বড় ধরনের অনিয়ম বা অভিযোগ ছাড়াই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে। এবার ফলাফলের অপেক্ষায় শিক্ষার্থীরা। ফলাফল গণনা করতে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে বলে জনিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের সদস্য ও আইটি সেলের প্রধান অধ্যাপক সাইদুর রহমান চৌধুরী।
নির্বাচন কমিশনের সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. এ.কে.এম আরিফুল হক সিদ্দিকী জানিয়েছেন, নির্বাচনে মোট ভোট পড়েছে ৬০ শতাংশ।
এর আগে আজ বুধবার সকাল ৯টা সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ক্যাম্পাসের পাঁচটি ভবনে শুরু হওয়া ভোট বিরতিহীনভাবে চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।
নির্বাচনে ভোট গ্রহণ হয়েছে ব্যালট পেপারে, আর গণনা করা হচ্ছে ওএমআর (অপটিক্যাল মার্ক রিডার) পদ্ধতিতে। ভোট গণনার পুরো প্রক্রিয়া সরাসরি দেখানো হচ্ছে ১৪টি এলইডি স্ক্রিনের মাধ্যমে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মনির উদ্দিন বলেন, চাকসু নির্বাচনে হাতে লাগানো অমোচনীয় কালি উঠে যাওয়াসহ বিচ্ছিন্ন কিছু অভিযোগ ছাড়া সার্বিকভাবে ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনে মোট ভোটার ছিল ২৭ হাজার ৫১৭ জন। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় পাঁচটি অনুষদের ১৫টি কেন্দ্রে, যেখানে ৬০টি কক্ষে ৬৮৯টি বুথে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়।
কেন্দ্রীয় ও হল সংসদ মিলিয়ে এবার মোট ৯০৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় সংসদের ২৬টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন ১৩টি প্যানেল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলিয়ে ৪১৫ জন, আর হল সংসদে ৪৯৩ জন প্রার্থী অংশ নিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ১৯৬৬ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর প্রথম চাকসু নির্বাচন হয় ১৯৭০ সালে। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি বছর নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তা আয়োজন করতে পারেনি। সর্বশেষ চাকসু নির্বাচন হয়েছিল ১৯৯০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর মাত্র ছয়বার এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আরও পড়ুন:
জাকসুর ভিপি স্বতন্ত্র প্যানেলের জিতু, জিএস শিবিরের মাজহারুল
ডাকসুর ভিপি, জিএস ও এজিএস পদে শিবিরের জয়জয়কার
