রাজনীতি সংবাদ প্রতিনিধি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশের সময় : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ৭:২৯ অপরাহ্ণ
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করা হয়েছে। এতে সহসভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হয়েছেন স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী সম্মিলন প্যানেলের আব্দুর রশিদ জিতু। আর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) নির্বাচিত হয়েছেন ছাত্রশিবির সমর্থিত সমন্বিত শিক্ষার্থী জোটের মাজহারুল ইসলাম।
আজ শনিবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে এই ফলাফল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মো. মনিরুজ্জামান।
ডাকসু নির্বাচনের মতো জাকসুতেও ছাত্রশিবির সমর্থিত জোট ভূমিধস জয় পেয়েছে। ঘোষিত ফল অনুযায়ী, ভিপি ছাড়া প্রায় অধিকাংশ পদেই জয়লাভ করেছে ছাত্রশিবির সমর্থিত সমন্বিত শিক্ষার্থী জোটের প্রার্থীরা।
দুটি এজিএস (পুরুষ ও নারী) পদে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের ফেরদৌস আল হাসান ও আয়েশা সিদ্দিকা মেঘলা নির্বাচিত হয়েছেন।
ভিপি পদে আব্দুর রশিদ জিতু ৩৩৩৪ ভোট, জিএস পদে মাজহারুল ইসলাম ৩৯৩০, এজিএস (পুরুষ) পদে ফেরদৌস আল হাসান ২৩৫৮ ও এজিএস (নারী) পদে আয়েশা সিদ্দিকা মেঘলা ৩৪০২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।
আরও নির্বাচিত হয়েছেন শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক পদে আবু ওবায়দা ওসামা (শিবির প্যানেল), পরিবেশ ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক পদে মো. শাফায়েত মীর (শিবির প্যানেল), সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে মো. জাহিদুল ইসলাম (শিবির প্যানেল), সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে মহিবুল্লাহ শেখ জিসান (স্বতন্ত্র)/আলী জাকি শাহরিয়ার (শিবির প্যানেল), সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে মো. রায়হান উদ্দীন (শিবির প্যানেল), নাট্য সম্পাদক পদে মো. রুহুল ইসলাম (শিবির প্যানেল), ক্রীড়া সম্পাদক পদে মাহমুদুল হাসান কিরন (স্বতন্ত্র), সহ-ক্রীড়া সম্পাদক পদে (নারী)- ফারহানা আক্তার লুবনা (শিবির প্যানেল), সহ-ক্রীড়া সম্পাদক পদে (পুরুষ) মো. মাহাদী হাসান (শিবির প্যানেল), তথ্য প্রযুক্তি ও গ্রন্থাগার সম্পাদক পদে মো. রাশেদুল ইসলাম লিখন (শিবির প্যানেল), সমাজসেবা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক পদে আহসাব লাবিব (গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ-বাগছাস), সহ-সমাজসেবা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক পদে (নারী) নিগার সুলতানা (শিবির প্যানেল), সহ-সমাজসেবা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক পদে (পুরুষ) মো. তৌহিদ হাসান (শিবির প্যানেল), স্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক সম্পাদক পদে হুসনী মোবারক (শিবির প্যানেল) এবং পরিবহণ ও যোগাযোগ সম্পাদক পদে মো. তানভীর রহমান (শিবির প্যানেল)।
কার্যকরী সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন, মো. তরিকুল ইসলাম (শিবির প্যানেল), মো. আবু তালহা (শিবির প্যানেল), মো. মহসিন (শিবির প্যানেল), নাবিলা বিনতে হারুণ (শিবির প্যানেল), ফাবলিহা জাহান (শিবির প্যানেল) এবং নুসরাত জাহান ইমা (শিবির প্যানেল)।
এরআগে গত বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে জাকসু নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। চলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। ওইদিন ভোট গণনা শুরু হয় রাত সোয়া ১০টায়। তবে ম্যানুয়ালি (হাতে গোনা) ভোট গণনা করায় ফল প্রকাশে এতো সময় লেগেছে নির্বাচন কমিশনের।
ফলাফল ঘোষণার আগে গতকাল শুক্রবার রাত পৌনে ৯টার দিকে নির্বাচনের কমিশনার অধ্যাপক মাফরুহী সাত্তার পদত্যাগ করেন।
এর আগে বহুল প্রতীক্ষিত এই নির্বাচন বয়কট করেছেন ছাত্রদলসহ চারটি প্যানেল ও স্বতন্ত্র পাঁচ প্রার্থী। নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড না থাকা ও নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে একজন নির্বাচন কমিশনারসহ বিএনপিপন্থি চার শিক্ষক পদত্যাগ করেছেন।
দীর্ঘ ৩৩ বছর পর অনুষ্ঠিত জাকসু নির্বাচনে ছাত্রশিবিরের সমন্বিত শিক্ষার্থী জোট, ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল, গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের শিক্ষার্থী ঐক্য ফোরাম, বামপন্থীদের তিনটি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের দুটি প্যানেলসহ মোট ৮টি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। নির্বাচনে মোট ১৭৮ জন জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
নির্বাচনে কেন্দ্রীয় সংসদের ২৫টি পদের জন্য লড়েন ১৭৮ জন প্রার্থী। এর মধ্যে সহসভাপতি (ভিপি) পদে ৯ জন এবং সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। একইসঙ্গে ২১টি হল সংসদের ৩১৫টি পদের জন্য ৪৭৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালে যাত্রা শুরুর পর ১৯৭২ সালে জাকসু প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে ৫৩ বছরের যাত্রাপথে নির্বাচন হয়েছে মাত্র ৯ বার। সর্বশেষ ১৯৯২ সালের নির্বাচনে ছাত্রদল একচেটিয়া জয় পায়। কিন্তু ১৯৯৩ সালে সিন্ডিকেট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শিক্ষকদের ওপর জাকসুর ছাত্রদের একাংশের হামলার ঘটনায় তৎকালীন উপাচার্য জাকসু ভেঙে দেন। সেই থেকেই বন্ধ ছিল কার্যক্রম।
আরও পড়ুন: জাকসুর ভোট গুনতে গুনতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন পোলিং অফিসার
