সেনাবাহিনীকে গাজা দখলের অভিযান থামানোর নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েল সরকার। ফিলিস্তিনের গাজায় যুদ্ধবিরতিতে যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি পরিকল্পনার প্রস্তাবে হামাস আংশিকভাবে রাজি হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত আসে।
ইসরায়েলের সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত ‘আর্মি রেডিও’র প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আর্মি রেডিও জানিয়েছে যে, স্থলভাগে যেখানে সেনারা কঠোরভাবে প্রতিরক্ষামূলক কৌশল অবলম্বন করছেন সেখানে রাজনৈতিক নেতারা ‘অভিযান ন্যূনতম’ করার আহ্বান জানিয়েছেন। ইসরায়েল ও মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যে রাতভর আলোচনার পর এই নির্দেশ জারি করা হয়েছে।
আর্মি রেডিওর সামরিক সংবাদদাতা ডোরন কাদোশ বলেছেন, ইসরায়েলের ‘রাজনৈতিক মহল’ সেনাবাহিনীকে গাজায় কার্যকলাপ কমিয়ে আনতে এবং কেবল ‘প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ’ করার নির্দেশ দিয়েছে।
তিনি সামাজিক মাধ্যম এক্সে এক পোস্টে লিখেছেন, গাজা শহর জয়ের অভিযান অবরুদ্ধ করা হয়েছে এবং আপাতত স্থগিত করা হয়েছে।
এর আগে গত ২৯ সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউসে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০ দফা শান্তি প্রস্তাব প্রকাশ করেন।
প্রস্তাব অনুযায়ী, যদি হামাস যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়, তাহলে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ইসরায়েলি জীবিত ও মৃত সব জিম্মিকে মুক্তি দিতে হবে, যার মাধ্যমে গাজায় একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী হামাসকে গাজার নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি ছেড়ে দিতে হবে এবং এরপর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে নিয়ে ‘দ্য বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি প্রশাসন নামে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হবে।
ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে বলেন, ‘যেসব বিষয় এখনো চূড়ান্ত হয়নি, সেগুলো নিয়ে আমরা বিস্তারিত আলাপ-আলোচনা করছি। এটি শুধু গাজা নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘকাল ধরে প্রত্যাশিত শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা।’
এদিকে বন্দিবিনিময়ে রাজি হলেও গাজার ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থা ও ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার সম্পর্কিত অন্যান্য বিষয় নিয়ে হামাস আরও আলোচনা করতে চায়। সংগঠনটি বলেছে, বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা চলছে।
আরও পড়ুন: প্রস্তাবে রাজি হামাস, ইসরায়েলকে গাজায় হামলা থামাতে বললেন ট্রাম্প
