, | |

মূলপাতা ক্যাম্পাস রাজনীতি

ফলাফল ঘোষণার আগে জাকসুর নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ


সিনেট হলে সংবাদ সম্মেলনে জাকসুর নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মাফরুহী সাত্তার। ছবি: সংগৃহীত
প্রকাশের সময় :১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ৯:০৩ : অপরাহ্ণ

ফলাফল ঘোষণার আগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের কমিশনার অধ্যাপক মাফরুহী সাত্তার পদত্যাগ করেছেন।

আজ শুক্রবার রাত পৌনে ৯টার দিকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি।

অধ্যাপক মাফরুহী সাত্তার বলেন, ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বলতে আমরা যা বুঝি নির্বাচনে সেটি ছিল না। আমি যাতে পদত্যাগ না করি সেজন্য গতকাল থেকেই আমার ওপর চাপ ছিল, তবু আমি পদত্যাগ করছি। এখন পদত্যাগ না করলে পরে যদি অনিয়মের কথা বলি, তখন তো প্রশ্ন আসবে কেন পদত্যাগ করি নাই।’

অধ্যাপক মোহাম্মদ মাফরুহী সাত্তার ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক ও জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম জাবি শাখার সভাপতি।

জাকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মনিরুজ্জামান বলেন, ‘জাকসু কেন্দ্রীয় সংসদের ভোট গণনায় পোলিং অফিসারের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। আজ রাতের মধ্যেই ফল ঘোষণা করা হবে।’

জানা গেছে, বিকেল ৫টার দিকে জাকসু নির্বাচনের হল সংসদের ভোট গণনা শেষ হয়েছে। এখন চলছে কেন্দ্রীয় সংসদের ভোট গণনা।

এর আগে নির্বাচনে কারচুপি ও অনিয়মের অভিযোগ এনে ভোট বর্জন করেছে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল। বিকেল ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মওলানা ভাসানী হলের অতিথি কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন প্যানেলটির সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদপ্রার্থী তানজিলা হোসাইন বৈশাখী।

একই সঙ্গে বিকেলের দিকে সম্প্রীতির ঐক্য, সংশপ্তক পর্ষদ ও স্বতন্ত্র অঙ্গীকার পরিষদও ভোট বয়কটের ঘোষণা দেয়। ৫ স্বতন্ত্র প্রার্থীও এক পর্যায়ে ভোট বর্জন করে।

নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে দীর্ঘ ৩৩ বছর পর গতকাল বৃহস্পতিবার জাকসু ও হলসংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ নির্বাচনে ছাত্রশিবিরের সমন্বিত শিক্ষার্থী জোট, ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল, গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের শিক্ষার্থী ঐক্য ফোরাম, বামপন্থীদের তিনটি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের দুটি প্যানেলসহ মোট ৮টি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। নির্বাচনে মোট ১৭৮ জন জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।

 

নির্বাচনে কেন্দ্রীয় সংসদের ২৫টি পদের জন্য লড়েন ১৭৮ জন প্রার্থী। এর মধ্যে সহসভাপতি (ভিপি) পদে ৯ জন এবং সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। একইসঙ্গে ২১টি হল সংসদের ৩১৫টি পদের জন্য ৪৭৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালে যাত্রা শুরুর পর ১৯৭২ সালে জাকসু প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে ৫৩ বছরের যাত্রাপথে নির্বাচন হয়েছে মাত্র ৯ বার। সর্বশেষ ১৯৯২ সালের নির্বাচনে ছাত্রদল একচেটিয়া জয় পায়। কিন্তু ১৯৯৩ সালে সিন্ডিকেট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শিক্ষকদের ওপর জাকসুর ছাত্রদের একাংশের হামলার ঘটনায় তৎকালীন উপাচার্য জাকসু ভেঙে দেন। সেই থেকেই বন্ধ ছিল কার্যক্রম।

আরও পড়ুন: জাকসুর ভোট গুনতে গুনতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন পোলিং অফিসার

মন্তব্য করুন
Rajniti Sangbad


আরও খবর