রাজনীতি সংবাদ প্রতিবেদক, ঢাকা
প্রকাশের সময় : ১৪ অক্টোবর ২০২৫, ৬:৪৫ অপরাহ্ণ
২০ শতাংশ হারে বাড়িভাড়াসহ তিন দফা দাবি মেনে নেওয়া না হলে আমরণ অনশনের ডাক দিয়েছেন আন্দোলনরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা।
আজ মঙ্গলবার বিকেলে শিক্ষকরা শহীদ মিনার থেকে ‘মার্চ টু সচিবালয়’ পদযাত্রা কর্মসূচি শুরু করেন। তবে হাইকোর্টের কাছাকাছি যেতেই সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে শিক্ষকদের আটকে দেয় পুলিশ। এরপর সেখানেই সড়কে অবস্থান নিয়ে শিক্ষকরা আমরণ অনশনের ডাক দেন।
এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোটের সদস্যসচিব অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজী বলেন, ‘আমরা এখানে (হাইকোর্টের সামনে) অবস্থান করবো। আগামীকাল বুধবার বেলা ১১টার মধ্যে যদি আমাদের দাবি মানা না হয়, তাহলে আমরা শাহবাগে অবস্থান নেবো। তারপরও যদি দাবি না মানা হয়, আমরা যমুনায় যাবো। এরপরও দাবি পূরণ না হলে আমরা আমরণ অনশনে বসবো।’
এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা তিন দিন ধরে আন্দোলন করছেন। দু’দিন ধরে চলছে কর্মবিরতি।
পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শিক্ষকরা শহীদ মিনার থেকে ‘মার্চ টু সচিবালয়’ পদযাত্রা কর্মসূচি শুরু করেন। তবে হাইকোর্টের কাছাকাছি যেতেই সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে শিক্ষকদের আটকে দেয় পুলিশ। এরপর সেখানেই বসে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষকরা।
ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম বলেন, ‘শিক্ষকরা এখানে তাদের দাবি জানাচ্ছেন, জানাক। আমরা সকাল থেকেই উনারের সঙ্গে যোগাযোগ করে বোঝানোর চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু উনাদের দাবি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ততো নেবে মন্ত্রণালয়।’
এর আগে গত রোববার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মূল বেতনের ২০ শতাংশ বাড়ি ভাড়া ভাতা, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের চিকিৎসাভাতা ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৫০০ টাকা করা এবং এমপিওভুক্ত কর্মচারীদের উৎসব ভাতা মূল বেতনের ৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭৫ শতাংশ করার দাবিতে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষক-কর্মচারীরা।
পুলিশ জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সড়ক থেকে শিক্ষকদের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে চলে যেতে বলে। কিন্তু শিক্ষকদের একটা অংশ তা মানতে রাজি হয়নি। তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ভুয়া ভুয়া বলতে থাকে। একপর্যায়ে পুলিশ পর পর বেশ কিছু সাউন্ড গ্রেনেড ছুঁড়ে ও লাঠিচার্জ করে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সড়ক থেকে শিক্ষকদের সরিয়ে দেয়।
শিক্ষকদের ওপর ‘পুলিশি হামলার’ প্রতিবাদে সোমবার থেকে সব বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মবিরতি ঘোষণা করা হয়।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়িভাড়া ৫০০ টাকা বাড়িয়েছে সরকার; তবে গত ৫ অক্টোবর এই ঘোষণা প্রকাশ্যে এলে শিক্ষকরা তা প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন।
এরপর গত ৬ অক্টোবর এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়ি ভাড়া ভাতা অন্তত দুই হাজার বা তিন হাজার টাকা করার প্রস্তাব অর্থ বিভাগে পাঠায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী বেতন পান। তারা মূল বেতনের সঙ্গে মাসে ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা পান। আর ১ হাজার টাকা বাড়িভাড়া ভাতা পেতেন, যা বাড়িয়ে ৫০০ টাকা করা হয়েছে।
এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা আগে বছরে ২৫ শতাংশ হারে বছরে দুইটি উৎসব ভাতা পেলেও গত মে মাসে বাড়ানোর পর তারা ও এমপিওভুক্ত কর্মচারীরা মূল বেতনের ৫০ শাতাংশ হারে উৎসব ভাতা পাচ্ছেন।
আরও পড়ুন: রাতে হঠাৎ মার্কিন দূতাবাসের নিরাপত্তা জোরদার
