়, ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন: প্রধান উপদেষ্টা

মন্তব্য করুন
Rajniti Sangbad


আরও খবর